মহেশপুরে নিরাপরাধ ব্যক্তিকে ইয়াবা দিয়ে আটকের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক,মহেশপুর >
ঘরের মধ্যে ইয়াবা রেখে খলিলুর রহমান (৩৩) নামে এক নিরাপরাধ ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন গ্রামবাসী ঝিনাইদহের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের সদস্যদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে  বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মহেশপুর উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নের টাঙ্গাইলপাড়ায়।
প্রতিবেশীরা জানান, বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে টাঙ্গাইলপাড়ার মৃত আইনুদ্দিনের ছেলে খলিলুর রহমান মাঠ থেকে বাড়িতে ভাত খাওয়ার জন্য আসলে সময় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সোর্স পরিচয় দানকারী জলিলপুর গ্রামের রাজীবসহ ঝিনাইদহ মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোসারেফ হোসেন ও কয়েক জন পুলিশ সদস্য তার বাড়িতে গিয়ে ঘর তল্লাশি করতে চায়। এ সময় সোর্স পরিচয় দানকারী রাজীবসহ কয়েক জন খলিলুর রহমানের ঘরে ঢুকে জানালার পাশ থেকে একটি টোপলা বের করে নিয়ে আসে। পরে সেটি এলাকার সাধারণ মানুষের সামনে খুলে দেখান ঘর থেকে বের করে আনা টোপলাতে ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট রয়েছে।
শ্যমকুড় গ্রামের ডিবি ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সোর্স পরিচয়দানকারী ওয়াসিম জানান, আমি ইতিপুর্বে সোর্স হিসাবে কাজ করতাম কিন্তু এখন আর করিনা। তবে খলিলদের আমরা ছোট বেলা থেকেই চিনি। তাদের পরিবারের কেউ মাদকসেবী নয়।
ইউপি সদস্য আব্দুল করিম জানান, এলাকার নিরাপরাধ খলিলুর রহমানের ঘর থেকে ইয়াবা পেয়েছে বলে ঝিনাইদহের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের সদস্যরা তাকে ধরে নিয়ে গেছে। তিনি আরো জানান, খলিলুর রহমান একজন কৃষক। সে পান,বিড়ি কিছুই খায় না। অথচ তার ঘরে ইয়াবা দিয়ে ধরে নিয়ে যাওয়া হলো।
পরে বিকেলে আটক খলিলুর রহমানকে নিয়ে যাওয়া হয় মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল ইসলামের অফিস কক্ষে। সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সাজা দেওয়ার চেষ্টা করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম রাজি না হওয়ায় কারণে তাকে মহেশপুর থানায় সোপর্দ করে একটি মামলা দায়ের করেন।
ঝিনাইদহের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোসারেফ হোসেন জানান,বুধবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খলিলুর রহমানের বাড়িতে যায়। পরে তার ঘর তল্লাশি করে খাটের বালিসের নিচ থেকে ৩০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করি। তিনি আরো বলেন, খলিলুর রহমানের সাথে প্রতিবেশীদের বা বাড়ির কারো সাথে শত্র“তার কারণে ঘরে ইয়াবা দিয়ে রেখেছে কিনা তা আমাদের জানা নেই।