সাইবার হামলার জবাবে পরমাণু বোমা হামলার পরিকল্পনা পেন্টাগনের

স্পন্দন নিউজ ডেস্ক : বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে সাইবার অ্যাটাক বা ইন্টারনেট ব্যবহার করে হামলা চালানো হলে দায়ী ব্যক্তিকে শায়েস্তা করতে পরমাণু বোমা নিক্ষেপ করার পরিকল্পনা করছে পেন্টাগন। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আকারে সাইবার হামলা চালানো হলে পরমাণু বোমা হামলা চালিয়ে তা বন্ধ করার অনুমোদন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে তারা।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের ‘২০১৮ নিউক্লিয়ার পস্টিউর রিভিউ’তে যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু বোমা বিষয়ক কৌশলের একটি খসড়ায় এই প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

ওই খসড়ায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো শত্রু দেশ পরমাণু  হামলার বিকল্প হিসেবে ‘ব্যাপক সাইবার হামলা’ চালিয়ে আমেরিকার নাগরিকদের জানমালসহ সেখানকার বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস করে দিতে পারে। এমন অবস্থায়, আক্রমণকারী দেশের উপর যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু বোমা ফেলতে পারে।

নতুন কৌশলটি সম্পর্কে নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘সাবেক ও বর্তমান সরকারের তিনজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন কোনো আগ্রাসী দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জিনিসে ব্যাপক আকারে সাইবার হামলা চালালে পরমাণু বোমা ফেলাটা যৌক্তিক হবে।’

তবে ওই কর্মকর্তারা মনে করেন পরমাণু হামলা চালানোর পরিবর্তে প্রথাগত বিভিন্ন উপায়ে সাইবার হামলার মোকাবেলা করা যেতে পারে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর নিউক্লিয়ার পস্টিউর রিভিউ বা এনপিআর প্রণয়নের নির্দেশ দেন। বর্তমানে হোয়াইট হাউজ ওই কৌশলপত্রের খসড়াটি পর্যালোচনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট অনুমোদন দিলে এটি চূড়ান্তভাবে কৌশল হিসেবে গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার এনপিআর-এও ‘চরম বিরূপ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র বা তার বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর গুরুত্বপূর্ণ কোন জিনিসকে রক্ষা করার জন্য’ পরমাণু বোমা ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু, ওই ‘চরম বিরূপ পরিস্থিতির’ আওতায় সাইবার হামলাকে প্রথমবারের মতো অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে নতুন কৌশলপত্রের খসড়ায়।