ডুমুরিয়ার গৃহবধু রিংকু আত্মহত্যার দায় চরিত্রহীন শ্বশুরের দিকে

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি>
ডুমুরিয়ায় গৃহবধূ রিংকু রাণীর আত্মহত্যার প্রচারণা জুগিয়েছে শ্বশুরের লাম্পট্ট। রিংকুর পরিবার এমনকি শ্বশুরের নিকটজনরাও এমনটি ইঙ্গিত করছে। এদিকে ঘটনার পর থেকে গা ঢাকা দিয়ে আছে শ্বশুর অমল সরদার। বিষয়টি ধামাচাপা দিতেও একটি মহল তৎপরতা শুরু করেছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্র জানায়, ৭ মাস আগে ডুমুরিয়া উপজেলার পার-মাগুরখালী গ্রামের হতদরিদ্র সুভাষ সরকারের কলেজ পড়–য়া (অনার্স ২য় বর্ষ) মেয়ে রিংকু রানীর (২০) প্রেমের সম্পর্কে মাগুরখালী ইউনিয়নের শুকুরমারী গ্রামের অমল সরদারের ছেলে সুমন সরদারের বিয়ে হয়। সুমনের বাবার পাশের বাড়ি কালিদাসী ও উষার সাথে পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু তা জেনেও প্রেমিকের সাথে ঘর বাঁধার স্বপ্ন নিয়ে রিংকু তার বাবা-মা’র অজান্তে ২০১৬ সালের ২মে যশোরের নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ে এভিডেভিটের মাধ্যমে বিবাহ নিবন্ধন করে।
মেয়ের সুখের কথা ভেবে জামাইকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্রসহ দেড় লক্ষাধিক টাকা দেয় তার পরিবার। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ছিলো তাদের সু-সম্পর্ক। কিন্তু রিংকুর উপর শ্বশুরের কুদৃষ্টি পড়ায় তাদের সংসারে নেমে আসে অমাবশ্যার ঘনঘটা। রিংকুর মা রেখা সরকার বলেন, সুমনের বাবা অমল সরদার একজন নারীলোভী লম্পট। তার বাড়ির পাশে কালিদাসী ও উষার সাথে রয়েছে অনৈতিক সম্পর্ক এসব জেনেও রিংকু সব সামলিয়ে নিয়ে চলতে চেয়েছিল। কিন্তু বিয়ের ৭ মাস যেতে না যেতেই রিংকুর উপর কুদৃষ্টি পড়ে তার শ্বশুরের। রিংকুর কাকিমা যমুনা সরকার বলেন, তার শ্বশুর বৌমার মতো ব্যবহার করতো না। প্রায় সময় রিংকুকে নানাভাবে কু-প্রস্তাব দিতো এবং খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে পাশে বসতে বলতো। এসব ঘটনা স্বামীকে জানালে কোন প্রতিবাদ করতো না। গত ১৮ জানুয়ারি সকালে রিংকুকে একা পেয়ে শ্বশুর অমল সরদার পানি চাওয়ার ভান করে তাকে ঝাঁপটে ধরে। লোকলজ্জার ভয়ে অপমান সহ্য করতে না পেরে ঘরে থাকা কীটনাশক পান করে রিংকু আত্মহত্যা করে। স্বামী সুমনের কাকা শংকর সরদার জানান, সুমন ও বৌমার মধ্যে খুবভাল সম্পর্ক ছিলো কিন্তুভাইয়ের মধ্যে যথেষ্ট ত্রুটি ছিল। ঘটনার দিন আমরা বাড়ী ছিলাম না, শুনেছি বৌমা দানা খেয়ে মারা গেছে।
এদিকে বিষয়টি মিটিয়ে নিতে একটি স্বার্থেন্বেষী মহল মোটা অংকের টাকা নিয়ে জোর তদবির চালিয়ে যাচ্ছে। রিংকুর ভগ্নিপতি সন্দীপ রায় জানান, যেদিন রিংকু মারা যায়, সেদিন ওরা ১লাখ টাকার বিনিময় মিটিয়ে নেয়ার জন্য প্রস্তাব দেয়। কিন্তু আমরা সঠিক বিচার চাই। রিংকু মারা যাওয়ার ৪/৫ ঘন্টা পর আমাদেরকে জানায়। এ প্রসঙ্গে মাগুরখালী ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই রনজিত কুমার জানান, রিংকুর আত্মহত্যার ঘটনায় ডুমুরিয়া থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। লাশের ময়না তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।