যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রোগীর অস্ত্রোপচারে শিক্ষানবিশ

বিল্লাল হোসেন>
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রোগীর চিকিৎসা শিক্ষানবিশ (ইন্টার্ন) চিকিৎসক নির্ভর হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকা সত্ত্বেও ইন্টার্নরা নিয়মবর্হিভূতভাবে রোগীর বিভিন্ন ধরণের অস্ত্রোপচার করছেন। তাদের ভুল চিকিৎসায় রোগীর জীবন সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অনুপস্থিতিতে শিক্ষানবিশদের এ ধরনের কর্মকান্ডে বর্তমানে সরকারি এ হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার দিকে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয় ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার মিঠাপুকুর এলাকার শেখ আমিন উদ্দিন মাস্টারের ১১ বছরের মেয়ে শেফা খাতুন। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে অস্ত্রোপচার কক্ষে নেয়া হয়। সেখানে ওই শিশুর অস্ত্রোপচার করেন ৩ জন শিক্ষানবিশ। এরমধ্যে দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন তামান্না আক্তার ও সিং মং। অপরজনের নাম চেষ্টা করেও জানা যায়নি। ওই শিশুর যখন অস্ত্রোপচার চলছিলো তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন না কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। রীতিমতো ঝুঁকিপূর্ণ এ কাজটি করছিলেন শিক্ষানবিশরা। অথচ রোগী শেফার ভর্তি হওয়া সার্জারি বিভাগের ইউনিট-২ এর অধীনে কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আছেন। তারা হলেন সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা.শেখ ছাইদুল হক, সহযোগী অধ্যাপক ডা.অজয় কুমার সরকার, জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা.ফারহানা ইয়াসমিন, সহকারী রেজিস্ট্রার ডা.ওয়াহিদুজ্জামান আজাদ ও ডা.পথিক বিশ্বাস। এদের মধ্যে কেউ রোগীর অস্ত্রোপচারের সময় ছিলেন না।
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা.হিমাদ্রী শেখর দৈনিক স্পন্দনকে জানিয়েছেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকরা নিজেরা রোগীর ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচারে অংশ নেয়ার কোন সুযোগ নেই। যদি কেউ রোগীর অস্ত্রোপচার করে থাকেন সেটা অবশ্যই অনিয়ম।
যশোরের সিভিল সার্জন ডা. দিলীপ কুমার রায় বলেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের উপস্থিতিতে শিক্ষা গ্রহণের জন্য ইন্টার্নরা ছোট খাটো অস্ত্রোপচারে অংশ নিতে পারেন। তবে সে ক্ষেত্রে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের অনুমতি থাকতে হবে। নিয়মানুযায়ী তারা নিজেরা রোগীর অস্ত্রোপচার করতে পারবেন না।
এদিকে যশোর উপশহর এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহিম শিপলু দৈনিক স্পন্দনকে জানান, রোববার রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে তার বড় ভাই ফজলুল হককে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হয়। রাতেই তার ইসিজি করানো হয়। এসময় এক ইন্টার্ন চিকিৎসক রোগীর চিকিৎসা দেন। পরের দিন সকালে বিশেষজ্ঞ এক চিকিৎসক ওয়ার্ডে এসে রোগীর ইসিজি রিপোর্ট দেখে বলেন ভুল চিকিৎসা করার কারণে রোগীর জীবন সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে। এখন এ হাসপাতালে চিকিৎসা সম্ভব নয়। তিনি রেফার্ড করার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ফজলুল হককে ঢাকায় নেয়া হয়েছে। শিপলুর অভিযোগ ইন্টার্নের ভুল চিকিৎসার কারণে তার ভাই এখন মৃত্যু শয্যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু শেফা ও ফজলুল হক না প্রায় প্রতিদিন শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা কোন না কোন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড করে চলেছেন। তারা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতামত ছাড়াই রোগীর অস্ত্রোপচার, ব্যবস্থাপত্র, প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা নিরীক্ষাসহ অন্যত্র রেফার্ড করছেন। তাদের কারনে সরকারি এ হাসপাতালের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। সঠিকভাবে তদারকি ব্যবস্থা ও জবাবদিহিতা না থাকায় এ ধরণের ভয়াবহ অনিয়মের সৃষ্টি হচ্ছে।