প্রশ্নফাঁসে পরীক্ষা বাতিল হবে কি না, সিদ্ধান্তে কমিটি

স্পন্দন নিউজ ডেস্ক :  ফেসবুকসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় যেসব পোস্ট ও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিটি পরীক্ষার ক্ষেত্রে পর্যালোচনা করে সুপারিশ করার জন্য একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি পরীক্ষা মনিটরিংয়ে কাজ করবে।

এছাড়াও চলমান পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে কি না এবং ওই বিষয়গুলোর পরীক্ষা বাতিল হবে কি না, সে বিষয়ে তদন্ত করে সুপারিশ করবে এই কমিটি।

রোববার সচিবালয়ে বিকেলে চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু, নকলমুক্ত ও ইতিবাচকভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় মনিটরিং ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির এক জরুরি সভা শেষে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীরের নেতৃত্বে  বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ১১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে সুপারিশ পেশ করবে।

তিনি জানান, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে পূর্বের সিদ্ধান্তসমূহ কার্যকর থাকবে। এছাড়া প্রশ্ন ফাঁস চক্রের সাথে জড়িত প্রকৃত অপরাধীকে চিহ্নিত বা ধরিয়ে দিতে পারলে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার দেয়া হবে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, ভিজিল্যান্স টিম আরো জোরদার করা হবে। পরীক্ষা শুরুর আধা ঘণ্টা আগে প্রশ্নের মোড়ক খোলার সময় স্থানীয় প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা, একজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং কেন্দ্র সচিবের যৌথ স্বাক্ষরে খোলা হবে। পরীক্ষা  কেন্দ্রে কোনো মোবাইল বা অন্য কোনো ডিভাইস নিয়ে কোনো শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা বা কর্মচারী প্রবেশ করলে তাকে তাৎক্ষণিক গ্রেফতার করা হবে। সকল শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা শুরুর আধা ঘণ্টা আগে অবশ্যই তাদের নিজ নিজ আসনে বসতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যারা প্রশ্ন ফাঁস বা ফাঁসের গুজব ছড়াচ্ছে, কার্যক্রম দেখে একথা প্রতীয়মান হয়, তাদের  লক্ষ্য সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে হেয়প্রতিপন্ন করা। এজন্যই পরিকল্পিতভাবে এ কাজ করা হচ্ছে। এর সাথে জড়িত প্রত্যেকে ধরা পড়বে। তাদেরকে কঠোর শাস্তি ভোগ করতে হবে।

সভায় কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কেবিনেট ডিভিশন, বিটিআরসি ও পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।