যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসক কর্মচারিরা এখনো বেতনভাতা পাননি

বিল্লাল হোসেন>
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের পদ নিয়ে জটিলতা কাটছেনা। যে কারনে হাসপাতালের ৫০ জন ইন্টার্ণ ডাক্তার, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেনীর ১শ’৭ জন কর্মচারি এবং অবসরে যাওয়া ১৫ জন কর্মচারি ডিসেম্বর মাস থেকে বেতন ভাতা পাচ্ছেন না। ফলে তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন বলে জানিয়েছেন। এ পরিস্থিতির মধ্যে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুর রহিম মোড়ল আয় ব্যয় ক্ষমতাপ্রাপ্ত (ডিডিও শিপ) কাউকে পদায়নের দাবি জানিয়ে গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত আবেদন পাঠিয়েছেন। যার স্মারক নং-২৫০ শয্যা বিঃ জেঃ হাঃ যশোর/শা/০৬/১৮/৩৭৬।
হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে,২০১৭ সালের ৪ মার্চ চাকরির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় অবসরে যান যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ শ্যামল কৃষ্ণ সাহা। ৬ মার্চ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডাঃ একেএম কামরুল ইসলাম বেনুকে এ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক পদে সংযুক্তি হিসেবে দায়িত্ব পালনের আদেশ দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। ১৮ মার্চ তিনি যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক পদে যোগদান করেন। ১৩ এপ্রিল তার তত্ত্বাবধায়কের সংযুক্তি আদেশ বাতিল করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়। যার স্মারক নম্বর ৪৫.১৪৩.০১৯.০৩.০০.০০১.২০১৬-২৩১। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ পার-২ অধিশাখার যুগ্মসচিব একেএম ফজলুল হক স্বাক্ষরিত আদেশপত্রে ডাঃ একেএম কামরুল ইসলাম বেনুকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ওএসডি) হিসেবে যোগদান করতে বলা হয়। আদেশের ৮ মাস পর ৩০ জানুয়ারি ডা. একেএম কামরুল ইসলাম বেনু স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে উপ-পরিচালক পদে ফিরে যান। ওই দিন তিনি সার্জারি বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. আব্দুর রহিম মোড়লকে ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়কের পদে দায়িত্ব দিয়ে যান। সূত্র জানায়, তত্ত্বাবধায়কের সংযুক্তি পদ বাতিল হওয়ার ঘটনা জানতে পারায় ডাঃ একেএম কামরুল ইসলাম বেনুর স্বাক্ষরে বেতন ভাতার টাকা দিতে নারাজ হন জেলা হিসাব রক্ষক অফিসার জাকির হোসেন। তিনি আপত্তি প্রকাশ করে ডিসেম্বর মাসের বেতন ফাইলটি ফেরত দেন। এর আগে নভেম্বর মাসেও শ্রান্তি বিনোদন ভাতার টাকা পাননি ইন্টার্ণ ডাক্তার ও কর্মচারিরা। হাসপাতালের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুর রহিম মোড়লের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এখনো আয় ব্যয়ের (ডিডিও শিপ) ক্ষমতা প্রদান না করায় জানুয়ারি মাসেরও বেতন পাননি। যশোর জেলা হিসাব রক্ষক অফিসার জাকির হোসেন দৈনিক স্পন্দনকে জানিয়েছেন, গত বছরের এপ্রিল মাসে ডাঃ একেএম কামরুল ইসলাম বেনুর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক পদের সংযুক্তি আদেশ বাতিল করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। সেই থেকে এ পদে কাউকে পদায়ন করেননি কর্তৃপক্ষ। শুনেছি স্থানীয় নির্দেশের পেক্ষিতে ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালন করছেন ডা. আব্দুর রহিম মোড়ল। কিন্তু মন্ত্রনালয় তাকে এখনো ডিডিও শিপ দেননি।
জাকির হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয় ডিডিও শিপ প্রদানকৃত কর্মকর্তাকে এখানে পদায়ন না করা পর্যন্ত তিনি বেতন ভাতা প্রদান করবেন না। তত্ত্বাবধায়কের পদ নিয়ে জটিলতার কারনে ইন্টার্ন ডাক্তার ও কর্মচারিরা রীতিমতো হতাশ হয়ে পড়েছেন। কেননা দুই মাস বেতন না পেয়ে অনেকেই মানবেতর জীবন যাপন করছেন বলে জানিয়েছেন। ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়কের পদে থাকা সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আব্দুর রহিম মোড়ল দৈনিক স্পন্দনকে জানান, অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। মন্ত্রনালয় যদি সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী আয় ব্যয় ক্ষমতা প্রাপ্ত (ডিডিও শিপ) কোন কর্মকর্তাকে এ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হিসবে পদায়ন করেন তাহলে ইন্টার্ণ ডাক্তার ও কর্মকর্তা কর্মচারিদের বেতন ভাতা পাওয়ার ব্যাপারে আর কোন জটিলতা থাকবেনা। বিষয়টি বিবেচনার জন্য তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত আবেদন পাঠিয়েছেন। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক ডা.রওশন আনোয়ার দৈনিক স্পন্দনকে জানান, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়কের পদ নিয়ে সৃষ্টি হওয়া জটিলতার দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। কেননা বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে জোরালোভাবে যোগাযোগ করা হচ্ছে।