গুরুত্বপূর্ণ সব পদ শূন্য> যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল চলছে কিভাবে ?

বিল্লাল হোসেন>
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক, আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও), ওয়ার্ড মাস্টার (রাজস্ব), প্রধান সহকারি ও ক্যাশিয়ারসহ প্রশাসনিক বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ অনেক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। স্থানীয় আদেশের বুনিয়াদে অন্য পদের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা গুরুত্বপুর্ণ এসব চেয়ার আঁকড়ে রেখেছেন। এক ব্যক্তির একাধিক দায়িত্ব পালনে হ-য-ব-র-ল অবস্থা তেরি হচ্ছে।
২০১৭ সালের ৪ মার্চ চাকরির মেয়াদপূর্ণ হওয়ায় অবসরে যান যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ সাহা। এদিন ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মোসলেম উদ্দিন। ৬ মার্চ স্বাস্হ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডা. একেএম কামরুল ইসলাম বেনুকে এ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক পদে সংযুক্তি হিসেবে দায়িত্ব পালনের আদেশ দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। ১৮ মার্চ তিনি যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক পদে যোগদান করেন। ১৩ এপ্রিল তার তত্ত্বাবধায়কের সংযুক্তি আদেশ বাতিল করে স্বাস্হ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়। যার স্মারক নম্বর ৪৫.১৪৩.০১৯.০৩.০০.০০১.২০১৬-২৩১। স্বাস্হ্যসেবা বিভাগ পার-২ অধিশাখার যুগ্নসচিব একেএম ফজলুল হক স্বাক্ষরিত আদেশপত্রে ডাঃ একেএম কামরুল ইসলাম বেনুকে স্বাস্হ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ওএসডি) হিসেবে যোগদান করতে বলা হয়। এ আদেশের বিরুদ্ধে হাসপাতালের চিকিৎসক সেবিকা কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা ডা.একেএম কামরুল ইসলাম বেনুকে তত্ত্বাবধায়ক পদে বহাল রাখার দাবিতে বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেন। মন্ত্রনালয় ওই আদেশ বাতিল করেননি। ফলে আদেশের ৮ মাস পর ৩০ জানুয়ারি ডা. একেএম কামরুল ইসলাম বেনু স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে উপ-পরিচালক পদে ফিরে যান। ওই দিন তিনি সার্জারি বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. আব্দুর রহিম মোড়লকে ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়কের পদে দায়িত্ব দিয়ে যান। এর আগে ২০১৬ সালের ৩ আগষ্ট চাকরি থেকে অবসরে যান হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা.শামসুল হাসান দোদুল। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও উন্নয়ন) চক্ষু বিভাগের ডা.আলমগীর কবির সহকারি অধ্যাপকের পদোন্নতি নিয়ে যশোর মেডিকেল কলেজে যোগদান করেন। ফলে আবাসিক মেডিকেল অফিসারের দুটি পদ শূন্য হয়ে যায়। সেপ্টেম্বর মাসে হাসপাতালের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ডা.শ্যামল কৃষ্ণ সাহার অর্ডারে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও,রাজস্ব) পদে দায়িত্ব পান অজ্ঞান বিভাগের চিকিৎসক ডা. ওয়াহিদুজ্জামান ডিটু। ২০১৭ সালের ১৫ নভেম্বর কর্মজীবন থেকে অবসরে যান ওয়ার্ড মাস্টার (রাজস্ব) মোস্তাফিজুর রহমান। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ডা.একেএম কামরুল ইসলাম বেনুর তাৎক্ষনিক নির্দেশনায় তার স্হলভিত্তিক দায়িত্ব পালন করছেন টেলিফোন অপারেটর (উন্নয়ন) হাসানুর রহমান আসলাম। ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে প্রধান সহকারি পারভিন আক্তার বদলি হয়ে যান যশোর জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে। তার পদে দায়িত্ব পালন করছেন অফিস সহকারি আসগর আলী। এদিকে দীর্ঘ বছর ফাঁকা থাকার পর ২০১০ সালে এ হাসপাতালে ক্যাশিয়ার পদে আসাদুজ্জামান নামে একজন যোগদান করেন। যোগদানের বছরই তিনি যশোর মেডিকেল কলেজে বদলী হয়ে যান। ফলে ক্যাশিয়ার পদটি আবারো ফাঁকা হয়ে যায়। হাসপাতালের হিসাব রক্ষক রুহুল আলম জানিয়েছেন সেই থেকে তিনি ক্যাশিয়ারের বাড়তি দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য থাকলেও সেদিকে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোন খেয়াল নেই। হাসপাতালে ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালনকারি ডা. আব্দুর রহিম মোড়লকে স্বাস্হ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয় এখনো আয়-ব্যয় পরিচালনার ক্ষমতা না দেয়ায় ৫০ জন ইন্টার্ণ ডাক্তার, তৃতীয় ও চতুর্থ শে্িরনর ১শ৭ জন কর্মচারি এবং অবসরে যাওয়া ১৫ জন কর্মচারি বেতন ভাতা পাচ্ছেন না। এছাড়া প্রশাসনিক বিভিন্ন কাজে মারাতœক জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে বলে কর্মকর্তা কর্মচারিরা জানিয়েছেন।
গুরুত্বপূর্ণ এসব পদগুলো পূরণ না হওয়ায় একপ্রকার অভিভাবকহীনভাবে সরকারি এ হাসপাতালের কর্মকান্ড পরিচালনা হচ্ছে। সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা হয় স্বাস্হ্য অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক ডা.রওশন আনোয়ারের সাথে। তিনি দৈনিক স্পন্দনকে জানান, ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্বে থাকা ডা.আব্দুর রহিম মোড়লের ডিডিও শিপের ব্যাপারে স্বাস্হ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ে জোরালোভাবে যোগাযোগ চলছে। আবাসিক মেডিকেল অফিসারের (রাজস্ব) পদে দ্রুত একজনকে পাঠানো হবে। আর নতুন কেউ নিয়োগ না পেলে আরএমও (উন্নয়ন) ওয়ার্ড মাস্টার (রাজস্ব) প্রধান সহকারি ও ক্যাশিয়ার পদ পূরণ করা যেন কষ্টদায়ক। তবে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের দুরাবস্থার ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই অবগত করা হবে।