বসন্তবরণ নগরে

স্পন্দন ডেস্ক>
মাঘের বিদায়ে একেবারে চলে যায়নি শীত। সেই আবেশে দখিনা বাতাসের মৃদুমন্দ ছোয়ায় কাল ঋতুরাজ বসন্তকে বরণ করে নিয়েছে বাঙালি। বরণের উৎসব আয়োজনে মুখরিত ছিল নগর। বাসন্তি সাজে সেই উৎসবে শামিল হয় নানা বয়সের মানুষ।
বিস্তারিত প্রতিবেদন-
যশোর : নানা আয়োজনে ঋতুরাজ বসন্তকে বরণ করলো যশোরের চার সাংস্কৃতিক সংগঠন। শীতের জীর্ণতা সরিয়ে ফেলে ফুলে ফুলে সেজে ওঠা প্রকৃতির সাথে সংস্কৃতিমনা মানুষগুলোও বাসন্তি রঙে সেজে মেতে ওঠেন উৎসবে। বসন্তবরণ উপলক্ষে সকাল থেকেই সাংস্কৃতিক সংগঠনের ছিল নানান আয়োজন।
সকালে পৌরপার্কে বসন্তবরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করে ভৈরব সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন। ‘বসন্ত এসেছে ফাগুন লেগেছে বনে বনে’ গানের মধ্যদিয়ে এ সংগঠনটির অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর গান ও নৃত্যের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানে আসা অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোরের জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি সেলিম হোসেন। এরপর গানে ও নাচে মেতে ওঠে আগতরা। একই স্থানে বিকেলে বসন্তবরণ উৎসবের আয়োজন করে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী যশোর জেলা সংসদ।
সমবেত সংগীতের মাধ্যমে বসন্তের ফুল জাগলো পরিবেশনের মধ্যদিয়ে শুরু হয় বসন্তবরণ অনুষ্ঠান। এরপর ‘প্রজাপতি প্রজাপতি কোথায় পেলি এমন রঙিন পাখা’ সংগীতের সাথে নৃত্য পরিবেশন করে শিশুরা, ‘বসন্ত এসে গেছে’ গানে সমবেত নৃত্য, ‘ফুলে ফুলে সমবেত সংগীত পরিবেশন করে শিশুরা।
এরপর অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যশোরের পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর উপদেষ্টা অ্যাড. কাজী আব্দুস শহীদ লাল, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল আলম খান। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহবুবুর রহমান মজনু। বিকেল ৫টায় ‘ওরে গৃহবাসী খোল দ্বার খোল’ সমবেত সংগীতের মধ্যদিয়ে টাউনহল মাঠের রওশন আলী মঞ্চে অনুষ্ঠান শরু করে পুনশ্চ যশোর। এরপর দ্বৈত কণ্ঠে রবীন্দ্র সংগীত, বাউল গান, একক কণ্ঠে রবীন্দ্র সংগীত, নজরুল সংগীত, আঞ্চলিক গান, সমবেত নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তির মধ্যদিয়ে বসন্তবরণ উদযাপন করা হয়। সন্ধ্যায় যশোর জেলা পরিষদ চত্বরে বসন্তবরণ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে চাঁদের হাট যশোর। অনুষ্ঠান শুরুতেই সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল, সংগঠনের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলম। এরপর ‘ফাগুনে হাওয়ায় হাওয়ায়’ সমবেত সংগীত, ‘আমার ঘুম ভাঙ্গাইয়া গেলরে মরার কোকিলে’, ‘চলে যায়, মরি হায় বসন্তেরি দিন চলে যায়’ সহ বিভিন্ন সংগীত ও প্রজাপতি প্রজাপতিসহ বিভিন্ন গানে নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তির মধ্যদিয়ে বসন্তবরণে মেতে ওঠে সবাই।
ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহে বসন্তকে বরণে বিভিন্ন স্কুল-কলজে ও সাংস্কৃতিক সংগঠন কর্মসূচি পালন করে। সকালে শহরের মর্ডান মোড় থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করে এইড। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে একই স্থানে শেষ হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও দিনব্যাপী পিঠা উৎসবের আয়োজন করে মনিংবেল চিল্ড্রেন একাডেমী। এতে নানা রঙের পোশাকে বিভিন্ন ভাবে সেজে সব বয়সের মানুষ বসন্ত উৎসবে অংশ নেয়।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ডিসিপ্লিন পরিবারের উদ্যোগে উৎসবমুখর পরিবেশে বসন্তবরণ হয়। সকাল সাড়ে সাতটায় কবি জীবনানন্দ দাশ একাডেমিক ভবনের সামনে থেকে বসন্তকে স্বাগত জানিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শুরু হয়। কলা ও মানবিক স্কুলের ডিন, বাংলা ডিসিপ্লিন প্রধান, ডিসিপ্লিনের শিক্ষক ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রটি কাজী নজরুল ইসলাম কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে দিয়ে কটকা স্মৃতিস্তম্ভ হয়ে অদম্য বাংলার সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে হাজার বছরের বাংলা কবিতা ও গান শীর্ষক দিনের প্রথমপর্বের অনুষ্ঠানমালা শুরু হয়। প্রারম্ভে বসন্তকে স্বাগত জানিয়ে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্রধান অতিথি উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান, বিশেষ অতিথি কলা ও মানবিক স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. সাবিহা হক। সভাপতির বক্তব্য রাখেন বাংলা ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর ড. শেখ মোঃ রজিকুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আয়োজক কমিটির আহবায়ক সহকারি অধ্যাপক মৌমিতা রায়। পরে বাংলা ডিসিপ্লিন প্রধানের সঞ্চালনায় হাজার বছরের বাংলা কবিতা ও গান পর্বের সূচনা করা হয়। এখানে চর্যাপদ থেকে শুরু করে মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের বাংলা ভাষার বিকাশ ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য কবিতা, গান ও নৃত্যের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়। এসময় বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ও সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিনের খ-কালীন শিক্ষক প্রফেসর ড. সাধন রঞ্জন ঘোষের সক্রিয় অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ছিলো বিকেলে বিকেল ৪ টায় সাংস্কৃতিক ও মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক মানুষ মঞ্চায়ন।
নর্দান ইউনিভার্সিটি
নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বিজনেজ এন্ড টেকনোলজী খুলনা কালচারাল ক্লাব এর উদ্যোগে সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটরিয়ামে বসন্ত বরণ উৎসব হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা দিনব্যাপী নাচ-গান, কবিতা আবৃতি, নাটকসহ বিভিন্ন সাং¯কৃতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে ঋতুরাজ বসন্তের আগমনকে স¦াগত জানায়।
প্রধান অতিথি থেকে উৎসবের উদ্বোধন করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপি¬ন এর অধ্যাপক ও এন ইউ বি টি খুলনার অ্যাডভাইজার প্রফেসর ডঃ এ.টি.এম জহিরউদ্দীন, উপস্থিত ছিলেন এনইউবিটিকের রেজিষ্ট্রার ইনচাজ এ.এইচ.এম মানজুর মোরশেদ, ব্যবসা প্রশাসন বিভাগের প্রধান এস এম মনিরুল ইসলাম, কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিয়ারিং বিভাগের প্রধান রবিউল ইসলাম ও আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাজীব হাসনাত শাকিল।