বাসন্তী আবরণে ভালবাসার দিন আজ

বিল্লাল হোসেন>
হৃদয়ে ফাল্গুনের আবির-উচ্ছ্বাস কাটেনি। একদিন পরই আরেক সুখের লগন। ভালবাসায় সিক্ত হওয়ার দিন। ঋতুরাজ বসন্তের দ্বিতীয় দিনে ভালবাসা দিবসে বাঙালি মনের ভালবাসাও হবে পবিত্র। ফুলে রাঙা আর বাসন্তী মোহে মুগ্ধ। এ জন্যই বোধ হয় কবিতায় বলা হয়, ‘হৃদয়ে লিখেছিনু তোমায়,বসন্তে তুমি আরও স্নিগ্ধ, আহা আরও উচ্ছ্বল তুমি-ভালবাসা’। বসন্তের আগুনরাঙা শিমুল-পলাশ ভালবাসাকে সত্যিই রাঙিয়ে দেবে। যুগলদের মনের উচ্ছ্বাসকে বাড়িয়ে দেবে সহ¯্র গুণ। সুললিত করবে প্রেমের বাণী বন্দনাগুলোকে। গাছ থেকে ফুল ঝরার মতো যুগলদের মনের কোণে ঝরবে কথকতা। কত গান। প্রেমের কত কবিতা।
প্রতিদিনের মতই প্রাচীন সূর্য আজ প্রভাতেও দশদিগন্তে আলোর নাচন তুলে চোখ মেলবে । তবে দখিন হাওয়া আজ হৃদয়বনে ছড়িয়ে দেবে উত্তাল-চঞ্চল গুঞ্জরণ।
আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। ‘সেন্ট ভ্যালেন্টাইন ডে “। হৃদয়ের গহীনের ভালোবাসা প্রকাশের দিন আজ। মনের যত বাসনা,অব্যক্ত কথা তার ডালপালা-পত্র-পল্লব মেলে ছড়িয়ে পড়বে বসন্তের মধুর হাওয়ায়।
প্রাণে প্রাণে লাগবে দোলা, মুখ রেখে দখিনা বাতাসে, চুপি চুপি বলার দিন সখী, ভালোবাসি তারে’..। তারাপুঞ্জের মত ফুটবে আকুতি ঝরবে -তুমি কি দেবে না সাড়া প্রিুয়া বলে যদি ডাকি? হেসে কি কবে না কথা হাত যদি হাতে রাখি। কবির ভাষায় একে অন্যকে বলবে- ‘তোমাকে ভালবাসি আমি। ভালবেসে সখী নিভৃত যতনে আমার নামটি লিখো তোমার মনের মন্দিরে।’
আজ বর্ণাঢ্য আনুষ্ঠানিকতা আর ভালোবাসার উৎসবে মুখর হবে জনপদ। প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের গবেষকদের অনেকে বলে থাকেন, ফেব্রুয়ারির এই সময়ে পাখিরা তাদের জুটি খুঁজে বাসা বাঁধে । নিরাভরণ বৃক্ষে কচি কিশলয় জেগে ওঠে। তীব্র সৌরভ ছড়িয়ে ফুল সৌন্দর্যবিভায় লাজুক আর ঢলঢলে হতে থাকে। বঙ্গীয় সংস্কৃতিতে বসন্ত উৎসব সেই অনাদিকাল থেকেই যাপিত হচ্ছে। সনাতন ধর্মআচারিরা দোল যাত্রা, বাসন্তি পূজা, হোলি উৎসবে প্রণয়কে মুখ্য করে রেখেছিল। প্রচারণা দাক্ষিণ্যে আমাদের বসন্ত উৎসবকে পাশ্চাত্য ভ্যালেন্টাইন ডে’র মোড়কে অধিকার করে নিয়েছে। পশ্চিমা দুনিয়ার ফোরটিন্থ ফেব্রুয়ারীর এই প্রেম উৎসব তারুণ্যের ভেতর এক অদেখা ভুবনের উত্তেজনা ছড়ায়।
প্রাচীন দুটি রোমান প্রথা থেকেই দিবসটির সূত্রপাত। এক পাদ্রি ও চিকিৎসক ফাদার সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের নামানুসারে দিনটির নামকরণ হয়েছে ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে’। যুদ্ধে আহত সৈনিকদের চিকিৎসার অপরাধে রোমান স¤্রাট গথিকাস ২৭০ খৃস্টাব্দে ১৪ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুদন্ড দেন সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনকে। মৃত্যুর আগে ফাদার ভ্যালেন্টাইন তার আদরের একমাত্র মেয়েকে একটি ছোট্ট চিঠি লিখে রেখে যান। চিঠির ওপর লেখেন ‘ফ্রম ইওর ভ্যালেন্টাইন’। সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনের মেয়ে এবং তার প্রেমিক মিলে পরের বছর থেকে বাবার মৃত্যুর দিনটিকে ভ্যালেন্টাইন ডে হিসেবে পালন করা শুরু করেন। অপর গল্পটি হলো-রোমের চিকিৎসক তরুণ যাজক সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের চিকিৎসায় দৃষ্টি ফিরে পেয়েছিল নগর জেলারের দুহিতা। সেই থেকে জন্ম নিয়েছিল তাদের ভালবাসার অমরগাঁথা। ভালবাসার অপরাধে তাকে ফাঁসিতে ঝুলতে হয় ফেব্রুয়ারির এই ১৪ তারিখে। অতঃপর এই ভালবাসাকে স্বীকৃতি পেতে দুই শতাব্দী নীরবে-নিভৃতে পালন করতে হয়েছে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে। ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দে রোমের রাজা পপ জেলুসিয়াস এই দিনটিকে ভ্যালেন্টাইন দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। গ্রিক ও রোমান উপকথার মতই ভালবাসা দিবসের উৎপত্তি নিয়ে আরো গল্প-কাহিনী ছড়িয়ে আছে ।
একদিকে ঋতুরাজ বসন্তের আগমন অপরদিকে আজ এসেছে ভালোবাসা দিবসের ছোঁয়া। ফুল দোকানে থরে থরে সাজানো মল্লিকা, জুঁই, গাঁদা উঠে আসবে ললনাদের খোঁপায়। ১৪ ফেব্রুয়ারি কেবল যে তরুণদের তা নয়, এদিনে পিতা-মাতা-সন্তানের ভালবাসাও দিবসকে বড়মাত্রায় উদ্ভাসিত করে। অনেকে বলে থাকেন, ‘প্রেমের দিন থাকে না, ভালবাসলেই ভ্যালেন্টাইন, সেলিব্রেট করলেই ভালেন্টাইনস ডে’। দিনটিকে ঘিরে বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।