‘ভালবাসাবাসিতে কেটে গেল দিন’

বিল্লাল হোসেন >
‘মনেতে আকাশ হয়ে রয়েছো ছড়িয়ে, বলনা কোথায় রাখি তোমায় লুকিয়ে, থাকি যে বিভোর হয়ে শয়নে স্বপনে,যেওনা হৃদয় থেকে দূরে হারিয়ে, আমি যে শুধুই ভালবাসি তোমাকে’ ১৪ ফেব্রুয়ারি ছিলো বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। ‘সেন্ট ভ্যালেন্টাইন ডে’। হৃদয়ের গহীনের ভালোবাসা প্রকাশের এই দিনটিকে ঘিরে অন্যরকম সময় পার করলো প্রেমপিয়াসীরা। ভালোবাসা বাসিতেই তাদের দিন পার হয়ে গেলো। ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে যশোরের বিনোদন কেন্দ্রলোতে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কারো হাতে লাল গোলাপ, কেউ চুলের খোঁপায় ফুল গুঁজে, আবার কেউ মাথায় ফুলের বেড়ি পরে এসেছেন প্রিয়জনের সাথে ভালোবাসা বিনিময় করতে। অধিকাংশ তরুণ-তরুণীর পরনে ছিলো চোখ ধাঁধানো পোশাক। তাদের সরব উপস্থিতে বিনোদন কেন্দ্রগুলো ছিলো মুখরিত। তবে এ ভালোবাসা কেবল তরুণ-তরুণীর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলো না। বাবা-মার প্রতি সন্তানের, স্ত্রীর প্রতি স্বামীর আবার মানুষের প্রতি মানুষেরও ভালোবাসার বহুমাত্রিক রুপ প্রকাশ পায়। বিশেষ দিনটিকেই বেছে নিয়েই প্রেমপ্রিয়াসীরা মনের বাসনা ও অব্যক্ত কথা প্রকাশ করার জন্য ছুটে আসেন বিনোদন কেন্দ্রে। তারা পাশাপাশি বসে নানা খুঁনসুটি হাসি আনন্দ ও বসন্তের মৃদু হাওয়ায় অন্তরের অন্তঃস্থলে জমিয়ে রাখা কথাগুলো প্রকাশ করেছে।
যশোর পৌরপার্ক, কালেক্টরেট পার্ক, বিনোদিয়া পার্ক, বোটক্লাব, জেস গার্ডেনসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে,তরুণ তরুণীদের উপচে পড়া ভিড়। ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে আয়োজন করা হয় ব্যতিক্রম উৎসব। তরুণ -তরুণীদের পাশাপাশি বিনোদন কেন্দ্রে স্বপরিবারেও অনেকে বেড়াতে আসেন। বেলা বাড়ার সাথে বাড়তে থাকে বিনোদনপ্রেমীদের সংখ্যাও। কেউ কেউ প্রিয়জনের হাতে বিভিন্ন প্রকারের ফুল দিয়ে হৃদয় থেকে ভালোবাসা প্রকাশ করছেন। বেশি বেশি ফুল বিক্রি হওয়ায় ভ্রাম্যমান ফুল বিক্রেতারাও যেন মহাখুঁশি।
এদিকে মোবাইলফোনের মেসেজ, ই-মেইল অথবা অনলাইনের চ্যাটিংয়ে পুঞ্জ পুঞ্জ ভালোবাসার কথা পরিস্ফুটিতে মেতেছিলেন অনেকেই। কেক, চকোলেট, পারফিউম, কার্ড, প্রিয় পোশাক অথবা বই উপহার দিচ্ছেন প্রিয়জনকে।
পৌরপার্কে বেড়াতে আসা এক জোড়া তরুণ-তরুণী দৈনিক স্পন্দনকে জানান, বিশেষ এই দিনটির জন্য কয়েকমাস ধরে অপেক্ষা করেছি দুজনে। পাশাপাশি বসে মনের অনুভুতি প্রকাশ করতে পেরে মহাখুশি।
আবু মাসুদ নামে একজন জানান, স্ত্রী সন্তানের সাথে ভালোবাসা ভাগাভাগি করার জন্য বিশেষ এই দিনে পরিবারের সাথে ঘুরতে বের হয়েছি। দুপুরের পর পরই বিনোদন কেন্দ্রগুলো প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। প্রিয় মানুষকে নিয়ে রেস্টুরেন্টে খেয়ে অনেকেই রিকশায় চেপে ঘুরে বেড়িয়েছেন। বিকেল থেকে আবারো বিনোদন কেন্দ্রগুলো মুখরিত হয়ে ওঠে। সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে ভালোবাসা বিনিময়।
এদিকে মা তোমার কোলে জন্ম নিয়ে ধন্য হলো আমার প্রাণ, তোমার নামে রক্ত দিলাম বাঁচাবে তাতে একটি প্রাণ, এই প্রত্যয়ে বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয় যশোরে। যশোর পৌর উদ্যানে দিনব্যাপি এ অনুষ্ঠানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলো স্বেচ্ছায় রক্তদান উৎসব, আলোচনা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী । উৎসবের আয়োজন করে যশোরের আহাদ রেড ক্রিসেন্ট রক্ত কেন্দ্র, থ্যালাসেমিয়া সমিতি, যশোর উৎসব কম্পিউটার ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, হিমোফিলিয়া সোসাইটি অব বাংলাদেশ ও আমার যশোর। এ উৎসবে ১শ’২২জন মানুষ স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন।
সকাল সাড়ে ৯টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এ উৎসব চলে। চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু। উপস্থিত ছিলেন সুরধনীর সভাপতি হারুন-অর-রশিদ, জেলা যুবলীগের ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম শাপলা, সদর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি অহিদুজ্জামান বাবলু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাদিউজ্জামান চিমা প্রমুখ।
বিকেলে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন আহাদ রেড ক্রিসেন্ট রক্ত দান কেন্দ্রের সম্পাদক ও প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন।