বেনাপোলে যুবতীকে ধর্ষণের দায়ে পল্লী চিকিৎসকের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক:যশোরের বেনাপোলে এক যুবতীকে নার্সের চাকরি দেয়ার লোভ দেখিয়ে ধর্ষণের দায়ে গ্রাম্য চিকিৎসক শ্যামল শীলকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড ও অর্থদন্ড দিয়েছে একটি আদালত।
শ্যামল শীল বেনাপোলের গাজীপুর গ্রামের হাজী মাহে আলমের বাড়ির তৎকালিন ভাড়াটিয়া ও কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার বড়গুফ বাজার গ্রামের মৃত কৃষ্ণ মোহন শীলের ছেলে। বেনাপোল বাজারে তার একটি চিকিৎসালয় ছিল।
রোববার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) অমিত কুমার দে এক রায়ে এ সাজা দিয়েছেন।
সরকার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেছেন বিশেষ পিপি এম ইদ্রিস আলী। তিনি জানান, ওই যুবতী মাদ্রাসা শিক্ষায় আলিম পাশ করে চাকরি খ্্ুঁজছিলেন। এ সময় এক আত্মীয়ের মাধ্যমে আসামি শ্যামল শীলের সাথে তার পরিচয় হয়। তিনি নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে নার্সের চাকরি পাইয়ে দেয়ার কথা বলেন। ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর ওই যুবতী তার এক ভাইকে সাথে নিয়ে সাতক্ষীরার আশাশুনি থেকে বেনাপোলে এসে ডাক্তার শ্যামল শীলের সাথে দেখা করেন। তিনি ওই যুবতী ও তার ভাইকে তার ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। গভীর রাতে শ্যামল শীল তার ঘরে ঢুকে ওই যুবতীকে ধর্ষণ করেন। পরদিন ওই যুবতী ধর্ষণের অভিযোগে শ্যামল শীলকে আসামি করে বেনাপোল পোর্ট থানায় একটি মামলা করেন। তদন্ত শেষে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সত্যতা পাওয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নুর আলম খান আসামি শ্যামল শীলকে অভিযুক্ত করে ৩০ নভেম্বর আদালতে চার্জশিট জমা দেন। এ মামলার দীর্ঘ স্বাক্ষ্য গ্রহন শেষে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড, ১ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ২ বছরের সশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন। সাজাপ্রাপ্ত শ্যালম শীল জামিনে মুক্তি পেয়ে পলাতক রয়েছেন।