সাবাস চেয়ারম্যান আবুল ইসলামের ১৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

এম আলমগীর, বাঁকড়া (ঝিকরগাছা)>
মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য, গণপরিষদ সদস্য, স্বাধীনতার পর প্রথম জাতীয় সংসদ সদস্য এবং বঙ্গবন্ধুর সাবাস চেয়ারম্যান খ্যাত আলহাজ আবুল ইসলামের আজ ১৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী।
তিনি ২০০৪ সালের এদিনে হাজার হাজার মানুষকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান। নন্দিত নেতা আবুল ইসলাম ১৯৫৫ সালে মৌখিক ভোটে ইউনিয়ন বোর্ডের মেম্বর নির্বাচিত হন। শুরু হয় তার জনপ্রিয়তার পথ চলা। ১৯৫৮ সালে ঝিকরগাছার তৎকালীন বল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (বর্তমান নির্বাসখোলা ও হাজিরবাগ ইউনিয়ন) নির্বাচিত হন সরাসরি জনগণের ভোটের মাধ্যমে। ১৯৬৪ সালে তৎকালীন পাকিস্থানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খাঁন মৌলিক গণতন্ত্র চালুর নামে ফরমান জারি করেন ইউপি চেয়ারম্যানদের ভোটে পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হবেন। জনগণের সরাসরি ভোটের দরকার নেই। এবং আইয়ুব খাঁন নির্দেশ দেন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এই ফরমান সমর্থন সূচক রেজুলেশন করে প্রেসিডেন্ট দপ্তরে পাঠাতে। তখন গোটা পাকিস্থানের মধ্যে একমাত্র চেয়ারম্যান আবুল ইসলাম ওই ফরমানের বিরুদ্ধে কথা বলেন। তিনি বল্লা ইউনিয়ন পরিষদের প্যাডে ওই ফরমানের বিরুদ্ধে রেজুলেশন করে প্রেসিডেন্ট দপ্তরে পাঠান। তিনি রেজুলেশনে উল্লেখ করেন, ভোট জনগণের মৌলিক অধিকার তা খর্ব করার এখতিয়ার কারো নেই। চেয়ারম্যান আবুল ইসলাম ওই রেজুলেশনের কপি স্পিকার ও দৈনিক ইত্তেফাক অফিসে প্রেরণ করেন। এ ঘটনায় তাকে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় সাবাস চেয়ারম্যান শিরোনামে সংবাদ পরিবেশন করে। এরপর থেকে আবুল ইসলাম সারাদেশে সাবাস চেয়ারম্যান নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন। তিনি ১৯৬৬ সালে যশোর বোর্ডের সদস্য নির্বাচিত হন। খুলনা বিভাগে তিনিই একমাত্র আওয়ামী লীগের মেম্বর নির্বাচিত হন। এবং ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসাবে চেয়ারম্যান থেকে অবিভক্ত ঝিকরগাছা চৌগাছাসহ মণিরামপুর নির্বাচনী এলাকার প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। আবুল ইসলাম ১৯৪৯ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে আবুল ইসলাম সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৭১ সালে তিনি দেড়শ সুইসাইড স্কোয়াড নিয়ে যুদ্ধ করেছেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩ সালে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কিংবদন্তী এই পুরুষ ১৯২৪ সালে যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার হাজিরবাগ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা সরদার নাসিরউদ্দীন তৎকালীন সমাজের পঞ্চায়েত ছিলেন। আবুল ইসলাম ২০০৪ সালের এদিনে হাজার হাজার মানুষকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান। হাজিরবাগ গ্রামের জামে মসজিদের পাশে পারবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন নন্দিত এই নেতা। আবুল ইসলাম মৃত্যুর আগে বলেছিলেন তাকে যেন বঙ্গবন্ধুর মত ৫৭০ সাবান এবং নি¤œমানের কাপড় দিয়ে দাফন করা হয়। তার শেষ ইচ্ছা পূরণ করেছিল তার সন্তানরা। আবুল ইসলামের সুযোগ্য উত্তরসুরি যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের সংসদ সদস্য ও সড়ক, পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য এ্যাড. মনিরুল ইসলাম মনির।
মরহুম আবুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পারবারিক ও রাজনৈতিকভাবে দিনভর বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষনা করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে মরহুমের কবর জিয়ারত, হাজিরবাগ জামে মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠান এবং বিকাল ৩ টায় হাজিরবাগ আবুল ইসলাম মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন চত্ত্বরে বাঁকড়া, হাজিরবাগ, নির্বাসখোলা ও শংকরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য, গণপরিষদ সদস্য, স্বাধীনতার পর প্রথম জাতীয় সংসদ সদস্য অ্যাড. ময়নুদ্দিন মিয়াজি। বিশেষ অতিথি হিসাবে বিশিষ্ট সাংবাদিক, কবি ফখরে আলম, যশোর জেলা, চৌগাছা ও ঝিকরগাছা উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধিগণ উপস্থিত থাকবেন।