উপশহর শহীদ স্মরণী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ রক্ষায় আন্দোলনে একাত্মতা

মিরাজুল কবীর টিটো>
যশোর উপশহর শহীদ স্মরণী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ রক্ষায় আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষণা করেছে এলাকাবাসী। গতকাল তারা প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করে বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়েছেন। কর্মসূচির মধ্যে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি মানববন্ধন ও ২৮ ফেব্রুয়ারি যশোর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, এলাবাসীর প্রচেষ্টায় উপশহর ৭ নম্বর সেক্টরে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৭১ সালে শহীদদের স্মরণে বিদ্যালয়ের নামকরণ করা হয় শহীদ স্মরণী বিদ্যালয়।
বিদ্যালয়ের ১ ও ২ নম্বর প্লটে বিদ্যালয়ের শিশুদের দৈনিক সমাবেশ ও খেলাধুলাসহ স্থানীয়রা ঈদের নামাজ আদায় করেন। কিন্তু জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ১৯৭৮ সালের ৮ এপ্রিল ১ নম্বর প্লটটি হাসিনা বেগম নামে এক নারীকে বরাদ্দ দেন। যার স্মারক নং-৪৫৬/এইচ,ই তাং-০৮/০৪/১৯৭৮। এরপর ১৯৮৪ সালে বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ হওয়ার পর বিদ্যালয়ের সামনের ১ ও ২ নম্বর প্লটটি বরাদ্দ পাওয়ার জন্য আবেদন করা হয়। তৎকালীন বিদ্যালয়ের সভাপতি অ্যাড. রফিউদ্দিন এ আবেদন করেন ঢাকার জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও যশোর জেলা প্রশাসক অফিসে। এর প্রেক্ষিতে ১৯৮৯ সালের ৩১ মার্চ জাতীয় গৃহায়নের খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী এবং রাজশাহীর গৃহায়নের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও তৎকালীন যশোর জেলা প্রশাসক বিদ্যালয় পরিদর্শনে আসেন। তারা প্লট মালিককে দু’টি প্লটের পরিবর্তে যশোর হাউজিং এস্টেটের অধীনে নতুন প্লট বরাদ্দের আশ্বাস দেন। ওই সময় সংসদ সদস্য আব্দুল হাই বিদ্যালয় পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসককে বিদ্যালয়ের পক্ষে প্লট দুটি বরাদ্দ দেয়ার সুপারিশ করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৯ সালের ১৫ আগস্ট তৎকালীন বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও মনিরুজ্জামান ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান রবিউল আলমের মধ্যস্থতায় প্লট মালিক ও বিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষের সাথে আপোশনামায় স্বাক্ষর করা হয়। কিন্তু ২০১৩ সালের ১৬ জানুয়ারি প্লট মালিক হাসিনা বেগম প্লটটি এনামুল হক নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেন। ওই সালে প্লট মালিক তার প্লটে নির্মাণ কাজ শুরু করলে স্থানীয় জনগণের বাধায় কাজ বন্ধ করে দেন। ওই সময় সংসদ সদস্য খালেদুর রহমান টিটো উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদারসহ স্থানীয় চেয়ারম্যান বিদ্যালয়ের নামে প্লট বরাদ্দ দেয়ার সুপারিশ করেন হাউজিং কর্তৃৃপক্ষকে। এতকিছুর পরও বিদ্যালয়ের সামনে মাঠ দখল হয়ে যাওয়ায় ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। এর প্রতিবাদে ২৬ ফেব্রুয়ারি এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও ২৮ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের অভিভাবক সমিতির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন দোদুল। জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক সুখেন মজুমদার, ৭ নম্বর সেক্টরের মেম্বর হাসান জহির, জেলা যুবলীগের সদস্য মুনসুর আলম, প্রাক্তন ছাত্র হাবিবুর রহমান বাবুল, প্রধান শিক্ষক শাহাজাদ হোসেন বাবু, এলাকাবাসীর পক্ষে রফিকুল ইসলাম মিলন, নিয়ামত উল্লাহ, জাবের হোসেন জাহিদ, মোস্তাফিজুর রহমান কবির, রকিব মোস্তফা প্রমুখ।