তদন্ত কমিটিও নিরব> হৈবতপুর কাজী নজরুল ইসলাম কলেজের শিক্ষক বিপ্লবের অনৈতিকতা ধামা চাপা পড়ছে

বিল্লাল হোসেন>যশোর সদর উপজেলার হৈবতপুরের কাজী নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের বিজ্ঞান শিক্ষক বিপ্লব কুমারের অনৈতিকতা ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনদিনের ব্যবধানে দুই ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দেয়ার দুই মাস অতিবাহিত হলেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে ছাত্রীর পরিবার অভিযোগ করেছেন। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও অজ্ঞাত কারনে নিরব হয়ে যায়। অভিযোগকারীর পরিবার জানায়, কলেজ কর্তৃপক্ষ নিরব থাকলে তারা আইনের আশ্রয় নেবে। ঘটনার শিকার ওই দুই ছাত্রী এইচএসসি (বিজ্ঞান বিভাগ) দ্বিতীয় বর্ষে লেখাপড়া করে। তাদের বাড়ি একই গ্রামে।
এক ছাত্রী জানায়, শ্রেনী কক্ষে পাঠদানের সুযোগে শিক্ষক বিপ্লব কুমার ছাত্রীদের ঘাড়ে হাত দিয়ে কথা বলতো। যে কারনে তার ঘাড়ে হাত দিয়ে কথা বললেও সে কিছু মনে করতেন না। তার সাথে কথা বলার সময় অশালীন বাক্য ব্যবহার করা শুরু হলে সে ওই শিক্ষকের কাছ থেকে দুরে থাকার চেষ্টা করেন। তবুও শিক্ষকের উত্ত্যক্ত থামেনি। এরই মধ্যে তাকে দেখলেই কাছে ডাক দিতেন । পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় তাকে কু প্রস্তাবও দেয়া হতো। সে রাজি না হওয়ায় ২০১৭ সালের ১১ ডিসেম্বর শ্রেনীকক্ষে তাকে শ্লীলতাহানি করেন শিক্ষক বিপ্লব কুমার। কলেজ থেকে বাড়ি ফিরে ওই ছাত্রী ঘটনাটি তার পিতা-মাতাকে জানান। ওই ছাত্রীর মা জানান, তাকে মেয়েকে শ্লীলতাহানির ঘটনায় ১২ ডিসেম্বর তিনি কলেজে যান মেয়েকে নিয়ে। পরে তার মেয়ে শিক্ষক বিপ্লব কুমারের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। একই দিন তার মেয়ে ছাড়াও অন্য এক ছাত্রী ওই শিক্ষকের কুকৃর্তির ঘটনায় আরেকটি অভিযোগ জমা দেয়। কিন্তু ঘটনার দুই মাস পার হলেও বিপ্লব কুমারের বিরুদ্ধে কলেজ কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য জোরালো চেষ্টা করা হচ্ছে। ওই ছাত্রীর মা আরো জানান, কলেজে যোগদান করার পর থেকে তার বিরুদ্ধে অসংখ্য ছাত্রীকে কু-প্রস্তাব দেয়াসহ অশ্লীল আচরণের ঘটনা এখন জানা যাচ্ছে । সম্মানের ভয়ে ওই শিক্ষকের অনৈতিকতা অনেক ছাত্রী মুখ বুঝে সহ্য করেছেন। তার মেয়েকেও ওই শিক্ষক ফাঁদে ফেলতে চেয়েছিলেন।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অভিযোগ দেওয়ার পর কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেননি বরং হরেন মেম্বরের নেতৃত্বে স্থানীয় একটি চক্র ওই শিক্ষকের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারাই শিক্ষক বিপ্লব কুমারকে নির্দোষ প্রমাণে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এমনকি অভিযোগটি প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য ৫০ হাজার টাকার প্রলোভন দেখাচ্ছে ছাত্রীর মাকে।। তিনি (ছাত্রীর মা) আরো জানান, এক সপ্তাহ আগে তাকে বারীনগর বাজারে ডেকে আনে প্রভাবশালী চক্রটি। বাড়ি থেকে তাকে মোটরসাইকেলে করে নিয়ে আসা হয়। বাজারে আনার পর এক পল্লী চিকিৎসকের চেম্বারে বসে তার ব্যাগে নগদ ১০ হাজার টাকা ব্যাগে ভরে দেয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এ সময় জোরাজুরির সৃষ্টি হলে বিষয়টি আরো জানাজানি হয়ে যায়। অপর এক ছাত্রী জানিয়েছেন তাকেও ওই শিক্ষক একাধিকবার উত্ত্যক্ত করেছেন। তার শাস্তির দাবিতে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে আমিও লিখিত অভিযোগ করেছি। এদিকে শিক্ষক বিপ্লব কুমারের রোষানলে পড়ে এক ছাত্রী কলেজ ছেড়ে চলে গেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক বিপ্লব কুমারের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও বন্ধ পাওয়া যায়। দুই ছাত্রীর লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কোনো বিষয়টি নিশ্চিত করে কলেজের অধ্যক্ষ আবু মাসুদ জানান, ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে পরের দিনই কলেজ পরিচালনা পরিষদের দাতা সদস্য আহম্মদ আলীকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এক সপ্তার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা বলা হয়েছিলো। কিন্তু কমিটি পরে তদন্ত কার্যক্রমে অপারগতা প্রকাশ করেন। বর্তমানে বিষয়টি কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতিকে জানানো হয়েছে। উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ি আবারো তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে ঘটনাটি প্রমাণ হলে শিক্ষক বিপ্লব কুমারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত ইতোমধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষককে কলেজে আসতে নিষেধ করা হয়েছে।