যশোরে তরুণীকে পুলিশে চাকরি দেয়ার নামে প্রতারণা, আটক ১

নিজস্ব প্রতিবেদক>
যশোর পুলিশ প্রশাসনের সতর্কতা জারির পরও এক তরুণীকে কনস্টেবল পদে নিয়োগ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রতারকেরা এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৫ লাখ টাকার ব্যাংক চেক নেওয়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। অবশ্য জারিজুরি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় প্রতারকের একজন আটক হয়েছে। আটক প্রতারকের নাম আজিজুর রহমান। তিনি কেশবপুর উপজেলার ভা-ারখোলা গ্রামের মৃত সালামত উল্যাহর ছেলে। আজিজুর রহমানসহ দুইজনের বিরুদ্ধে ওই ঘটনায় কোতয়ালি মডেল থানায় মামলাও হয়েছে। অপরজন হলো, একই গ্রামের ইমান আলীর ছেলে ইব্রাহিম। তাদের বিরুদ্ধে মামলাটি করেছেন একই উপজেলার হাড়িয়া ঘোপ গ্রামের মৃত নাছের মোড়লের ছেলে হায়দার আলী মোড়ল।
বাদী হায়দার আলী মোড়লের অভিযোগে জানা যায়, আসামিরা তার পূর্ব পরিচিত। তারা তাদেরকে জানিয়েছিলো, তার নাতনি হাড়িয়া ঘোপ গ্রামের হান্নান মোড়লের মেয়ে বৃষ্টি খাতুনকে নারী পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি পাইয়ে দিতে পারবে। ২২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার লোক নিয়োগের দিন নাতনি বৃষ্টিকে চাকরি দিতে হলে তাদেরকে ৮লাখ টাকা দিতে হবে। এই টাকা দিলে বৃষ্টির পুলিশ কনস্টেবল চাকরি নিশ্চিত হবে। তবে প্রথমে তাকে ৫লাখ ৫হাজার টাকার ব্যাংক চেক দিতে হবে। বাকি টাকা চাকরি হওয়ার পর দিতে হবে। হায়দার আলী মোড়ল প্রতারকদের কথা বিশ্বাস করে নাতনি বৃষ্টির চাকরির জন্য ছেলে শাহিন আলমের কেশবপুর উপজেলার প্রতাপপুর শাখা অগ্রণী ব্যাংকের হিসাব নম্বরের তারিখ বিহীন ৫ লাখ ৫ হাজার টাকার একটি চেক দেন। এরপর প্রতারকেরা বৃষ্টিকে ২২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে যশোর পুলিশ লাইন্স মাঠে নিয়ে যান । সেখানে বৃষ্টিকে নিয়োগের জন্য দাঁড় করালে প্রথম পর্যায় মাপজোক করা হয়। এ সময় তাকে অযোগ্য হিসেবে বের করে দেয়া হয়। এরপর বৃষ্টি সেখান থেকে বের হওয়ার পর হায়দার আলী মোড়ল প্রতারক আজিজুর রহমান ও ইব্রাহিম খুঁজতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে প্রতারকদের মধ্যে আজিজুর রহমানকে পেয়ে যান। তিনি তার কাছে চেক ফেরত চাইলে এ নিয়ে হট্টগোল শুরু হয়। এ খবর পেয়ে কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের এএসআই মনিরুল ইসলাম সেখানে ছুটে যান এবং আজিজুর রহমানকে আটক করেন। পরে পুলিশ ব্যাংকের চেকটি উদ্ধার করে। এদিকে পুলিশ প্রশাসনের এতো সতর্কতা জারির পরও প্রতারকদের তৎপরতা বন্ধ না হওয়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। বৃষ্টির মতো আর কোন প্রার্থী প্রতারকদের খপ্পরে পড়েছে কি-না তা নিয়েও আলোচিত হচ্ছে।