যশোরে অপহৃত কেশবপুরের হাসানপুর ইউপি সচিব উদ্ধার, আটক ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক>
যশোরে মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত কেশবপুর উপজেলার ১১ নম্বর হাসানপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মিনারুল ইসলামকে গত শনিবার রাতে শহরের ঘোপ ডিআইজি রোড থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত ৩ অপহরণকারীকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা হচ্ছে, সদর উপজেলার ভাগলপুর গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে মোমিনুর রহমান, শহরের পুরাতন কসবা কাজীপাড়ার শাহাবুদ্দিনের ছেলে শরিফুল ইসলাম ওরফে সবুজ ও মৃত কাজী জহিরুল ইসলাম ওরফে দবু কাজীর ছেলে রায়হানুল ইসলাম উপল।
মনিরামপুর উপজেলার চালুয়াহাটি গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধ আব্দুল হামিদের অভিযোগ, তার ছেলে মিনারুল ইসলাম কেশবপুর উপজেলার হাসানপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব পদে কর্মরত। আসামিরা তার ছেলের পূর্ব পরিচিত। গত শনিবার মিনারুল ইসলাম যশোর ক্যান্টমমেন্ট কলেজে এমবিএ মাস্টার্স পরীক্ষা দিতে যায়। পরীক্ষা শেষে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আরবপুর মোড়ে পৌঁছালে উল্লিখিত আসামিরা তার উপর চড়াও হয়। তারা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অপহরণের পর তাকে শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘোরানো হয় এবং তার কাছে থাকা ৬শ’ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন সেট কেড়ে নেয়। এরপর অপহরণকারী তাকে আটকে রেখে ২০ হাজার টাকা দাবি করে। তার ছেলের মোবাইল (০১৭৫৩-০১৯৮৬২) দিয়ে তাকে ফোন করে বিকাশে টাকা পাঠাতে বলে। নতুবা মিনারুল ইসলামকে খুন করে লাশ গুম করে করে ফেলার হুমকি দেয়। ফলে ভয়ে তার বড় ছেলে রবিউল ইসলাম আসামিদের টাকা দিতে রাজি হয়। এরপর আসামিরা টাকা নিয়ে শহরের ঘোপ ডিআইজি রোডের জনৈক রিপন ম-লের বাড়ির গলির ভেতর যেতে বলে মিনারুল ইসলামের পরিবারকে। এরই মধ্যে আসামিদের সহযোগী অজ্ঞাতনামা আরো দুজন মিনারুল ইসলামের কাছে আরো ৫ লাখ টাকা দাবি করে। সূত্র জানায়, বিষয়টি মিনারুল ইসলামের পরিবার কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশকে জানায়। এরপর আব্দুল হামিদসহ পরিবারের কয়েক সদস্য রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘোপ ডিআইজি রোডের উল্লিখিত স্থানে গিয়ে আসামিদের দেখতে পান। সাথে সাথে পুলিশ আসামিদের ঘিরে ফেলে এবং আটক করে। এছাড়া সেখান থেকে অপহৃত মিনারুল ইসলামকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় আব্দুল হামিদ বাদী হয়ে মোমিনুর রহমান, শরিফুল ইসলাম সবুজ ও রায়হানুল ইসলাম উপলকে আসামি করে কোতয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা করেছেন।