ঘুরে আসুন সুন্দরবনের শর্মিলা ও বাদাবন ইকো কটেজ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঘরে বসে সুন্দরবনের পাক-পাখালির ডাক। পায়ে হেঁটে সুন্দরবনের অপার সেীন্দর্য্য উপভোগ। নিরাপত্তার সাথে রাত্রি যাপন। মান সম্মত খাবার গ্রহন। স্বল্প খরচে লোকালয় থেকে খুব কাছে ভ্রমণ করেই পর্যটকদের বিশ্বের সর্ববৃহত্ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন উপভোগের সুযোগ ।

পর্যটকদের জন্য সুন্দরবন ভ্রমণের এমন সুযোগ নিয়ে ২০১৭ সালে চাঁদপাঁই ফরেস্ট রেঞ্জের আওতায় কৈলাশগঞ্জ ও দক্ষিণ চিলায় কমিউনিটি ইকো ট্যুরিজমের অংশ হিসাবে দুইটি ইকো কটেজ স্থাপন করা হয়। যা ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ভ্রমন পিপাসু পর্যটকদের জন্য চালু করা হয়েছে। চাঁদপাঁই সহ-ব্যবস্থাপনা সংগঠনের সার্বিক তত্তাবধানে সুন্দরবন শর্মিলা ইকো কটেজ ও বাদাবন ইকো-কটেজ দুটি স্থাপনে সহায়তা প্রদান করে ইউএসআইডি’র ক্রেল প্রকল্প।

ক্রেল প্রকল্প খুলনার সমন্বয়কারী-এনআরএম এন্ড লাইভলীহুড (পূর্ব) মোঃ তৌহিদুর রহমান জানান, সুন্দরবন সংরক্ষণে ও বনজীবিদের জীবিকায়নে বিশেষ অবদান রাখতে এই কমিউনিটি ইকো-ট্যুরিজম তৈরি করা হয়েছে। কমিউনিটি ইকো-ট্যুরিজ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত বননির্ভর পরিবার এবং প্রকৃতি প্রেমিক পর্যটকরা বনসংরক্ষণে যত্নবান থাকেন।

তিনি বলেন, ইকো-কটেজে ভ্রমণ সুন্দরবন সুরক্ষায় অবদান রাখবে (এই কটেজের আয়ের ৫% বনজীবিদের উন্নয়নে ব্যয় হবে এবং এই কটেজের সাথে ১০-২০ পরিবারের জীবিকায়ন হতে পারে) তথা বন-জীবিদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখবে।

তৌহিদুর রহমান বলেন, এ কটেজে এলে বনের আশে-পাশের সহজ-সরল মানুষের জীবন-যাত্রা সম্পর্কে জানতে পারবেন, তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, বিশ্বাস, ধর্ম, প্রথা জানতে পারবেন, কিভাবে সহ-ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তারা বনরক্ষায় কাজ করছে তা জানতে পারবেন। রাত্রে তাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবেন।

ইকো-কটেজের ঠিকানাঃ

১) সুন্দরবন শর্মিলা ইকো কটেজ (বনবিভাগের লাউডোপ ফরেস্ট ফাঁড়ির বিপরীতে/সন্নিকটে)। যোগাযোগের ঠিকানাঃ পরিচালক শর্মিলা সরকার, গ্রামঃ কৈলাশগঞ্জ, ডাকঘরঃ কৈলাশগঞ্জ, উপজেলাঃ দাকোপ, জেলাঃ খুলনা মোবাইলঃ ০১৯১৮৬১৩০০২, ০১৭৪৩৪৮৭৫০২।

২)বাদাবন ইকো-কটেজ (বৈদ্যমারি ফরেস্ট ফাঁড়ির বিপরীতে/সন্নিকটে)। যোগাযোগের ঠিকানাঃ পরিচালক মোঃ লিটন জমাদ্দার, গ্রামঃ দক্ষিণচিলা, ডাকঘরঃ বৈদ্যমারি বাজার, উপজেলাঃ মোংলা, জেলাঃ বাগেরহাট। মোবাইলঃ ০১৯২৬৯৪৩৬০৮, ০১৭৩৬৩৩১৫১৫।

ইকো-কটেজে কিভাবে যাবেনঃ

সুন্দরবন শর্মিলা ইকো-কটেজঃ খুলনা হতে বাসে মোংলায় যেতে হবে। মোংলা যেয়ে পশুরনদী পার হতে হবে (অথবা ফরেস্টের অনুমতি/নির্দিস্ট ফি দিয়ে সরাসরি ইকো-কটেজে যাওয়া যাবে)। পশুর নদী পার হলেই বানিশান্তা/কাটাখালি ঘাট, ঘাট থেকে কৈলাশগঞ্জ ইকো-কটেজে ইজিবাইক বা ভ্যানে আধা ঘন্টার পথ। সরাসরি ব্যক্তিগত/ভাড়ার গাড়ি নিয়ে (নির্ভরযোগ্য ভাড়ার গাড়ি নিয়ে যাওয়া যেতে পারে, নাম্বারঃ ০১৮২৪৪৪৪৮৮৮) যেতে পারেন খুলনা-পানখালি-চালনা-পোদ্দারগঞ্জ হয়ে কৈলাশগঞ্জ ইকো-কটেজের সামনে।

মোংলা হতে বাদাবন ইকো-কটেজঃ খুলনা হতে বাসে মোংলা যেতে হবে। মোংলা থেকে ট্রলারে মোংলা নদী পার হতে হবে। মোংলা নদী পার হলেই ছোট মোংল শহর বা বাজার, সেখান থেকে মোটর সাইকেল/ইজি বাইক বা ভ্যানে আধা ঘন্টার ভাল পথ।

ইকো-কটেজের ভাড়া ও খাওয়ার হিসাব (বিদেশিদের জন্য প্রযোজ্য নয়):

ভাড়াঃ ১ রুম-৬০০টাকা (এক জনের জন্য), ১ রুম-১০০০টাকা (দুই জনের জন্য), সকালের নাস্তা-১০০ টাকা (মূল নাস্তার পূর্বে ও পরে আরো দুবার চাসহ অতিরিক্ত নাস্তা দেওয়া হবে) ও দুপুর ও রাতের খাবার ২০০ টাকা (সাদা ভাত, সবজি, মাছ/মাংস, ডাল)।

সরেজমিনে বাদাবন ইকো কটেজ ঘুরে দেখা গেছে, গোলপাতা, কাঠ দিয়ে তৈরি মাটির ঘর। সামনের পুকুরের উপর বসার জন্য গোল ঘর। কিন্তু বাথরুম আধুনিক হাই-কমোড, লো-কমোড দু-রকমই আছে। বারান্দায় রয়েছে সংরক্ষিত মাটিতে বাঘের পায়ের চিহ্ন। আছে প্রাকৃতিক পরিবেশে খাওয়ার ব্যবস্থা।

সুন্দরবন শর্মিলা ইকো-কটেজ ঘুরে দেখা গেছে, ইকো-কটেজের সামনে বড় পুকুর। পুকুরের উপর বসার জন্য গোল ঘর, খড়ের গম্বুজ। গোলপাতার ছাউনি দেওয়া মুলিবাঁশের ঘর। নাস্তার সাথে সুন্দরবনের নানা পাখির ডাকে সময় কাটানোর সুযোগ। সুন্দরবনের লোক গান, পালা গান স্থানীয় শিল্পীদের কাছ থেকে শোনার সুযোগ রয়েছে।

সুন্দরবন শর্মিলা ইকো-কটেজের পরিচালক শর্মিলা সরকার বলেন, এখানে যে কোন মৌসুমে সুন্দরবন দেখার সুবিধা, ২ রুম বিশিষ্ট ইকো-কটেজ, ২ টা ফ্যামিলি (৫+৫=১০ জন) এক সাথে সহজেই থাকতে পারবেন (খুব শীঘ্রই তাঁবুর মাধ্যমে অধিক সংখ্যক সাহসী ভ্রমণ কারীদের থাকার ব্যবস্থা করা হবে। সুন্দরবনের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে সেলাই-সুতার কাজ, বাঘের/হরিণের/কুমিরের নিদর্শন সে সকল কাজে ফুটে উঠেছে, সাথে করে নিয়ে যেতে পারবেন প্রিয়জনের জন্য।

বাদাবন ইকো-কটেজের পরিচালক মোঃ লিটন জমাদ্দার বলেন, পুকুর ও ঘেরে নিজে বা অন্যের সহায়তায় মাছ মেরে তাজা মাছ খাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এখানে রয়েছে দেশী গরুর খাঁটি দুধ, দেশী মুরগি ও হাঁস, পাশের ক্ষেতের বিষমুক্ত সবজি, গাছের ফল, সুন্দরবনের খাঁটি মুধু।