যশোরে সুদে কারবারীকে হত্যা করে লাশ গুমের চেষ্টা, স্কুলের নৈশ প্রহরী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক>
যশোর সদর উপজেলার আন্দোলপোতা গ্রামে আজিজুল ইসলাম (৩৫) নামে এক সুদে কারবারী খুন হয়েছে । রোববার সন্ধ্যার দিকে তিনি নিখোঁজ হওয়ার পর গতকাল সোমবার ভোরে তার মরদেহ একটি স্কুলের সেফটি ট্যাংকের মধ্যে থেকে উদ্ধার হয়েছে। আজিজুল ইসলাম ওই গ্রামের আলাউদ্দিন সরদারের ছেলে। পরে পুলিশ খুনের সাথে জড়িত অভিযোগে তরিকুল ইসলাম নামে স্কুলের এক নৈশ প্রহরীকে আটক করে।
তরিকুল আন্দোলপোতা গ্রামের মৃত আয়নাল বিশ্বাসের ছেলে এবং আন্দোলপোতা এডিবি সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী।
এই ঘটনায় নিহতের ভাই নেসার আলী ৭ জনের নাম উল্লেখ করে কোতয়ালি থানায় একটি মামলা করেছেন। তরিকুল ছাড়াও এই মামলার অন্যান্য আসামিরা হলো, সদর উপজেলার লেবুতলা ইউনিয়নের কাঠামারা গ্রামের মতিয়ার রহমানের দুই ছেলে মিল্টন হোসেন ও আমিরুল ইসলাম, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার সুবর্ণসারা গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে টিপু বিশ্বাস, আক্কাস আলী, লুছিয়া গ্রামের ইজ্জত আলীর ছেলে ডাক্তার মামুন বিশ্বাস এবং আন্দোলপোতা গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে আব্দুল হালিম।
নিহতের ভাইয়ের দাবি, ওই গ্রামের অনেকে তার ভাই আজিজুলের কাছ থেকে টাকা নিতেন। বিনিময়ে তাকে প্রতিবছর ধান দেয়া হতো। আসামি তরিকুল ইসলামের কাছে তিনি ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা, মিল্টনের কাছে ৮০ হাজার টাকা, আমিরুলের কাছে ১ লাখ টাকা পেতেন। তারা দীর্ঘ দিন তাকে কোন টাকা দেন না। এদিকে বছর ঘুরতে টাকার পরিমাণ বেড়ে যেতো। আসামিদের সকলেই আজিজুলের কাছে কোন না কোন ভাবে সুবিধা নিয়েছে। তাই টাকা ফেরৎ না দিতে আসামিরা তাকে খুনের পরিকল্পনা করে।
পরিকল্পনা মোতাবেক তরিকুল ইসলাম রোববার সন্ধ্যার দিকে মোবাইল ফোন করে আজিজুলকে ডেকে নেয়। তারা দুইজনে সন্ধ্যার দিকে এডিবি সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে গল্প করছিল। আজিজুল সচারচর রাত ৮টার মধ্যে বাড়িতে ফিরে যান। ওই দিন রাত ১০টার পরও সে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের লোকজন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। এরপর এলাকার লোকজন তার খোঁজ খবর নেয়া শুরু করে। বেশ কয়েকজন তরিকুলের সাথে আজিজকে দেখে। তাই এলাকার লোকজন রাতে তরিকুলের গতিবিধির ওপর নজর রাখে।
তরিকুল নৈশ প্রহরী হওয়ায় আসামিরা সকলেই স্কুলে অবস্থান নেয়। এরপর স্কুলের পশ্চিমপাশের দোতলা ভবনের একটি রুমে নিয়ে গিয়ে মিল্টন রড দিয়ে বাড়ি মারে। আমিরুল ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায়। তরিকুল পা চেপে ধরে এবং আক্কাস জবাই করে। এরপর তারা কয়েকটি বিচালী দিয়ে মুড়িয়ে স্কুল ভবনের সেফটি ট্যাংকের মধ্যে লুকিয়ে রেখে গুমের চেষ্টা চালায়।
নিহতের চাচা ইমদাদুল হক জানিয়েছেন, রাতে তরিকুলের গতিবিধি লক্ষ্য করে এলাকার লোকজন। তাকে বেশ কয়েকজনের সাথে কথা বলতে শোনা যায়। তাকে সন্দেহ হলে এলাকার লোকজন তাকে আটক করে গণপিটুনি দেয় এবং পরে আজিজুলকে হত্যার কথা স্বীকার করে। এবং লাশের সন্ধান দেয়। সে মোতাবেক এলাকার লোকজন সেফটি ট্যাংকের ভেতর থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশে সংবাদ দেয়। পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। সে প্রাথমিকভাবে পুলিশের কাছে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।
এলাকাবাসী জানিয়েছে, তরিকুলকে আটকের পর এই ঘটনার সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে দুই ভাই আমিরুল এবং মিল্টন ও খালিদ নামে আরো একজনকে আটক করে পুলিশে দেয়া হয়েছে।
কিন্তু কোতয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল বাশার মিয়া জানিয়েছেন, পুলিশ শুধু তরিকুলকে আটক করেছে। অন্য তিনজনের আটকের কথা জানা নেই।
তিনি আরো জানিয়েছেন, আটক তরিকুলকে রিমান্ডে নেয়ার জন্য আদালতে আবেদন করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্তকর্তা এসআই বাবুন চন্দ্র বিশ্বাস।