যবিপ্রবিতে সভাপতির প্রার্থীকে নিয়োগের দাবিতে ছাত্রলীগের বিশৃঙ্খলা

বিল্লাল হোসেন>
যশোর বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ছাত্রলীগের সভাপতির মনোনীত দুজন প্রার্থী অকৃতকার্য হওয়ার জেরে ক্যাম্পাসে গতকাল বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে ওই নেতার অনুসারী শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা প্রার্থীদের বাধা দেয়া ছাড়াও ভাইস চ্যান্সেলের প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেনকে দুই ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করাসহ প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকেও তালা ঝুলিয়ে দেয় বলে ভিসি জানান। কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাঈমুর রহমান নাঈম জানান, কর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, রসায়ন বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য মোট ৮৯ জন প্রার্থী আবেদন করেন। এর মধ্যে দুজন ছিলো ছাত্রলীগ যবিপ্রবি শাখার সভাপতি সুব্রত কুমার বিশ্বাসের মনোনীত প্রার্থী। মঙ্গলবার লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ৫০ জন। এর মধ্যে ১১জন কৃতকার্য হন। ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সুব্রত কুমার বিশ্বাসের মনোনীত দুজনও অকৃতকার্যের মধ্যে রয়েছে। এরপর থেকে ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
গতকাল বুধবার সকালে তারা ক্যাম্পাসের মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন। ছাত্রলীগ নেতা কর্মীরা পদার্থ বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা ২০ জন প্রার্থীকেও ক্যাম্পাসে প্রবেশে বাধা দেন। সুত্রটি আরো জানান, বিষয়টি জানতে পেরে ভিসিসহ কয়কজন শিক্ষক কর্মকর্তা তালাবদ্ধ করে রাখা প্রধান ফটকের সামনে যান। সেখানে দায়িত্বরত এক আনসার সদস্য তাদের জানান, ছাত্রলীগ নেতা সুব্রত কুমার বিশ্বাস গেটে তারা ঝুলিয়ে দিয়ে গেছেন। এসময় শিক্ষক কর্মকর্তাদের সাথে ছাত্রলীগের বাগবিতন্ডাও হয়। পরে ভিসি ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলে পরীক্ষা দিতে আসা প্রার্থীদের ক্যাম্পাসে মধ্যে আনার ব্যবস্থা করেন। সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর সম্মেলন কক্ষে নিয়োগ পরীক্ষা শুরু হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্বদ্যিালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, নিয়োগ পরীক্ষার শুরুতেই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস এবং শেখ হাসিনা ছাত্রী হলের সাধারণ সম্পাদক হুমায়রা আজমিরা এরিনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ প্রশাসনিক ভবন ঘিরে মিছিল করতে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর কার্যালয়ে গিয়ে অসদাচরণ করে। ভাইস চ্যান্সেলরের একান্ত সচিব (পিএস) এ টি এম কামরুল হাসান দৈনিক স্পন্দনকে জানান, প্রথমেই ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। তাকে তুলে নিয়ে যেতে চায়। বাধা দেয়ায় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট ইকবাল কবির জাহিদ ও সহকারী প্রক্টর সাইফুল ইসলামকে লাঞ্ছিত হন। এ সময় তারা ভাইস চ্যান্সেলর স্যারকে কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন।
এটিএম কামরুল হাসান আরও জানান, দুপুর সাড়ে ১২টা ১০ মিনিটে ভিসির সঙ্গে কথা বলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা চলে যান। পরে দেড়টার সময় তিনি ও আরেক কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান সোহাগের উপর শেখ হাসিনা ছাত্রী হলের সাধারণ সম্পাদক হুমায়রা আজমিরা এরিন এবং ইলিয়াস হোসেন রকির নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা ফের চড়াও হয়। তিনি কখনো ছাত্রলীগকে দালাল বলে আখ্যায়িত করেননি। ঘটনা ভিন্নখাতে নিতে ছাত্রলীগ মিথ্যাচার করছেন বলে দাবি করেন কামরুল হাসান ।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ভিসি প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন তার কক্ষে আলোচনার সময় দৈনিক স্পন্দনকে জানান, ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের মনোনীত দুজন প্রার্থী নিয়োগ পরীক্ষায় অত্যন্ত কম নম্বর পেয়েছে। তারা শিক্ষক হওয়ার যোগ্য নয়। অথচ তাদের নিয়োগ করাতে ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ মিশনে নেমেছেন। দাবি মেনে না নেয়ার কারণে তাকে দু ঘণ্টারও বেশি সময় অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে তারা কয়েকদফা দাবি পেশ করে তালা খুলে দেন। ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ তার দপ্তরে যা করেছে তা অত্যন্ত ঘৃণিত কাজ।
প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন আরো জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে দায়িত্ব দিয়ে এখানে পাঠিয়েছেন। ফলে কারো কোন অন্যায় প্রস্তাবকে তিনি মানবেন না। তালা খুলে দেয়ার পর তিনি পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন। যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাঈমুর রহমান নাঈম জানান, প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের মনোনীত ফেল করা প্রার্থীকে শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ভিসিকে অবরুদ্ধ করে রাখাসহ প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
অভিযোগে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস সাংবাদিকদের বলেন, ছাত্রলীগের কোন প্রার্থী নেই। ভিসি স্যারের পিএস কামরুল ছাত্রলীগকে নিয়ে কটূক্তি করেছে। তার শাস্তির দাবিতে ছাত্রলীগ ক্ষিপ্ত হয়ে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ দীর্ঘদিন থেকে নিয়োগ বাণিজ্যে মেতে রয়েছেন। তাদের মনোনীত প্রার্থীকে নিয়োগ না দিলেই বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলার সৃিষ্ট করে।