ইউএস-বাংলার যাত্রীদের স্বজনরা উৎকণ্ঠায়

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক >

নেপালে বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলার ফ্লাইটটির বাংলাদেশি যাত্রীদের স্বজনরা উৎকণ্ঠার প্রহর গুনছেন।

সোমবার দুপুরে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়ে অর্ধ শত যাত্রী নিহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই ড্যাশ উড়োজাহাজটিতে মোট যাত্রী ছিলেন ৬৭ জন, এর মধ্যে ৩২ জন বাংলাদেশি। যাত্রীদের মধ্যে দুটি শিশুও রয়েছে।

এই ফ্লাইটেই যাত্রী ছিলেন সানজিদা বিপাশা, রফিক জামান রিমু ও তাদের ছয় বছর বয়সী ছেলে অনিরুদ্ধ।

বিপাশার ভাই শাহরিয়ার মিঠুন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বেলা সাড়ে ১২টায় তাদেরকে তুলে দেওয়ার সময় সবশেষ কথা হয়েছিল। এরপর দুর্ঘটনার খবর শুনছি। আমরা খুবই আপসেট।”

বিকাল ৫টায় বিপাশার ভাইয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় পরিবারের সদস্যদের কান্নাকাটির আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল।

বিপাশা একটি বেসরকারি সংস্থায় জনসংযোগ শাখার দায়িত্ব পালন করেন।

ওই সংস্থার সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এ পর্যন্ত ৫০ জন নিহতের খবর পাচ্ছি, হাসপাতালে রয়েছে বাকিরা। বিপাশার পরিবারের বিষয়ে আমরা নেপালেও যোগাযোগের চেষ্টা করছি। কোথাও থেকে কোনো খবর পাচ্ছি না।

“খুবই চিন্তিত। জানি না, ভাগ্যে কী ঘটেছে, আমরা প্রার্থনা করছি; ভালো খবরের আশায় রয়েছি।”

এক সময় সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ‍রিমু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে কাজ করতেন। এখন তিনি প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে কাজ করেন।

রাজশাহীর রুয়েটের সিএসই বিভাগের প্রভাষক ইমরানা কবির হাসিও ছিলেন এই ফ্লাইটে। স্বামী রকিবুল হাসানও ছিলেন তার সঙ্গে। হাসির বাড়ি টাঙ্গাইলে। তিনি যাত্রা শুরুর আগে ফেইসবুকে লিখেছেন- ‘ভ্যাকেশন স্টার্টস নাউ’।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকে হাসি ও রকিবুলের স্বজনরা রয়েছেন উদ্বেগের মধ্যে।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রধান নাজিয়া আফরিন চৌধুরী এবং বেগম উম্মে সালমাও ছিলেন এই ফ্লাইটে। তারা একটি কর্মশালায় অংশ নিতে কাঠমান্ডু যাচ্ছিলেন।

গোপালগঞ্জের শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষার্থী ও কলেজ ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পিয়াস রায়ও এই ফ্লাইটে ছিলেন।

যাত্রা শুরুর একটি ছবি পোস্ট করে ফেইসবুকে তিনি লেখেন, ‘টাটা মাই কান্ট্রি, ফর ফাইভ ডেজ। হেইলিং টু দ্য ল্যান্ড অফ দ্য এভারেস্ট’।

এই বিমান দুর্ঘটনায় অর্ধ শতাধিক যাত্রীর মৃত্যুর আশঙ্কা করছে নেপাল কর্তৃপক্ষ। তবে তাদের কারও পরিচয় পাওয়া যায়নি।