ট্রাফিক কনস্টেবল ও রিকসা চালকের সততা

নিজস্ব প্রতিবেদক>
যশোর ট্রাফিক পুলিশ ও এক রিকসা চালকের সততায় হারিয়ে যাওয়া ব্যাগ ভর্তি ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং একটি সোনার আংটি ফেরৎ পেলেন বেনাপোলের সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী সাইফুজ্জামান। তিনি শার্শা উপজেলার উলাশী পানবুড়ি গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে।
সাইফুজ্জামান জানিয়েছেন, তিনি বুধবার সন্ধ্যার দিকে শার্শা থেকে যশোর শহরে আসেন। তার ছেলের সুন্নতে খাতনা দেয়া হয়। ছেলেকে সাথে নিয়ে তিনি একটি রিকসায় উঠে দড়াটানা প্রাইম ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডাক্তার দেখানোর জন্য নামেন। রিকসা ভাড়া দিয়ে তিনি ব্যাগটি সিটের ওপর রাখেন। কিন্তু রিকসা ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় ব্যাগটি নিতে ভুলে যান। ওই ভবনের দোতলায় পৌছে গিয়ে দেখেন ব্যাগ নেই। দ্রুত তিনি নিচে নামেন। কিন্তু ততক্ষণে রিকসাটি সেখানে ছিল না। তিনি রিকসা চালককে এদিক ওদিক খুঁজতে থাকেন। প্রায় ঘন্টা খানেক খোঁজার পর দুই ট্রাফিক পুলিশ তাকে খুঁজে বের করেন এবং তার ব্যাগ ভর্তি টাকা ট্রাফিক পুলিশ অফিসে আছে বলে জানতে পারেন। সেখানে গিয়ে তিনি হারিয়ে যাওয়া ব্যাগটি পান এবং কিভাবে ট্রাফিক পুলিশের কাছে ব্যাগটি গেলো তা জানতে পারেন।
ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) সাখাওয়াৎ হোসেন জানিয়েছেন, দড়াটানায় দায়িত্ব পালন করছিলেন ট্রাফিক কনস্টেবল সেলিম হোসেন। তিনি দেখেন একজন রিকসা চালাচ্ছেন। রিকসার সিটের ওপর একটি ব্যাগ পড়ে আছে। রিকসায় কোন যাত্রী নেই। তিনি তখন রিকসা থামান। তখন রিকসা চালক দেখতে পান সিটের ওপর একটি ব্যাগ পড়ে আছে। ব্যাগ খুলে ট্রাফিক পুলিশ দেখেন তাতে অনেক টাকা। তিনি ব্যাগসহ রিকসা চালককে ট্রাফিক অফিসে নিয়ে যান। পরে রিকসা চালকের কাছে শুনে তিনি যাত্রী নামানোর স্থান দড়াটানা প্রাইম ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাছে পাঠান। সেখানে গিয়ে মালিক সাইফুজ্জামানকে পায় পুলিশ। পরে সাইফুজ্জামান ট্রাফিক অফিসে এসে টাকা ও ব্যাগের উপযুক্ত প্রমাণ দিলে তাকে তা ফেরৎ দেয়া হয়। এতে খুশি হয়ে সাইফুজ্জামান রিকসা চালককে নগদ ৫ হাজার টাকা পুরস্কার হিসাবে দেন। রিকসা চালকের নাম সাদ্দাম হোসেন। তিনি সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার শ্রী উল্লাহ গ্রামের সাঈদ আলীর ছেলে। বর্তমানে যশোর শহরতলীর বিরামপুর এলাকার নিপু মেম্বারের বাড়িতে ভাড়া থাকেন।
সাইফুজ্জামান জানিয়েছেন, তিনি সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী। একই সাথে মোবাইল ফোন কোম্পানি রবি’র ডিলার। একটি সিডিউল কেনার জন্য পে অর্ডারের কাজে নগদ টাকা নিয়ে এসেছিলেন। টাকা গুলো পাওয়ায় তিনি রিকসা চালক সাদ্দাম এবং ট্রাফিক কনস্টেবল সেলিমের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।