বিধ্বস্ত বিমান উদ্ধার অভিযান সাময়িক স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বিধ্বস্ত বিমান উদ্ধার অভিযান সাময়িক স্থগিত

যশোরে বিধ্বস্ত বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান উদ্ধার কাজ সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় পুনরায় উদ্ধার কাজ শুরু হবে। রোববার রাতে যশোর সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের আরিচপুর এলাকায় বুকভরা বাওড়ে বিমান বাহিনীর ‘কেএইট ডব্লিও’ প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়।

রোববার রাত ও সোমবার সকাল সোয়া ৯টা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযানে নিহত দুই পাইলটের ছিন্নভিন্ন দেহের অংশবিশেষ উদ্ধার করা হয়।

যশোর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সহকারী পরিচালক পরিমল কুন্ডু বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় সাময়িকভাবে উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় আবার উদ্ধার অভিযান শুরু হবে। এতে নৌ, বিমান, সেনা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা অংশ নিয়েছেন। বিমানের ইঞ্জিনসহ বাকি ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হবে।

এর আগে সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থলের পাশে ব্রিফিং করেন যশোর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সহকারী পরিচালক পরিমল কুন্ডু।

তিনি জানান, রোববার রাত ও সোমবার সকাল থেকে উদ্ধার অভিযানে এখন পর্যন্ত বিধ্বস্ত বিমানটির ৩৫ শতাংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে বিমানের ইঞ্জিন এখনও উদ্ধার করা যায়নি। আর নিহত দুই পাইলটের মাথা, হাতসহ শরীরের ছিন্নভিন্ন বিভিন্ন অংশ উদ্ধার হয়েছে। সামগ্রিক এ উদ্ধার অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিমান বাহিনীর স্কোয়াড্রন লিডার মাহাদি।

এর আগে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর-আইএসপিআরের এক বিজ্ঞপ্তিতে সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম জানিয়েছেন, বিরূপ আবহাওয়ার কারণে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে। বিমান দুর্ঘটনা তদন্তে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে।

বিমান বাহিনী সূত্র জানায়, যশোরের মতিউর রহমান বিমান ঘাঁটি থেকে প্রশিক্ষণ বিমানটি নিয়ে উড়ে যান স্কোয়াড্রন লিডার এনায়েত ও স্কোয়াড্রন লিডার সিরাজ। ঊড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই তারা টাওয়ার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। এরপরই বিমানটি বিধ্বস্তের খবর পাওয়া যায়।

খবর পেয়ে বিমান বাহিনীর সদস্যরাসহ ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তবে রাতের আঁধার ও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে বিধ্বস্ত হওয়া বিমানের অবস্থান চিহ্নিত করতে বিলম্ব হয়। উদ্ধার অভিযানের শুরুতেই পানিতে ভাসতে থাকা বিধ্বস্ত বিমানের কিছু ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়। পরে খুলনা থেকে এসে উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয় নৌবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। রাত প্রায় ৪টা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এরপর অভিযান স্থগিত করা হয়। সোমবার সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে নৌ-বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ফের এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

এর আগে রোববার রাতে বিকট শব্দে বিমান বুকভরা বাওড়ের মধ্যে পড়ে যাওয়ায় এলাকাবাসীও সেখানে ভিড় করেন। বাওড়ের পাড় জুড়ে এলাকাবাসী অবস্থান নেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও এলাকায় অবস্থান নেন। রাত হলেও এলাকার শত শত মানুষ বাওড়ের পাড়ে ভিড় করেন।