বেনাপোলে বিজিবি মহাপরিচালক> ‘বর্ডার সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড রেসপন্স সিস্টেম’ সীমান্ত সুরক্ষায় নতুন দিগন্তের সূচনা হবে

শেখ কাজিম উদ্দিন, বেনাপোল>

চোরাচালান, নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধে ‘বর্ডার সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড রেসপন্স সিস্টেম’ সীমান্ত সুরক্ষায় নতুন দিগন্তের সূচনা হবে বলে মন্তব্য করেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম। গতকাল সোমবার যশোরের বেনাপোল-পুটখালী সীমান্ত এলাকা ও ‘বর্ডার সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড রেসপন্স সিস্টেম’ ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ মন্তব্য করেন।
সাফিনুল ইসলাম বলেন, বেনাপোলের পুটখালী সীমান্ত দুর্গম এলাকা হওয়াতে এ সীমান্ত পথে চোরাচালান ও নারী-শিশু পাচার কার্যক্রম চলতো। এসব প্রতিরোধে ইতোমধ্যে তারা বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ৮ দশমিক ৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে পরীক্ষামূলক ‘ক্রাইম ফ্রি জোন’ এলাকা হিসাবে নির্বাচন করেছেন। এতে এ সীমান্ত পথে চোরাচালান ও পাচার কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে। ভালো সফলতা পেলে আগামীতে আরও কয়েকটি সীমান্তে ক্রাইম ফ্রি জোনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, চোরাচালান প্রতিরোধে সীমান্তে বসবাসরত জনসাধারণকে সচেতন করার কাজ করে যাচ্ছে বিজিবি। এছাড়া অপরামূলক কর্মকান্ড প্রতিরোধে সীমান্তে সড়ক পথ নির্মাণে সড়ক বিভাগের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। সীমান্তে প্রথমবারের মতো ‘বর্ডার সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড রেসপন্স সিস্টেম’ বাস্তায়নের ফলে সীমান্ত সুরক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে। সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে সব ধরনের চোরাচালান ও অপরাধ প্রতিরোধে এ ব্যবস্থা কার্যকর হবে। এর আগে তিনি বেনাপোল চেকপোস্ট নোম্যান্সল্যান্ড এলাকা পরিদর্শন করেন। ভারতের পেট্রাপোল ক্যাম্পের সীমান্তরক্ষী বিএসএফের পক্ষ থেকে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এসময় প্রশাসনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ছিল।
এসময় উপস্থিত ছিলেন- বিজিবি’র খুলনা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল তৌহিদুল ইসলাম, আরআইবিসিও লেফটেন্যান্ট কর্নেল খবির উদ্দিন, ৪৯ ব্যাটালিয়ন বিজিবির সিও লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল হক, প্রমুখ।
বিজিবি সূত্র জানায়, ‘বর্ডার সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড রেসপন্স সিস্টেম’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তবর্তী ৩৯৯ কিলোমিটার এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্পর্শকাতর ওই এলাকাজুড়ে বিজিবির নজরদারি নিশ্চিত করতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ‘বর্ডার সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড রেসপন্স সিস্টেম’ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে থার্মাল ক্যামেরা, ভিডিও ক্যামেরা, রাডার, সেন্সরযুক্ত বিভিন্ন যন্ত্র ও সমন্বিত যোগাযোগ নেটওয়ার্ক বর্ডার সার্ভেইল্যান্স এর পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুততম সময়ের মধ্যে দুর্গম সীমান্তে ‘রেসপন্স টিম’ পৌঁছানোর লক্ষ্যে যেকোনো ধরনের স্থল সীমান্তে চলাচল উপযোগী ‘অল টেরেইন ভেহিকেল’ এবং দুর্গম জল/নৌ সীমান্তের জন্য হাইস্পিড বোট সরবরাহ করা হবে।
এসবের মাধ্যমে নেটওয়ার্কভুক্ত সীমান্তে সংশ্লিষ্ট ‘কমান্ড’ পর্যায় থেকে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি করা সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্ট ইউনিট ছাড়াও কেন্দ্রীয়ভাবে সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম এর মাধ্যমে সীমান্তের নজরদারির লক্ষ্যে বিজিবি সদর দপ্তর, পিলখানায় সর্বাধুনিক ‘কমান্ড সেন্টার’ স্থাপন করা হয়েছে। এ ব্যবস্থায় মাদক, অস্ত্র, সব ধরনের চোরাচালান ও সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বিশেষ সহায়ক হবে।
চিহ্নিত স্পর্শকাতর ও ঝুঁকিপূর্ণ ৩৯৯ কিলোমিটার সীমান্ত আগামী ৩ বছরের মধ্যে সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে যশোরের পুটখালীর ৭ কিলোমিটার স্পর্শকাতর সীমান্তে ‘বর্ডার সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড রেসপন্স সিস্টেম’ স্থাপনের কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ সীমান্তের ১০ কিলোমিটার এলাকায় এই সিস্টেম স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। আগামী বছর নাগাদ কক্সবাজার জেলার অধিকাংশ সীমান্ত এলাকা, নওগাঁর হাপানিয়া সীমান্ত, দিনাজপুরের হিলি এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী চরাঞ্চলে ‘বর্ডার সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড রেসপন্স সিস্টেম’ স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করা হবে।
এছাড়া সীমান্তের চেকপোস্টগুলোতে নিরাপত্তা ও নজরদারি বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বেনাপোল ও হিলি চেকপোস্ট বিজিবির সিসিটিভি নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সীমান্তের সব চেকপোস্ট একইভাবে সিসিটিভি নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকায় ‘সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড রেসপন্স সিস্টেম’ স্থাপন সম্পন্ন হলে সীমান্ত অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে।