ঘর পাওয়া গৃহহীনের কাছে চাঁদাবাজি, মহেশপুরে আটক ২

নিজস্ব প্রতিবেদক,মহেশপুরঃঝিনাইদহের মহেশপুরে সরকারের গৃহহীন মানুষের ঘর নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজিকালে ঈমান আলী (৫০) ও গৌরচন্দ্র দাস (৪৫) নামের দু’জনকে ৩৮ হাজার টাকাসহ আটক করা হয়েছে। গত বুধবার রাত ১০টার দিকে পৌর মেয়র আব্দুর রশিদ খান তাদেরকে টাকা সহ ধরে পুলিশে সোপর্দ করে।
এঘটনায় সরকারের পক্ষে পৌর মেয়র আব্দুর রশিদ খান বাদী হয়ে ৩ জনকে আসামি করে বৃহস্পতিবার সকালে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনা অনুযায়ী নিজস্ব তহবিল থেকে গৃহহীন দুস্থ মানুষের জন্য ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হবে। সরকারের সেই প্রতিশ্র“তি অনুযায়ী মহেশপুর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় ঘর নির্মাণ শুরু হয়। মহেশপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কর্মচারী মনিরুল ইসলাম এ প্রকল্পের দেখভাল করছেন। পৌর এলাকার ১১টি পরিবারের কাছ থেকে প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কর্মচারী মনিরের কথা বলে অফিসের মালামাল বহনকারী আলম সাধু চালক ঈমান আলী ১১টি পরিবারের কাছ থেকে ঘর নির্মাণের কথা বলে ৩৮ হাজার টাকা আদায় করে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেরুন্নেছা জানান, সরকারের দেওয়া ফ্রি ঘর নির্মাণ বাবদ কারোর কোন টাকা নেওয়া সুযোগ নোই। যে ব্যক্তি আদায় করতে যেয়ে ধরা পড়েছে সে আমাদের অফিসের কেউ না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, সরকার সেখানে অসহায় গরীবের গৃহহীন মানুষের জন্য ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছে যেখানে কিভাবে ঘর নির্মাণের জন্য টাকা নেয় আমার জানা নেই। তবে এর পিছনে কোন ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।
মামলার বাদী পৌর মেয়র আব্দুর রশিদ খান জানান, আওয়ামী লীগ সরকার যেখানে অসহায় গৃহহীন মানুষের জন্য ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছে কিন্তু সেখানে ঘর নির্মাণের অজুহাতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কর্মচারী মনির হোসেন তাদের পরিবহন চালক ঈমান আলীকে দিয়ে ঘর প্রতি ১০ হাজার টাকা করে আদায় করছে। যা গত বুধবার রাতে ৩৮ হাজার টাকাসহ আলমসাধু চালক ঈমান আলী ও গৌরচন্দ্র দাসকে টাকাসহ ধরে পুলিশে দেওয়া হয়েছে।
মহেশপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লস্কর জায়াদুল হক জানান, ৩৮ হাজার টাকাসহ দু’জনকে আটক করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার পৌর মেয়র আব্দুর রশিদ খান বাদী হয়ে ৩ জনকে আসামী করে একটি মামলাও দায়ের করেছেন।
তিনি আরও জানান, টাকাসহ আটক দু’আসামীকে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝিনাইদহ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।