‘২০১৪-এর চেয়েও এবারের বিদায় বেশি কষ্টের!’

ক্রীড়া ডেস্ক>
২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল ব্রাজিল। নিজেদের ঘরের মাটির সেই হার পুরো ব্রাজিলকে ঢেকে দিয়েছিল জাতীয় শোকের চাদরে! উচ্ছ্বাসের ‘হলুদ’ রূপ বদলে হয়ে যায় বেদনার ‘নীল। এবার প্রত্যাশা ছিল সেই পুড়িয়ে খাক করা বেদনার সেই ‘নীল’কে আবার উন্মাদনার ‘হলুদ’ বানানোর। কিন্তু এবার আরও এক সিঁড়ি আগে, মানে কোয়ার্টার ফাইনালেই বিদায়। ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার পওলিনহো বললেন, এবারের বিদায়টা তাদের জন্য ২০১৪-এর হরিজেন্তো-ট্র্যাজেডির চেয়েও অনেক বেশি কঠিন। বেলজিয়ামের কাছে হেরে এভাবে বিদায় নেওয়াটা খুবই কষ্ট দিচ্ছে তাদের। কিছুতেই মানতে পারছেন না।
মানতে না চাইলেও মেনে তাদের নিতেই হচ্ছে। কারণ, এটাই এখন বাস্তবতা। যে বাস্তবতাই পওলিনহোকে দাহ করছে ২০১৪-এর চেয়েও বেশি। ৪ বছর আগের সেই জার্মান-ধাক্কার দিনও ব্রাজিলের হলুদ জার্সির সৈনিক ছিলেন পওলিনহো। ম্যাচ শেষে মাঠেই কাঁদতে হয়েছিল মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে। বার্সেলোনা মিডফিল্ডার এবারের বেলজিয়ান-ধাক্কারও প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী। তো ৪ বছর আগে-পরের দুই হারকে কষ্টের দাঁড়িপাল্লায় তুলে পওলিনহোর কাছে এবারের বিদায়কেই ভারী মনে হচ্ছে। কেন?

কারণটাও যুক্তি সংগতই। ৪ বছর আগের সেই ম্যাচে ব্রাজিলকে মাঠে নামতে হয়েছিল দলের সেরা দুই খেলোয়াড় নেইমার ও থিয়াগো সিলভাকে ছাড়াই। কোয়ার্টার ফাইনালে গুরুতর চোট পেয়ে ব্রাজিলিয়ানদের স্বপ্ন-সারথি নেইমারের আশ্রয় হয় হাসপাতালে। অধিনায়ক থিয়াগো সিলভা খেলতে পারেননি কাড-খড়্গে কাটা পড়ে। এদিক দলের সেরা দুই স্তম্ভের অনুপস্থিতি। অন্যদিকে নিজেদের ঘরের মাটির বিশ্বকাপ বলে ব্রাজিলিয়ানরা হয়ে পড়েছিলেন খুবই আবেগি।

সেদিন এই দুইয়ের প্রভাবই ছিল তাদের মাঠের খেলায়। পারফরম্যান্স ছিল ছন্নছাড়া। ম্যাচের শুরুতেই গোল হজম করায় এলোমেলো হয়ে যায় সব পরিকল্পনা। সেই ধাক্কায় হজম করতে হয় একের পর এক গোল। সেই কষ্ট মুছে ফেলার শপথ নিয়েই এবারের জন্য তৈরি হয়েছিলেন ব্রাজিলিয়ানরা। জার্মানির কাছে সেই ৭-১ গোলের হারকেই করেছিলেন রাশিয়ায় শিরোপা জয়ের অনুপ্রেরণা। ৪ বছর ধরে নিজেদের তৈরিও করেছিলেন সেভাবেই। লক্ষ্য ছিল একটাই, রাশিয়ায় বিশ্বকাপ জিতে ২০১৪’র সেই কষ্ট-বেদনা ধুয়ে ফেলা।

কিন্তু ফুটবল দেবতার অদৃশ্য হস্তক্ষেপে এবারও সেই ব্যর্থতারই গল্প। এবারের কষ্টটা আরও বেশি। কারণ, ২০১৪ সালের মতো এবার আর মুষড়ে পড়েনি ব্রাজিল। প্রথম দিকেই দুই গোল হজম করার পরও বরং নেইমার, কুতিনহো, ডগলাস কস্তা, সিলভা, মার্সেলোরা প্রানপণ লড়াই করে গেছেন ম্যাচের শেষ মিনিট পর্যন্ত। পওলিনহোর ভাষায়, লড়াই করেছেন তারা ম্যাচের শেষ সেকে- পর্যন্ত।

এই যে নিজেদের উজাড় করে দিয়ে লড়াই করার পরও শেষ পর্যন্ত সেই বেদনার হার, পওলিনহোকে বেশি পোড়াচ্ছে এই বিষয়টিই। ব্রাজিলের এক টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দুই কষ্টের তুলনা করে পওলিনহো বলেছেন, ‘আমার জন্য, দুটি হারই খুব কঠিন। ভীষণ কষ্টের। এবারের পরিস্থিতিও ২০১৪-এর মতোই জটিল। তবে আমার মতে, এবারের বিদায়টা আরও বেশি কষ্টের।’

কারণটা ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে, ‘বিশেষ করে আমরা যেভাবে বাদ পড়লাম। আমরা শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়াই করেছি। এটা ছিল এমন একটা ম্যাচ, যখন আমরা সব দিক থেকেই তাদের চাপে রেখেছি।’

এটা শুধু পওলিনহোর একার কথা নয়। ব্রাজিলের প্রতিটি খেলোয়াড়দের কষ্টের অনুভূতিটাই যেন ফুটিয়ে তুলেছেন পওলিনহো।