অনিয়মের প্রতিবাদে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে আল্ট্রাসনো কক্ষে তালা

নিজস্ব প্রতিবেদক>
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আল্ট্রাসনো কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। সেখানে দায়িত্বরত রেডিওলজিস্ট ডা. সাজ্জাদ কামাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০ টা পর্যন্ত কর্মস্থলে না আসায় শফিকুল আলম পারভেজ রোগীর এক স্বজন ক্ষুব্ধ হয়ে কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। তবে ১০/১২ মিনিট পরেই তালা খুলে দেয়া হয়। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু জানান, সরকারি প্রতিষ্ঠানে বহিরাগত কেউ তালা ঝুলিয়ে দেয়ার নিয়ম নেই। এটা রীতিমতো অন্যায় । তার কাছে অনিয়মের অভিযোগ করলে তিনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন। তালা ঝুলিয়ে দেয়ার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।
শফিকুল আলম পারভেজ জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকাল ৯ টার দিকে তিনি আল্ট্রাসনো করার জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে যান। এই সময় সেখানে চিকিৎসক হাসপাতালের রেডিওলজিস্ট ডা. সাজ্জাদ কামাল কক্ষে ছিলেন না। তারমতো একাধিক রোগী সেখানে অপেক্ষা করছিলেন। সকাল সাড়ে ১০ টা পর্যন্ত দায়িত্বরত চিকিৎসক না আসায় তিনিসহ আরো কয়েকজন রোগীর স্বজন ক্ষুব্ধ হয়ে আল্ট্রাসনো কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন। অপেক্ষায় থাকা রোগীরা ধৈর্যহারা হয়ে অনিয়মের প্রতিবাদ করেছেন মাত্র।
হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট রেডিওগ্রাফার মৃত্যুঞ্জয় রায় জানান, আল্ট্রাসনো কক্ষে তালা না দেয়ার জন্য শফিকুল আলম পারভেজকে একাধিকবার অনুরোধ করা হয়েছে। তিনি না শুনে কক্ষ থেকে কর্মচারিদের বের করে দিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। তিনি কর্মচারিদের সাথে মারমুখি আচরণও করেন। তার কর্মকান্ডে হাসপাতালে আতংক ছড়িয়ে পড়ে।
হাসপাতালের রেডিওলজিস্ট ডা.সাজ্জাদ কামাল জানিয়েছেন, তিনি হজ ক্যা¤ে সিভিল সার্জনের সাথে দায়িত্ব পালনে ছিলেন। যে কারণে হাসপাতালে পৌঁছাতে দেরি হয়েছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম কালাম আজাদ লিটু জানিয়েছেন, আল্ট্রাসনো বিভাগে দায়িত্বরত ডা. সাজ্জাদ কামাল কর্মস্থলে অনুপস্থিতসহ যদি কোন অনিয়ম হয়ে থাকে সেটা দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রয়েছে। শফিকুল আলম পারভেজ কক্ষে তালা না ঝুলিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করলে অবশ্যই তিনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন। সরকারি প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে শফিকুল আলম পারভেজ অন্যায় করেছেন।