৪ বছর পর ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা >৩ মাসের মধ্যে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ক্যাশ কাউন্টার চালু ও দালাল নিমূর্লের সিদ্ধান্ত

বিল্লাল হোসেন>
আগামী তিন মাসের মধ্যে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ক্যাশ কাউন্টার চালু করা হবে। এছাড়া নিমূল করা হবে দালাল ও প্রতারক। দালালের অবাধ বিচরণ ঠেকাতে হাসপাতালের জন্য নিযুক্ত করা হবে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তার সাথে থাকবে পুলিশ প্রশাসন। বৃহস্পতিবার হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে জেলা হাসপাতাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির আলোচনা সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ৪ বছর পর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির এই সভা অনুষ্ঠিত হলো। হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে বেলা ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত কমিটির আলোচনা চলে। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য। সভায় বক্তব্য রাখেন যশোরের জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল, যশোর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. গিয়াস উদ্দিন, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু, যশোরের সিভিল সার্জন ডা. দিলীপ কুমার রায়, যশোর মেডিকেল কলেজের গাইনী বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. অর্থোপেডিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা.গোলাম ফারুক, যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম রব্বানি, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) যশোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. এমএ বাশার, সমাজ সেবক জহুরুল আলম, সিনিয়র স্টাফ নার্স ফেরদৌসী বেগম, প্রমুখ। প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য বলেন, মানুষ চিকিৎসকদের দেবতা মনে করে। এই বিশ্বাসের মর্যাদা চিকিৎসকদের দিতে হবে। রোগী ও স্বজনদের কাছে আপনাদের আস্থা অর্জন করতে হবে। মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নানা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে চলেছেন। আপনারা সঠিক দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবেন। তিনি আরো বলেন, সরকারি এই হাসপাতালকে ঘিরে দালাল ও প্রতারকচক্র সক্রিয় রয়েছে। এখান থেকে বেরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী ভাগিয়ে নিয়ে কমিশন বাণিজ্য করে। একশ টাকার ওষুধ হয়ে যায় ১ হাজার থেকে ১৫ শ টাকা। তাদের খপ্পরে পড়ে মানুষ প্রতারিত হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, এটা গরিব মানুষের হাসপাতাল। চিকিৎসক কর্মকর্তা কর্মচারিরা যেন রোগীদের প্রয়োজন ছাড়া কোন পরীক্ষা নিরীক্ষার নির্দেশনা দেবেন না। রোগীদের দুর্বলতাকে পূঁজি করে কেউ অর্থ হাতানোর চেষ্টা করবেন না। সকলকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, যশোর মেডিকেল কলেজের নাক কান গলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আখতারুজ্জামান,সার্জারী বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা.এনকে আলম, গাইনী বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা, ইলা মন্ডল, সহকারী অধ্যাপক ডা. মনিকা মোহন্ত, সার্জারী বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আব্দুর রহিম মোড়ল, হাসপাতাল সমাজ সেবা কর্মকর্তা ইতি সেন, সিনিয়র স্টাফ নার্স তাহমিনা খাতুন, প্রমুখ। সভায় উপস্থিতিরা প্রতিমন্ত্রীর কাছে দাবি জানিয়ে বলেন যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ ইউনিট স্থাপনে তিনি যেন জোরালো ভূমিকা পালন করেন। সভা পরিচালনা করেন যশোর মেডিকেল কলেজের অর্থোপেডিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এ এইচ এম আব্দুর রউফ।