‘১০ বছরে বিনামূল্যে ২৯৬ কোটি ৮ লাখ বই বিতরণ’

‘১০ বছরে বিনামূল্যে ২৯৬ কোটি ৮ লাখ বই বিতরণ’

 

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ থেকে ২০১৯ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত ১০ বছরে মোট ২৯৬ কোটি ৭ লাখ ৮৯ হাজার ১৭২টি বই বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

 

সোমবার জাতীয় সংসদে সরকারি দলের এমপি আহসান আদেলুর রহমানের (নীলফামারী-৪) প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এ তথ্য জানান।

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর সংসদের টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

দীপু মনি বলেন, ১০ বছরে মোট ২৯৬ কোটি ৭ লাখ ৮৯ হাজার ১৭২টি বই বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ২৯৫ কোটি ১ লাখ ২০ হাজার ৭৮৪টি পাঠ্যপুস্তক এবং শিক্ষকদের জন্য ১ কোটি ৬ লাখ ৬৮ হাজার ৩৮৮টি শিক্ষক নির্দেশিকা রয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিক্ষানীতি ২০১০ এর আলোকে প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ৩৪০টি পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করা হয়েছে।

এসময় সরকারি দলের সদস্য অসীম কুমার উকিলের প্রশ্নের জবাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন জানান, সারা দেশে মোট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা এক লাখ ৩৪ হাজার ১৪৭টি। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬৫ হাজার ৫৯৩টি।

মোহাম্মদ শহিদ ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর আওতায় ৬৪ জেলায় মৌলিক স্বাক্ষরতা প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে। এ প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত ২৫০টি উপজেলায় ১৫-৪৫ বছর বয়স্ক ৪৫ লাখ নিরক্ষর নারী-পুরুষকে মৌলিক স্বাক্ষরতার কাজ চলমান রয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি-৪ এর সহায়তায় বিদ্যালয় বহির্ভূত ও ঝরে পড়া ৮-১৪ বছর বয়সের ১০ লাখের বেশি শিশুর জন্য সেকেন্ড চান্স এডুকেশন শীর্ষক কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

বেনজীর আহমদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন বলেন, জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ অনুযায়ী ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত চালুকরণের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে যে সমস্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় ভালো ভৌত অবকাঠামো ও পর্যাপ্ত শিক্ষা উপকরণ রয়েছে এ রকম ৮০৭টি বিদ্যালয় ৬ষ্ঠ শ্রেণি, ৭২৩টি বিদ্যালয় ৭ম শ্রেণি এবং ৬৫২টি বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণি চালু করার অনুমতি দেয়া হয়েছে। ওই শিক্ষানীতির আলোকে ৫ম থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রসারিত করার বাস্তবতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মতামত ও সুপারিশের জন্য সচিব, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে গঠিত ১৩ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি কাজ করছে।

মোরশেদ আলমের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমগ্র বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রকল্প চালু করায় শিক্ষার জন্য খাদ্য কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যায়। উপবৃত্তি সংক্রান্ত ওই প্রকল্প চালু ছিল ১৯৯৩-২০০২ সাল পর্যন্ত।