যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে দুর্নীতির তদন্তে দুদক

বিল্লাল হোসেন>
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী ক্রয়ের জন্য ২০১১-১২ অর্থবছরে সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত অর্থ লুটপাটের অভিযোগে তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক আলী আকবর জানান, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় তিনি হাসপাতালে পৌঁছে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন কাগজপত্র খতিয়ে দেখেছেন। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু জানান, তদন্ত কার্যক্রমে শতভাগ সহযোগিতা করা হয়েছে। এদিকে, দুদক তদন্তে আসায় হাসপাতালের সাবেক কর্মকর্তা ডা.একেএম কামরুল ইসলাম বেনুকে নিয়ে আবারো আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ ওই সময় তিনি হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসারের (আরএমও) দায়িত্বে ছিলেন।
দুদক কর্মকর্তা আলী আকবর জানিয়েছেন, যশোর, মাগুরা ও কুষ্টিয়া হাসপাতালে ২০১১-১২ ইং অর্থবছরে ১শ’ ৫১ কোটি টাকা সরকারিভাবে বরাদ্দ আসে। কিন্তু ওই অর্থ দিয়ে এমএসআরসহ বিভিন্ন মালামাল ক্রয়ের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাট করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। দুর্নীতির এই অভিযোগের কপি যায় দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে। এরমধ্যে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে অনিয়মের পরিমাণ বেশি। উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখার মধ্যে দিয়েই গতকাল তিনি তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছেন। মাগুরা ও কুষ্টিয়া হাসপাতালেও অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে তিনি সরেজমিনে যাবেন। দুদক কর্মকর্তা আলী আকবর আরো জানান, তিনি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও স্টোরকিপারের সাথে কথা বলেছেন। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র খতিয়ে দেখেছেন। ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী ক্রয় করার রশিদও খতিয়ে দেখেছেন। ওই সময় তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্বে ছিলেন ডা. সালাউদ্দিন আহম্মেদ ও আরএমও ছিলেন ডা. একেএম কামরুল ইসলাম বেনু । অনিয়মের সত্যতা পেয়েছেন কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ছাড়া তিনি এই মুহুর্তে আর কিছু বলা যাবেনা। তিনি বলেন তদন্ত প্রতিবেদন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেবেন। তারাই পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। হাসপাতালের বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু জানান, ২০১১-১২ অর্থবছরে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্বে ছিলেন ডা. সালাউদ্দিন আহমেদ। ফলে বিষয়টি তিনি অবগত নন। কাগজপত্র দেখে বিস্তারিত বলতে পারবেন। দুদকের ওই কর্মকর্তাকে তদন্তে বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ডা. সালাউদ্দিন আহমেদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, দুদক তদন্তে আসার বিষয়টি তিনি জানেননা। মালামাল ক্রয়ের নামে ওই সময় সরকারি অর্থ লুটপাটের বিষয়ে তিনি জানান, বিষয়টি অন্য একজন কর্মকর্তা দেখভাল করতেন। তাছাড়া বিষয়টি ৭ বছর আগের হওয়ায় এই মুহুর্তে তার কিছু মনে পড়ছেনা। এদিকে হাসপাতালের একটি সূত্র জানিয়েছে, ওই সময় হাসপাতালের আরএমও হিসেবে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করতেন ডা. একে এম কামরুল ইসলাম বেনু। জানা গেছে, তার আরএমও পদের বৈধতা না থাকায় ডাঃ একেএম কামরুল ইসলাম বেনুকে দরপত্র কমিটিতে না রাখার জন্য ২০১২ সালের ৫ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে পরিচালক (প্রশাসন) ডা.মতিউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত একটি আদেশপত্র পাঠানো হয় তৎকালিন তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ সালাউদ্দিন আহমেদের কাছে। যে কারণে তিনি কোন দরপত্র কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে থাকতে পারেননি। আর্থিক দুর্নীতির বিষয়টি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখে দরপত্র কার্যক্রমে তাকে সংশ্লিষ্টতার জন্য তিনি স্বাস্থ্য অধিদফতরে আবেদন করলেও তাকে সুযোগ দেয়া হয়নি। যে কারণে তিনি তৎকালিন তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ সালাউদ্দিন আহমেদ ও ডাঃ ইয়াকুব আলী মোল্যার সময় কোন দরপত্র কমিটিতে থাকতে পারেননি। সকল দরপত্র কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে ছিলেন ডাঃ আলমগীর কবির। স্থানীয় কর্মকর্তার অর্ডারে তিনি (আলমগীর কবির) আরএমও হিসেবে নামমাত্র দায়িত্ব পালন করেছেন। আর ডা. বেনু নিয়ন্ত্রণ করতেন সবকিছু। ২০১১-১২ অর্থবছরের বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে মালামাল ক্রয় বাবদ ব্যয় করেছেন তিনি। দুদক উপপরিচালক তদন্তে আসার পরই তাকে নিয়ে আলোচনা হতে শোনা গেছে। বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য ডা.একেএম কারুল ইসলাম বেনুর মুঠোফোনে কয়েকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে ব্যস্ত আছেন বলে একটি ম্যাসেজ পাঠিয়েছেন।