অভয়নগরের ডলি ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় একজনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক>
যশোর অভয়নগরের ভুগিলহাট গ্রামের দিনমজুর ডলি খাতুন ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় জাকির হোসেন মল্লিক নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড ও অর্থদন্ড দিয়েছে একটি আদালত। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামালার অপর ৪ আসামিকে খালাস দিয়েছে আদালত। বুধবার এক রায়ে যশোর নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক টিএম মুসা এ সাজা দিয়েছেন। সাজাপ্রাপ্ত জাকির হোসেন মল্লিক ভুগিলহাট গ্রামের মৃত দেলোয়ার হোসেনের ছেলে। সরকার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন বিশেষ পিপি এম ইদ্রিস আলী।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি অভয়নগর উপজেলার ভূগিলহাট বিলের একটি সরিষা ক্ষেত থেকে ডলি খাতুন নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার হয়। নিহত ডলির মুখ টেপ দিয়ে বন্ধ ও গলায় ওড়না পেচানো ছিল। দিনমজুর এ নারী চারদিন আগে ৬ ফেব্রুয়ারি বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন। এ ঘটনায় তার মা আবেদা বেগম অপরিচিত ব্যক্তিদের আসামি করে অভয়নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ পরে ডিবি পুলিশ তদন্তের দায়িত্ব পায়। মামলার তদন্তকালে পুলিশ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ ছয়জনকে আটক করে। এরা হলো ভুগিলহাট গ্রামের সাজাপ্রাপ্ত জাকির হোসেন মল্লিক, আব্দুল হাকিমের ছেলে মনিরুল ইসলাম, মরিচা গ্রামের রবিউল শেখের ছেলে রাজু শেখ, মৃত হরমুজ ফকিরের ছেলে নাজমুল ফকির, পোতপাড়া গ্রামের আইয়ুব আলী মোল্লার ছেলে জিয়া মোল্লা ও মোকবুল হোসেনের ছেলে হাদীউজ্জামান।
মামলার দীর্ঘ তদন্ত শেষে আটক আসামিদের দেয়া তথ্য ও স্বাক্ষীদের বক্তব্যে ধর্ষণ ও হত্যার সাথে জড়িত থাকায় ৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে ওই বছরের ১২ আগস্ট আদালতে চার্জশিট জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউর রহমান। চার্জশিটে অব্যহতির আবেদন করা হয় নাজমুল ফকিরের।
এ মামলার স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামি জাকির হোসেন মল্লিকের বিরুদ্ধে অভিযোগে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড, ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন। সাজাপ্রাপ্ত জাকির হোসেন মল্লিক কারাগারে আটক আছে।