যশোরে পুলিশ পরিচয়ে ফের চারজনের কাছ থেকে ছিনতাই

নিজস্ব প্রতিবেদক>
যশোরে পুলিশ পরিচয়ে দিনে দুপুরে ফের ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার বিকেলে শহরের তিনটি স্থানে চারজনের কাছে থেকে সাদা পোশাকে মোটরসাইকেল চালিয়ে চারজনের কাছ থেকে মোবাইল ফোনসেট ও নগদ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এর আগে একইভাবে গত ২৯ জানুয়ারি এবং ২ ফেব্রুয়ারি শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে ১৪ জনের কাছ থেকে মোবাইল ফোনসেট, ল্যাপটপ ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়া হয়েছিল। ছিনতাইয়ের শিকার সকলেই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। কিন্তু এঘটনায় পুলিশের লোক দেখানো তৎপরতা ছাড়া কিছুইকরতে পারেনি। ফলে পার পেয়ে যাচ্ছে প্রতারকরা।
শার্শা উপজেলার শালকোনা গ্রামের আশরাফুল আলমের ছেলে শিহাব হোসেন (২০) অভিযোগ করেছেন, তিনি শহরের ধর্মতলা এলাকার ব্র্যাক অফিসের সামনে আব্দুল হামিদ ইঞ্জিনিয়ার ছাত্রাবাসে থাকেন। শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চাঁচড়া তেতুঁলতলা থেকে প্রাইভেট পড়িয়ে মেসে ফিরছিলেন। তেতুঁলতলার পশ্চিমে বাইলেনে বাইসাইকেল নিয়ে পৌছানো মাত্র কালো রংয়ের হোন্ডা ব্র্যান্ডের একটি মোটরসাইকেলে করে এসে গতিরোধ করে এবং আচমকা চড় থাপ্পড় মারতে থাকে। পরে তার কাছে থাকা ১৯ হাজার টাকা মূল্যের দুইটি মোবাইল ফোনসেট কেড়ে নেয়। তার মানিব্যাগে থাকা মেস চালানোর ৫ হাজার টাকা এবং আইডি কার্ড নিয়ে দ্রুত চলে যায়।
শহরের নীলগঞ্জ সাহাপাড়া এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে সোহান (১৮) অভিযোগ করেছেন, শনিবার বিকেলে তিনি ও তার বন্ধু একই এলাকার শাহাজাহানের ছেলে সজিব সাহাপাড়ার মোড়ে মশিয়ারের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বিকেল ৩টার ৪০ মিনিটের দিকে একটি মোটরসাইকেলে এসে নিজেদের পুলিশ পরিচয় দেয়। তারা বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে পাশের গলির মধ্যে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে দুইজনকে চড়থাপ্পড় মারতে থাকে। পরে তার (সোহানের) পকেট থেকে ৯ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোবাইল ফোনসেট এবং বন্ধু সজিবের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা মূল্যের আরো একটি মোবাইল ফোনসেট কেড়ে নিয়ে দ্রুত চলে যায়।
বাঘারপাড়া উপজেলার ধলগাঁ এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে তানজিল হুসাইন অভিযোগ করেছেন, তিনি যশোরের এমএম কলেজের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র। শনিবার বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে বেজপাড়া থেকে প্রাইভেট পড়িয়ে বাইসাইকেলে করে কলেজের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ষষ্টিতলাপাড়ার আরআরএফ অফিসের কাছে পৌছালে একটি মোটরসাইকেলে করে এসে দুই যুবক নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে দাড় করায়। এরপর চড় থাপ্পড় মেরে তার কাছ থেকে ১৯ হাজার টাকা মূল্যে মোবাইল ফোনসেটটি কেড়ে নিয়ে বলে তুই ফোন করলি ক্যান। তিনি ফোন না করার কথা বললে তাকে বলা হয় ‘থানায় চল সেখানে গিয়ে ফোন দেয়া হবে।’ এই বলে মোটরসাইকেলে করে তারা চলে যায়। তানজিল হুসাইন বাইসাইকেলে করে পিছু নিয়ে চারখাম্বার মোড়ে পৌছানোর পর তাদের হারিয়ে ফেলেন। পরে কোতয়ালি থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন।
যশোরে পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা নতুন নয়। এর আগে দুইদিন শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে মোটরসাইকেল করে এসে দুই যুবক পুলিশ পরিচয়ে বিভিন্ন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মোবাইল, ল্যাপটপ ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এই ঘটনার পর পুলিশ ব্যাপক তৎপর হয়। বিভিন্ন স্থান থেকে সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে আসামি সনাক্তের কাজ করে। কিন্তু পুলিশ ব্যর্থ হয়। সন্দেহভাজন কাউকে আটক করতে পারেনি। সেই রেশ কাটতে না কাটতে ফের গত শনিবার বিকেলে চারজনের কাছ থেকে পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাই করা হলো।
ভুক্তভোগিরা অভিযোগ করেছেন, প্রতারকরা এমন ভাবে সামনে এসে দাঁড়ায় তাদের দেখলে মনে হবে আসল পুলিশ। কোমরে হ্যান্ডক্যাপ, পিস্তল ও ওয়াকিটকি নিয়ে পুলিশ পরিচয় দেয়। তাদের সামনে কোন প্রশ্ন করা হলেই মারতে থাকে। ফলে মার খাওয়ার ভয়ে কোন প্রশ্ন না করে যা চায় তা দিয়ে দিতে হয়। কোতয়ালি থানার সাদা পোশাকধারী পুলিশও মানুষের সাথে একই আচরণ করে । ফলে কারা আসল কারা নকল তা বোঝার উপায় থাকে না।
এ বিষয়ে কোতয়ালি থানা ওসি অপূর্ব হাসান বলেছেন, তিনটি ছিনতাইয়ের সংবাদ শুনেছি। কাউকে আটক করতে পারিনি। তবে চারিদিকে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি চক্রটিকে আটক করার জন্য।