‘স্যার প্রাইমে রোগী দেখবেন, এখানে চলে আসেন’

বিল্লাল হোসেন>
‘এটা সরকারি হাসপাতাল। স্যারকে অনেক রোগী দেখতে হয়। তাই সময় রোগীদের বেশি সময় দিতে পারেননা। স্যারকে যদি আপনি ভালো ভাবে দেখিয়ে ব্যবস্থাপত্র নিতে চান তাহলে এই নেন কার্ড। বিকেল ৫টার পর স্যার প্রাইম ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্সে রোগী দেখবেন। এখানে চলে আসেন।’ বুধবার যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের বর্হিঃবিভাগের ১৪ নম্বর কক্ষে চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক রোগীর হাতে একটি ভিজিটিং কার্ড ধরিয়ে দিয়ে কথাগুলো বলছিলেন কক্ষের সামনের চেয়ারে বসে থাকা শ্যামলী নামে এক নারী ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি ১৪ নম্বর কক্ষে দায়িত্বরত চিকিৎসকের সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কার্ড বিতরণের সময় ওই কক্ষে রোগীর ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছিলেন জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার (ইএমও) ডা. শফিউল্লাহ সবুজ। তবে প্রাইভেট ভিজিটিং কার্ডে তার পদবী লেখা আছে চর্ম,যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ও ডার্মাটো সার্জন।
যশোর সদর উপজেলার রুপদিয়া রেলস্টেশন এলাকার হিমুর স্ত্রী লিপি খাতুন জানান, ব্যবস্থাপত্র নিয়ে তিনি ওই চিকিৎসকের কক্ষ থেকে বের হতেই সামনে চেয়ারে বসে থাকা ওই নারী নিজেকে হাসপাতালের কর্মচারী পরিচয় দিয়ে বলেন ভালো চিকিৎসা পেতে চাইলে স্যারের ব্যক্তিগত চেম্বারে যাবেন। এসময় তার হাতে ধরিয়ে দেন ডা. শফিউল্লাহ সবুজের ব্যক্তিগত চেম্বারের ভিজিটিং কার্ড। পরিচয় গোপন করে ওই কক্ষের সামনে অবস্থান করে দেখা গেছে, চিকিৎসকের সহকারী শ্যামলী একাধিক রোগীর হাতে ভিজিটিং কার্ড ধরিয়ে দিয়ে প্রাইভেট চেম্বারে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। আছিয়া খাতুন, মনিরা আক্তার একই কথা জানান। হাসপাতালের প্রশাসনিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শ্যামলী আক্তার গত ১ মার্চ আয়া হিসেবে সরকারি এই হাসপাতালে কাজের সুযোগ পেয়েছেন। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক নিজ উদ্যোগে তাকে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছেন। সূত্র জানায়, এখানে দায়িত্ব পালনের কয়েকদিনের মধ্যেই বহিরাগত ওই কর্মচারী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীকে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। ডাক্তার শফিউল্লাহ সবুজ কক্ষে ঢোকার আগেই তার কাছে দিয়ে যান একাধিক ভিজিটিং কার্ড। তাদের ব্যক্তিগত বাণিজ্যের ধান্দায় চিকিৎসাসেবা থেকে রোগীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। আর আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন রোগী ও তাদের স্বজন। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু বলেন, সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করে রোগীকে চিকিৎসকের ব্যক্তিগত চেম্বারে যাওয়ার পরামর্শ দেয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হবে।