যশোরে ওয়েল্ডিং শ্রমিক সাজু হত্যা মামলার আসামিরা অধরা

নিজস্ব প্রতিবেদক>
আটক হচ্ছে না যশোরের ওয়েল্ডিং শ্রমিক নয়ন চৌধুরী সাজু হত্যা মামলার কোন আসামি। গত শুক্রবার নিহতের বড় ভাই রতন চৌধুরী রাজু ৪জনকে আসামি করে কোতয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। গত তিনদিনেও আসামিরা আটক না হওয়ায় নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
পরিবারের দাবি আসামিরা সরকার দলীয় নেতাদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে আছে। যে কারণে পুলিশ তাদের আটক করছে না। এই সুযোগে দেশের বাইরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কয়েকজনের।
আর পুলিশের দাবি আসামিরা পলাতক। ঘটনার পরপরই আসামিরা এলাকা ছাড়া। সে কারণে তাদের আটক করা যাচ্ছে না।
নয়ন চৌধুরী সাজু হত্যা মামলার প্রধান আসামি জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছালছাবিল আহমেদ জিসান শহরের পুরাতন কসবা মিশন পাড়ার হাফিজ আহমেদের ছেলে। মামলার অপর আসামিরা হলেন, সদর উপজেলার হামিদপুরের খায়রুলের ছেলে পাভেল, শহরের মিশন পাড়ার ছোট খোকনের ছেলে রাব্বি ও খোকনের ছেলে রনি। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানাগেছে, নিহতের পিতা স্বপন চৌধুরীর কাছে ছালছাবিল আহমেদ জিসান দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। স্বপন চৌধুরীর উপশহর ট্রাক টার্মিনালে একটি আর বিমান অফিস মোড়ে অপর একটি ওয়েল্ডিং এর দোকান আছে। বিমান অফিস মোড়ের দোকানটি পরিচালনা করতো স্বপনের দুই ছেলে সাজু ও রাজু। গত ১৩ মার্চ আসামি জিসান মোবাইল ফোনে স্বপন চৌধুরীর কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তার দুই ছেলের মধ্যে একজনের রাতের মধ্যে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়।
ঘটনার রাতে সাজু তার বড় ভাই রাজুর জন্য ওষুধ কেনার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। বাড়ির অদূরে পাভেল পেছন থেকে একটি মোটরসাইকের নিয়ে এসে সাজুর গতিরোধ করে। এবং জিসান ভাইয়ের এলাকায় ব্যবসা করতে হলে চাঁদা দিতে হবে এমন মন্তব্য করে। তখন দুইজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। সে সময় রাজুও পৌছান। অপর আসামিরাও সেখানে পৌছে দুই ভাইকে মারপিট করে। সাজুর অবস্থা খারাপ হলে তাকে রাতেই যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কিছুক্ষণ থাকার পর তাকে বাড়িতে নেয়া হয়। পরদিন ১৪ মার্চ অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফের হাসপাতালে নেয়া হয়। ওইদিন সন্ধ্যার দিকে সাজু মারা যান।
এই ঘটনার পর পুলিশ মিশন পাড়ায় আসামি জিসানের বাড়িতে যায়। কিন্তু তাকে পায়নি। অপর আসামিরা পালিয়ে যায়। তাদের আটক করতে পারেনি পুলিশ।
এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতয়ালি থানার এসআই আমিরুজ্জামান জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে। কিন্তু কাউকে পায়নি। আসামিরা দেশ ছাড়তে পারে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে পুলিশ সতর্ক আছে। আসামি আটকের জন্য সব ধরনের চেষ্টা করা হচ্ছে।