ট্রাঙ্কে পাওয়া নবজাতকের পিতৃপরিচয় মিলেছে

ট্রাঙ্কে পাওয়া নবজাতকের পিতৃপরিচয় মিলেছে

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে ট্রাঙ্ক থেকে উদ্ধার সেই নবজাতকের পিতৃপরিচয় পাওয়া গেছে।

নবজাতকের পিতা রনি মোল্লা বিশ্ববিদ্যালয়েরই মার্কেটিং বিভাগের ৪৩তম ব্যাচে শহীদ সালাম-বরকত হলের আবাসিক ছাত্র।

গতকাল শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে এক ছাত্রীর সন্তান প্রসব, ট্রাঙ্কে লুকিয়ে রাখা, সেখান থেকে উদ্ধার ও পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু নিয়ে ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই ছাত্রীর প্রেমিক হিসেবে রনি মোল্লাকে চিহ্নিত করতে থাকেন বিভিন্নজন। ব্যাপক সমালোচনার মুখে রোববার দুপুরে ‘শুধুই জাহাঙ্গীরনগর’ নামে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের একটি ক্লোজড ফেসবুক গ্রুপে রনি মোল্লা স্ট্যাটাস দিয়ে দাবি করেন, ‘ওই ছাত্রীর সঙ্গে তার বৈবাহিক সম্পর্ক রয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক মুজিবর রহমান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘নবজাতক প্রসবকারী ছাত্রীর সঙ্গে রনি মোল্লার বৈবাহিক সম্পর্ক ছিল বলে আমাদের কাছে ছাত্রীটির বড় বোনও দাবি করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমি এটা ওই ছাত্রীর বড় বোনের বরাত দিয়েই বলছি। কিন্তু, তারা সত্যিই বিবাহিত কিনা তা আমাদের তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখবে।’

এদিকে, সত্যতা জানতে রনি মোল্লার ব্যবহৃত মুঠোফোন নাম্বারে একাধিকবার ফোন দিলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে। আর এনাম মেডিকেলে চিকিৎসাধীন থাকায় নবজাতক প্রসবকারীর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

তবে, ওই ছাত্রীর একাধিক সহপাঠী জানিয়েছেন, ওই ছাত্রীর সন্তানসম্ভবার কথা তারা কখনই জানতেন না। এমনকি রুমমেটের কাছেও তিনি কখনও বিষয়টি বলেননি।

বিবাহিত হয়ে থাকলে গর্ভধারণ নিয়ে গোপনীয়তা ও প্রসবের পর ওই ছাত্রী নবজাতককে কেন ‘হত্যা’র উদ্দেশে ট্রাঙ্কে লুকিয়ে রেখেছিলেন, তা এখনও রহস্যই রয়ে গেছে।

সন্তান প্রসবের ঘটনা সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ওই ছাত্রীর রুমমেট ও আশেপাশের কক্ষের শিক্ষার্থীরা তার প্রসব বেদনার কথা জানতে পারেন। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে জানালে নার্স এসে তাকে এনাম মেডিকেল কলেজে নিতে বলেন। কিন্তু, এর আগেই সন্তান ভূমিষ্ট হলেও কাউকে না জানিয়ে ট্রাঙ্কে তালাবদ্ধ করে রাখেন তিনি।

এক পর্যায়ে ওই ছাত্রীকে এনাম মেডিকেলে নেয়ার পর তার কক্ষে নবজাতকের কান্নার আওয়াজ পান অন্য শিক্ষার্থীরা। খোঁজাখুজি করে কক্ষে থাকা ট্রাঙ্কের তালা ভেঙে নবজাতককে উদ্ধার করে হল প্রশাসন।

পরে নবজাতককে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে এনাম মেডিকেল পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১০টার দিকে নবজাতকটির মৃত্যু হয়।

নবজাতকের মৃত্যু সম্পর্কে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মুজিবর রহমান বলেন, ‘অবহেলার কারণেই নবজাতকটি মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রেগন্যান্সির সময় যেভাবে কেয়ার নেয়ার দরকার ছিল, তার কিছুই করা হয়নি। এরপর প্রসবের পর তাকে ট্রাঙ্কবন্দি করে রেখেছে। এসব কারণেই হয়তো বাচ্চাটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।’

নবজাতক ট্রাঙ্কে লুকিয়ে রাখার ঘটনায় অপরাধ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তথ্য গোপন করাটা অপরাধ। এই ঘটনা তদন্তে হলের সহকারী আবাসিক শিক্ষক রাবেয়া খাতুন তানিয়াকে প্রধান করে চার সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।’