মায়ের সঙ্গে কথা বলতে বলতেই লুটিয়ে পড়েন হামজা

মায়ের সঙ্গে কথা বলতে বলতেই লুটিয়ে পড়েন হামজা

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদে শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করতে গিয়েছিলেন ১৬ বছর বয়সী হামজা। সঙ্গে ছিলেন বাবা খালেদ (৪৪) এবং ১৩ বছর বয়সী ছোট ভাই জাইদ। নামাজের মধ্যে যখন হামলাকারী গুলি চালাতে থাকে তার কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘরে থাকা মা সালওয়া মুস্তফাকে ফোন করেন হামজা।

রোববার সালওয়া হাসপাতালে স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ফোনে তার ছেলে হামজা তাকে বলেন, ‘মা, কেউ একজন মসজিদের ভেতর আসছে এবং সে আমাদের লক্ষ্য করে গুলি করছে। আর সে (হামজা) তার ভাইকে (জাইদ, যার পায়ে গুলি লেগেছে) নিয়ে পালানোর চেষ্টা করছে।’

তিনি বলেন, ‘এর পর আমি শুধু গুলি ও তার চিৎকারের শব্দ শুনতে পাই। তার পর আমি তার কোনো আওয়াজ শুনতে পাইনি।’

সালওয়া বলেন, ‘আমি হামজা, হামজা বলে ডাকি, কিন্তু খুব ক্ষীণ কণ্ঠ শুনতে পাই এবং এক পর্যায়ে পুরোপুরি নীরব হয়ে যায়।’

এর পর সালওয়া তার ছেলের সঙ্গে ২২ মিনিট ধরে কথা বলার চেষ্টা করেন।

তিনি বলেন, ‘তার ফোন চালু ছিল, কিন্তু আমি তার সঙ্গে কথা বলতে পারিনি। এক পর্যায়ে কেউ একজন ফোনটি রিসিভ করেন এবং আমাকে বলেন, আপনার ছেলে বেঁচে নেই।’

ইতোমধ্যে তার স্বামীও গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন।

ক্রাইস্টচার্চের হাসপাতালে, যেখানে তার ছেলে জাইদ চিকিৎসাধীন, যে পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কোনো রকম পালাতে সক্ষম হয়, সালওয়া বলেন, ‘আমাদের জীবন পুরোপুরি ওলট-পালট হয়ে গেল।’

তিনি জানান, হামজা ক্যাশমেয়ার হাইস্কুলের ছাত্র ছিল। খুবই চমৎকার ছেলে।

সালওয়া বলেন, ‘হামজাকে সবাই ভালোবাসতো, সে খুব যত্নশীল ও বিনয়ী ছিল। আমার হামজার মতো পৃথিবীতে আর কিছুই নেই।’

উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ শুক্রবার জুমার নামাজের সময় নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে হামলা চালায় উগ্রবাদী সন্ত্রাসীরা। এতে অন্তত ৫০ জন মুসল্লি নিহত এবং ৬০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।