দ্বিতীয় ধাপে সর্বনিম্ন ভোট পড়েছে ৮.৬৩%

স্পন্দন নিউজ ডেস্ক : চলমান পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে গড়ে প্রথম ধাপের চেয়ে দ্বিতীয় ধাপে আরো কম ভোট পড়েছে।

প্রথম ধাপে ভোট পড়েছিল ৪৩ দশমিক ৩২ শতাংশ। দ্বিতীয় ধাপে ভোট পড়েছে ৪১ দশমিক ২৫ শতাংশ।

এছাড়া প্রথম ধাপে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় সর্বনিম্ন ভোট পড়েছিল সর্বনিম্ন ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ। এ উপজেলায় ২ লাখ ৭৮ হাজার ১৪টি ভোটের মধ্যে ৩৬ হাজার ৬৭০ ভোট পড়েছিল।

দ্বিতীয় ধাপে সর্বনিম্ন ভোট পড়েছে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এ উপজেলায় ১ লাখ ৭০ হাজার ৪৫৯ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১৪ হাজার ৭০৪জন।

মাঠ পর্যায় থেকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ে আসা তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে।

যদিও ভোটের দিন সোমবার বিকেলে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ আশা প্রকাশ করেন যে, প্রথম ধাপের তুলনায় দ্বিতীয় ধাপে ভোট পড়ার হার বেশি হবে।

জানা যায়, দুটি উপজেলায় ১০ শতাংশের কম ভোট পড়েছে। ৩০ শতাংশ বা তার কম ভোট পড়েছে অন্তত ১৩টি উপজেলায়।

অপরদিকে ৭০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে চারটি উপজেলায়। ৬১টি থেকে ৬৯ শতাংশ ভোট পড়েছে ৯টি উপজেলায়।

দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

অপরদিকে সর্বোচ্চ ৭৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ ভোট পড়েছে খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলায়।

দ্বিতীয় ধাপে গত ১৮ মার্চ দেশের ১১৬টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

বুধবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ১১৪টি উপজেলার আংশিক ফলাফল প্রস্তুত করেছে। ওই ফলাফলে বাঘাইছড়ি উপজেলায় কে নির্বাচিত হয়েছেন তা উল্লেখ করা হয়নি।

প্রাপ্ত ১১৪টি উপজেলার ফলাফলে আরও দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ দলীয় ৭৪ জন, জাতীয় পার্টির ২ জন ও স্বতন্ত্র ৩৮ জন চেয়ারম্যান পদে জয় পেয়েছেন।

যদিও আওয়ামী লীগের ৭৪ জন চেয়ারম্যানের মধ্যে ৫১ জন ভোটের লড়াইয়ে জয় পেয়েছেন। বাকি ২৩ জন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় আগেই জয় পেয়েছিলেন।

প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণ করে আরও দেখা গেছে, সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। এ উপজেলায় ১ লাখ ৭০ হাজার ৪৫৯ ভোটারের মধ্যে ১৪ হাজার ৭০৪ জন ভোটার ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে ৬ হাজার ৪৬২ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ আবু জাহিদ।

এ জেলার জৈন্তাপুর উপজেলায় ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। ১ লাখ ৬ হাজার ৬২২ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১০ হাজার ৬ জন। স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. কামাল আহমদ ৫ হাজার ৬৬০ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

দুটি উপজেলায় ২০ শতাংশের কম ভোট পড়েছে। এর মধ্যে বগুড়া সদর উপজেলায় ১৩ দশমিক ১৩ শতাংশ ও সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় ১৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ ভোট পড়েছে।

বগুড়া সদর উপজেলায় ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৪৫৮ জন ভোটারের মধ্যে ভোট পড়েছে ৫০ হাজার ৮৬১টি। এ উপজেলায় জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের মো. আবু সুফিয়ান। অপরদিকে, গোয়াইনঘাট উপজেলায় ১ লাখ ৭৯ হাজার ৩০২ জন ভোটারের মধ্যে ভোট পড়েছে ২৯ হাজার ৬৩৩টি। এ উপজেলায় জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ফারুক আহমদ।

এছাড়া ২১ থেকে ৩০ শতাংশ ভোট পড়েছে ৯ উপজেলায়। সেগুলো হলো— বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলা ২৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ, ধুনট উপজেলায় ২৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ ও শাজাহানপুর উপজেলায় ২৭ দশমিক ২৬ শতাংশ ভোট পড়েছে।

এছাড়া নওগাঁর মান্দা উপজেলায় ২৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ, পাবনার বেড়া উপজেলায় ২৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ, ঈশ্বরদী উপজেলায় ২৬ দশমিক ৬৩ ও সাঁথিয়া উপজেলায় ২১ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

এছাড়া সিলেটের গোপালগঞ্জ উপজেলায় ৩০ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা ২৭ দশমিক ১৫ শতাংশ ভোট পড়েছে।

এদিকে সর্বোচ্চ ৭৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ ভোট পড়েছে খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলায়। এ উপজেলায় ৩১ হাজার ৮৯৩ জন ভোটারের মধ্যে ২৫ হাজার ৪০৯টি ভোট পড়েছে। এ উপজেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী বিমল কান্তি চাকমা উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

তৃতীয় ধাপে ২৪ মার্চ, চতুর্থ ধাপে ৩১ মার্চ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া পঞ্চম ধাপে ১৮ জুন ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।