যশোরে শ্বশুরবাড়ির রোষানলে বিজিবি সদস্য, অর্ন্তবাস পরা অবস্থায় উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক>
শ্বশুরবাড়ির লোকজনের রোষানলে পড়ে মারপিটের শিকার হয়েছেন এক বিজিবি সদস্য। তাকে মারপিটের পর অর্ন্তবাস পরিয়ে আটকে রাখে তারা। গতকাল যশোরের উপশহর ই ব্লক এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে সামিউল বাসির (৩১) নামের ওই বিজিবি সদস্যকে উদ্ধার করেছে কোতয়ালি থানা পুলিশ। তিনি দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। বর্তমানে রাঙ্গামাটির বরকল ব্যাটালিয়নের ৪৫ বিজিবির সদস্য।
তাকে আটকে রেখে মারপিট করার অভিযোগে সামিউল বাসিরের স্ত্রী যশোরের উপশহরের ই ব্লকের ১৩৬ নম্বর বাড়ির ওসমান গণির স্ত্রী সাদিয়া আফরিন এবং শাশুড়ি রুবিনা ইয়াসমিনের (৪৮) বিরুদ্ধে কোতয়ালি থানায় অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
সামিউল বাসিরের অভিযোগ, ২০১৫ সালের ২০ ডিসেম্বর সাদিয়ার সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের ঠিক ছয় মাস পর ২০১৬ সালের ২০ ডিসেম্বর সাদিয়ার একটি কন্যা সন্তান হয়। ছয় মাস পর সন্তান হওয়ায় তার সন্দেহ হয়। এবং ওই কন্যা সন্তান তার ঔরসের না বলে দাবি করেন। এই নিয়ে স্ত্রীর সাথে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটতে থাকে। ওই সন্তানের প্রকৃত জন্মদাতা কে তা নির্ণয়ের জন্য তিনি দিনাজপুর আদালতে গত বছরের ২৫ নভেম্বর একটি মামলা করেন। এই ঘটনার পর থেকে স্ত্রীর সাথে তার শত্রুতা চলে আসছে। তার স্ত্রী যশোরে তার পিতার বাড়িতে থাকে।
কয়েকদিন আগে রাঙ্গামাটির বরকল ৪৫ ব্যাটালিয়নের পরিচালকের কাছে তার স্ত্রী ফোন দিয়ে জানান তিনি অসুস্থ। এই অবস্থায় ব্যাটালিয়ন থেকে তার ছুটি হলে তিনি সোমবার সকালে যশোরে আসেন এবং একটি আবাসিক হোটেলে ওঠেন। এরপর দুপুর দেড়টার দিকে তিনি উপশহরস্থ শ্বশুরবাড়ি যান। সেখানে যাওয়া মাত্রই তার স্ত্রী ও শাশুড়ি তাকে আটকে রাখে এবং মারপিট করে। তার কাছে থাকা মোবাইল ফোনটি ভেঙ্গে দেয়। তার পকেট থেকে খরচের ১৫ হাজার টাকা নিয়ে নেয়। তার পরনের কাপড় টেনে হিচড়ে ছিড়ে দেয় এবং অর্ধউলঙ্গ অবস্থা করে বাঁশের লাঠি দিয়ে মারপিট করে। মোবাইল ভাঙ্গার আগে তিনি যশোরের পুলিশের কন্ট্রোলরুমে ফোন দেন। পরে পুলিশ বিকেলে ওই বাড়িতে গিয়ে শুধুমাত্র অর্ন্তবাস পরা অবস্থায় সামিউল বাসিরকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন।
এই বিষয়ে কোতয়ালি থানার এএসআই মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, ’টেলিফোনে অভিযোগ পেয়ে উপশহর ই ব্লক এলাকার ১৩৬ নম্বর বাড়িতে গিয়ে বিজিবি সদস্য সামিউল বাসিরকে উদ্ধার করা হয়। সে সময় তার পরনে অর্ন্তবাস ছিল। এবং একটি ঘরে আটক ছিল। তাকে উদ্ধার করে থানায় নেয়া হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত ওসি সাহেব দেবেন। ’