কে হচ্ছেন চৌগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান ?

নিজস্ব প্রতিবেদক>
পঞ্চম চৌগাছা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান? কে হবেন ভাইস চেয়ারম্যান? আর কেই বা হচ্ছেন নারী ভাইস চেয়ারম্যান?
এ আলোচনা এখন চৌগাছার সর্বত্র। ইতিমধ্যেই নির্বাচনের প্রচারণা কার্যক্রম শেষ করে ফেলেছেন প্রার্থীরা। রবিবার সকাল আটটা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট দিয়ে উপজেলার ১ লক্ষ ৭৫ হাজার ৩৬৫ জন ভোটার তাদের শীর্ষ স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন।
চতুর্থ ধাপের এই পঞ্চম চৌগাছা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৩১ মার্চ চেয়ারম্যান পদে লড়াই হবে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যক্ষ ড. মোস্তানিছুর রহমান লাড্ডু এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা এসএম হাবিবুর রহমান (আনারস) প্রতীকের মধ্যে। অন্য কোন প্রার্থী না থাকায় এই দুই প্রার্থীর মধ্যেই লড়াই সীমাবদ্ধ থাকছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্ট গ্রাজুয়েট সম্পন্ন করে চৌগাছার সর্বপ্রথম উচ্চ নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মৃধাপাড়া মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি প্রথমবারের মত কোন নির্বাচনে প্রার্থী হলেও চৌগাছার মানুষের কাছে তিনি একজন শিক্ষক হিসেবে পরিচিত মুখ।
উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন ৭জন প্রার্থী। তারা হলেন বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক দেবাশীষ মিশ্র জয় (মাইক), উপজেলা যুবলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর সিদ্দিকুর রহমান (তালা), সিংহঝুলি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শামছুর রহমান টিয়া (টিউবওয়েল), উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আজাদ রহমান (উড়োজাহাজ), উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক শামীম রেজা (বৈদ্যুতিক বাল্ব), উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগের আহব্বায়ক আসাদুজ্জামান জেমস (চশমা) এবং সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা শহরের ফারহানা টাওয়ারের সত্ত্বাধিকারী জসিম উদ্দিন (বই)।
এদের মধ্যে বর্তমান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান দেবাশীষ মিশ্র জয় উপজেলা যুবলীগের দীর্ঘ দিন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বপালন শেষে ২০১৮ সালে উপজেলা আহ্বায়কের দায়িত্ব পান। এর আগে একবার পৌর কাউন্সিলর নির্বাচন করলেও ২০১৪ সালে প্রথমবারের মত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৮৫ সালে ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে রাজনীতিতে আসা এই তরুণ এবারের নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে অভিজ্ঞ। এছাড়া সিদ্দিকুর রহমান ২০১৫ সালে চৌগাছা পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। তিনি কাউন্সিলর পদ থেকে পদত্যাগ করে নির্বাচন করছেন। এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে কনিষ্ঠ প্রার্থী হয়ে আলোচনায় এসেছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক শামীম রেজা। এছাড়া সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা শহরের ফারহানা টাওয়ারের সত্ত্বাধিকারী জসিম উদ্দিন প্রথমবার প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে সাড়া ফেলেছেন। এছাড়া উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আজাদ রহমান এবং সিংহঝুলি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শামছুর রহমান টিয়া উল্লেখযোগ্য ভোট পাবেন বলে ভোটাররা মনে করেন।
নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন ৫ নারীনেত্রী। তারা হলেন বর্তমানে দ্বিতীয়বার দায়িত্ব পালনকারী নারী ভাইস চেয়ারম্যান উপজেলা যুবমহিলালীগের সভাপতি যশোর জেলা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও জয়বাংলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি আকলিমা টুটুল (হাঁস), উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসম্পাদক কামরুননাহার শাহিন (ফুটবল), উপজেলা যুবমহিলালীগের সহ-সভাপতি রিপা ইসলাম (প্রজাপ্রতি), সম্পাদক নাসিমা খাতুন (কলস) এবং যুগ্ম সম্পাদক নাজমিন নাহার (ফ্যান)।
বর্তমানে দ্বিতীয়বার দায়িত্ব পালনকারী নারী ভাইস চেয়ারম্যান আকলিমা টুটুল (হাঁস) উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও পাশাপোল ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান শহীদ ইমামুল হাসান টুটুলের সহধর্মিনী হিসেবে উপজেলার জনসাধারণের কাছে পরিচিত মুখ। তিনি তৃতীয় ও চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে নারী ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তার স্বামী ইমামুল হাসান টুটুল ২০০৯ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর দূর্বত্তদের ছোড়া বোমা ও গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হন। তখন তার একমাত্র মেয়ে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। একারনে উপজেলার দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের কাছেও সহানুভুতি পাচ্ছেন। শারীরিকভাবে অসুস্থ আকলিমা টুটুল ১ এপ্রিল তার এতিম মেয়ে এইচএসসি পরীক্ষা যেন একটু ভালো মনে দিতে পারে এই অনুরোধ রেখে ভোট প্রার্থনা করায় সাড়া দিচ্ছেন ভোটাররা।
এছাড়া অন্য প্রার্থীরা প্রথমবার নির্বাচন করলেও কামরুন্নাহার শাহিন এর আগে চৌগাছা পৌরসভায় নারী কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নবাগত হলেও সকল প্রার্থীই ছুটেছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে।
চৌগাছা থানার ওসি রিফাত খান রাজীব জানান উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটারদের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য ৮১টি ভোট কেন্দ্রে নিয়োজিত থাকবে ৬ জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট, ৩০টি পুলিশের মোবাইল টিম, ৮০ জন বিজিবি সদস্য, ৪টি র‌্যাবের টহল টিম। নির্বাচনে কেউ বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে কঠোর আইনানুগ ব্যাবস্থ্যা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন চৌগাছায় একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি এ বিষয়ে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফুল আলম জানান, চৌগাছায় কোন ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নেই। নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ সন্ত্রাসমুক্ত এবং নিরপেক্ষ।