মণিরামপুরে মানব পাচার মামলায় আটক ফাতেমার আদালতে স্বীকারোক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক>
যশোর মণিরামপুরের একটি মানব পাচার মামলায় আটক ফাতেমা বেগম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ফাতেমা বেগম মণিরামপুরের তাহেরপুর গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তার স্ত্রী।
আসামি নিলুফা ইয়াসমিন কক্সবাজার থেকে ভালো বেতনে চাকরি দেয়ার কথা বলে এক নারীকে মণিরামপুর তার বাড়িতে নিয়ে আসে। তার স্বামী ও দুই সতীন মিলে ওই নারীকে ভারতে পাচারের পরিকল্পনা করেছিল। এ ঘটনার সাথে তারা ৫/৬ জন জড়িত বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছে ফাতেমা বেগম।
রোববার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক নুসরাত জাবীন নিম্মী আসামির এ জবানবন্দি গ্রহণ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
ফাতেমা বেগম জানিয়েছে, তার স্বামী একদিন তাকে মোবাইলে ফোন করে জানিয়েছিল দুইজন নারী তার বাড়িতে যাবে। গত ১০ মার্চ নিলুফার ইয়াসমিন এক নারীকে সাথে নিয়ে তার বাড়িতে আসে। ওইদিন বিকেলে তার স্বামী মোস্তাফিজুর রহমান ওই দুইজনকে নিয়ে তার সতীনের বাড়িতে যেতে বলে। তার কথামত দুই নারীকে নিয়ে সে তার সতীনের বাড়িতে যায়। এরপর সে জানতে পারে তার স্বামী ও দুই সতীন ওই নারীকে ভারতে পাচার করে নিয়ে যাবে। রাতে নিলুফার জন্য চট্টগ্রাম ফেরার টিকিট আনতে যায় সে। বাড়ি ফিরে জানতে পারে নিলুফারের সাথে আসা নারী পালিয়ে গেছে। এ ঘটনার সাথে স্বামী, দুই সতীনসহ ৫/৬ জন জড়িত বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছে ফাতেমা বেগম।
গত ১০ মার্চ রাতে মণিরামপুর থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাহেরপুর গ্রাম থেকে এক নারীকে উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে মণিরামপুর থানার এসআই প্রশান্ত কুমার দাস বাদী হয়ে মানব পাচার দমন আইনে একটি মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে এজাহারনামীয় আসামি ফাতেমা বেগমকে আটক করে গতকাল আদালতে সোপর্দ করেন। ফাতেমা বেগম ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ওই জবানবন্দি দিয়েছে।