৮ তলা থেকেই আগুন, গণশুনানিতে প্রত্যক্ষদর্শীরা

রোববার সকালে এফআর টাওয়ারের পাশের অস্থায়ী পুলিশ কন্ট্রোল রুমে অগ্নিকাণ্ডের সময় ভবনে যারা কর্মরত অবস্থায় ছিলেন, তাদের নিয়ে গণশুনানি হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি এ গণশুনানি করে।

দুপুরে গণশুনানি শেষে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফয়জুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আমরা মোট ২৪ জনের বক্তব্য রেকর্ড করেছি। তাদের মধ্যে অনেকেই জানিয়েছে আটতলা থেকে আগুনের সূত্রপাত।

তিনি আরো বলেন, আমরা আজ যাদের সাথে কথা বলেছি, তাদের কেউই আটতলায় কর্মরত ছিলেন না। প্রত্যক্ষদর্শীরা ৯, ১০ থেকে ২৩ তলা পর্যন্ত বিভিন্ন ফ্লোরে কাজ করছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ফয়জুর রহমান বলেন, ৯ ও ১০ তলার লোকজন জানিয়েছেন, তারা আগুন লাগার পর নিচে নামতে গিয়ে দেখতে পেয়েছেন যে আটতলায় (লিফটের সাততলা) আগুন জ্বলছে। এ সময় তারা প্রচণ্ড ধোঁয়া দেখতে পান। পরে তারা ওপরের দিকে উঠে পাশের ভবন দিয়ে বের হয়ে আসেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরো জানান, আটতলায় বায়িং হাউজ স্পেক্ট্রা এসেনশিয়াল থেকেই আগুন লেগেছে। আগুন লাগার কারণ হিসেবে তারা বলেছেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে এ আগুন লাগতে পারে।

অতিরিক্ত সচিব বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীরা বললেও আমরা এখনই এই সিদ্ধান্তে যাচ্ছি না যে, আগুন আটতলা থেকেই লেগেছে। আমরা তাদের বক্তব্য শুনেছি, আগামীকাল আটতলার কর্মরতদের বক্তব্য শুনব। এরপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউয়ের ফারুক-রুপায়ণ (এফআর) টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মুহূর্তেই মধ্যে নিভে যায় ২৬ তাজা প্রাণ।

এ ঘটনায় গতকাল শনিবার এফআর টাওয়ারের বর্ধিত অংশের মালিক বিএনপি নেতা তাসভির উল ইসলামকে আটক করে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

এ ছাড়া একই দিন শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে আটক করা হয় ভবনটির জমির মালিক এসএমএইচআই ফারুককেও (৬৫)। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (উত্তর) তাকে আটক করে।