যশোরে বর্ষবরণে যত নান্দনিক আমন্ত্রণপত্র

স্পন্দন নিউজ ডেস্ক :  যশোরে বাংলা নববর্ষ বরণ মানেই, নান্দনিক আমন্ত্রণপত্র তৈরির প্রতিযোগিতা। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও বাহারী নিমন্ত্রণপত্র তৈরি করেছে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো। বাঙালির শেকড় কিংবা যাপিত জীবনের নানা অনুসঙ্গকে প্রাধান্য দিয়েই তৈরি করা হয়েছে আমন্ত্রণপত্র। বর্ষবরণ উৎসবে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে নান্দনিক আমন্ত্রণপত্র।

যশোরের অন্তত ২৫টি সংগঠন বর্ণিল আয়োজনে বর্ষবরণ উদযাপন করবে।

কিভাবে নান্দনিক আমন্ত্রণপত্রের প্রচলন জানতে চাইলে যশোর জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার আলম খান দুলু বলেন, ১৯৮৫ সালে চারুপীঠের উদ্যোগে যশোরে প্রথম নববর্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রা হয়। পরের বছর সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো মঙ্গল শোভাযাত্রার পাশাপাশি বর্ণিল আয়োজনে বর্ষবরণ করে। এরপর উদীচী নান্দনিক আমন্ত্রণপত্র তৈরি করে। পরবর্তীতে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে নান্দনিক আমন্ত্রণপত্র তৈরির প্রতিযোগিতা শুরু হয়। বর্তমানে সেই ধারাবাহিকতা বজায় আছে। সাংস্কৃতিক সংগঠনের বাইরেও বর্তমানে সরকারি দপ্তর, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও নান্দনিক আমন্ত্রণপত্র তৈরি করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে বাঙালির ইতিহাস ঐতিহ্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এবার যত নান্দনিক নিমন্ত্রণপত্র:

তালপাতার চিঠি: সোনালী আঁশ পাটের সুতোয় সেলাই দিয়ে তালপাতার চিঠি তৈরি করা হয়েছে। সেই চিঠিতে লেখা অনুষ্ঠানসূচী। ব্যতিক্রমী এমন উপস্থানায় নবর্ষের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

পোস্ট কার্ড: সময়ের পরিবর্তনে ডাক বিভাগের স্থান দখল করে নিয়েছে মোবাইল ফোন, ইমেইল, ফেসবুকসহ নানা মাধ্যম। ডাক বিভাগের সেই বিলুপ্তপ্রায় ঐতিহ্য সামনে এনেছে উদীচী। তারা এবার কাঠের স্ট্যান্ডে সত্যিকারের পোস্টকার্ডে চিঠির আদলে নিমন্ত্রণপত্র তৈরি করেছে।

সিঁকেই ঝোড়ানো হাঁড়ি: নিমন্ত্রণপত্রের মূল প্রতিপাদ্য সিঁকেই ঝোলানো হাঁড়ি। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী উপজীব্যকে সামনে রেখে আমন্ত্রণপত্র তৈরি করা হয়েছে। এতে প্রাধান্য পেয়ে মৃৎশিল্প, সোনালী আঁশ পাট।

আঁকা ছবিতে পঞ্জিকা: বরাবরের মতো শৈল্পিক উপস্থাপনায় নিজের আঁকা ছবিতে ছাপানো বর্ষপঞ্জী দিয়ে তাদের অতিথিদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

খঞ্জনি: ঐতিহ্যের স্মারক আমাদের অহংকারএই শ্লোগান লেখা কাঠ ও লোহার পাতের তৈরি বাদ্যযন্ত্রখঞ্জনি দিয়ে চাঁদের হাটের এবারের বৈশাখবরণ উৎসবের আমন্ত্রণপত্র।

লাটিম:  তির্যক যশোর তাদের অতিথিদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন আবহমান বাংলার বাংলায় শিশুবেলার খেলার অনুষজ্ঞ বর্তমান নগর জীবনে হারিয়ে যাওয়া লাটিম-সুতলি। কাঠ আর সুতলীতে তৈরি নান্দনিক এ আমন্ত্রণ পত্র সকলের ছেলে বেলায় লাটিম খেলার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

বিয়ের ছাঁদনাতলা: সাংস্কৃতিক সংগঠন শেকড়আমন্ত্রণপত্র তৈরিতে বরাবরের মতো এবারও ব্যতিক্রমী উপস্থাপনা রেখেছে। তারা এবার বিয়ের ছাঁদনা তলা আদলে আমন্ত্রণপত্র তৈরি করেছে। বর-কনেসহ বিবাহ মঞ্চ; আল্পনা ও কলাগাছ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

পুতুল নাচ: আমরা সদা বহমান স্লোগানে যশোর পৌরসভা পরিচালিত ভৈরব সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন অতিথিদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন লোকজ সংস্কৃতি মেলার  অন্যতম অনুষঙ্গ পুতুল নাচসদৃশ্য মঞ্চ দিয়ে।

ব্যতিক্রমী গরুর গাড়ি:  চারুতীর্থ গ্রাম বাংলার আরেক চিরায়ত রূপ গরুর গাড়িআদলে আমন্ত্রণপত্র তৈরি করেছে। সংগঠনের শিক্ষার্থীদের আইসক্রীমের কাঠি দিয়ে এটি তৈরি করা হয়েছে।

কুঁড়েঘর: গ্রাম বাংলার কুঁড়েঘর এখন আর দেখা যায় না। কিন্তু একসময় কুঁড়ে ঘর ছিল অনেকে আশ্রয়স্থল। সেই আবহমান বাংলার কুঁড়েঘরের আদলে বর্ষবরণের আমন্ত্রণপত্র তৈরি করেছে নন্দন যশোর।

জাগরণী চক্র: বাঁশের তৈরি বাবুই পাখির বাসার আদলে আমন্ত্রণপত্র তৈরি করেছে। সেই বাসায় আবার বাতাসা, কদমা, নকুলদানা পাঠানো হয়েছে।

এছাড়াও চারূপীঠ, মাইকেল, কিংশুক, সুরধুনী, স্পন্দন, অগ্নিবীণা, স্বরলিপি, শ্রুতিসহ বিভিন্ন সংগঠন বাহারী আমন্ত্রণপত্র তৈরি করেছে।

যশোর জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ডিএম শাহিদুজ্জামান বলেন, বর্তমানে যশোরের বাংলা নববর্ষের আমন্ত্রণপত্রের নান্দনিকতা ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে। বিশ বছর আগের নববর্ষের আমন্ত্রণপত্র এখনও বিভিন্ন অফিস ও বাসাবাড়িতে শোভা পাচ্ছে। প্রতিবছরই এমন আমন্ত্রণ পেতে উদগ্রীব হয়ে থাকেন সবাই।