২০০ বছরের নির্মাণ কয়েক ঘণ্টায় ছ

স্পন্দন আন্তর্জাতিক ডেস্ক :  ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের বিশ্বখ্যাত নটর ডেম ক্যাথেড্রালের ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। কিন্তু, মাত্র কয়েক ঘণ্টার আগুনে ৮৫০ বছরের পুরনো স্থাপনাটির অনেকাংশই পুড়ে গেছে।

মধ্যযুগীয় নটর ডেম ক্যাথেড্রাল তৈরি করতে সময় লেগেছিল প্রায় ২শ’ বছর। দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ শতক ধরে ক্যাথোলিকদের এই গির্জাটি নির্মাণ করা হয়।

দমকল বাহিনীর এক মুখপাত্র জানান, ক্যাথেড্রালের আগুন এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ৫ শতাধিক দমকলকর্মী এই আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেন।

সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নটর ডেম ক্যাথেড্রালে আগুন লাগে। এতে ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ গির্জাটির সুউচ্চ চূড়াসহ ছাদ ধসে পড়ে।

তবে, দেশটির ফায়ার বিগ্রেডের প্রধান জেন-ক্লাউড গ্যালেট বলেছেন, গোথিক স্থাপত্য শৈলীর নটর ডেম ক্যাথেড্রালের মূল কাঠামো রক্ষা পেয়েছে ও অক্ষত রয়েছে। দৃষ্টিনন্দন দুটি বেল টাওয়ার আগুন গ্রাস করতে পারেনি।

ফ্যান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে ‘ভয়ঙ্কর ট্র্যাজেডি’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জ্বলন্ত নটর ডেম ক্যাথেড্রাল পরিদর্শন করে এটি পুনর্নির্মাণের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।

এখন পর্যন্ত আগুনের কারণ জানা যায়নি। তবে, দমকল কর্মীরা ধারণা করছেন, ক্যাথেড্রালের ওপরের অংশে বেশ কিছুদিন ধরে সংস্কারকাজ চলছিল। সেখানকার কোনো ক্রটির ফলেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

নটর ডেম ক্যাথেড্রাল প্যারিসের ইল ড্য লা সিটিতে অবস্থিত। এটি শহরের অন্যতম দর্শনীয় স্থান। ১২শ’ শতাব্দীতে এই ক্যাথেড্রালের নির্মাণকাজ শুরু হলেও শেষ হতে লেগে যায় প্রায় ২০০ বছর।

ক্যাথেড্রালের খিলান ও বাইরের অংশ গোথিক শিল্প শৈলীতে তৈরি। দৈর্ঘ্য ১২৭ মিটার, প্রস্থ ৪০ মিটার ও ছাদের উচ্চতা ৩৩ মিটার।

৮৫০ বছর ধরে ক্যাথেড্রাল প্যারিসে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে। পর্যটকদের কাছে দেশটির জাতীয় প্রতীক আইফেল টাওয়ারের সমকক্ষই ছিল নটর ডেম ক্যাথেড্রাল।

প্যারিসের মেয়র অ্যানি হিদালগো জানিয়েছেন, নটর ডেম ক্যাথেড্রালের ভেতরে প্রচুর সংখ্যক শিল্পকর্ম রয়েছে। এটি একটা সত্যিকারের ট্র্যাজেডি।

বিখ্যাত ভিক্টর হুগোর ‘দ্য হাঞ্চব্যাক অব নটর ডেম’ ফরাসিদের কাছে নটর ডেম দ্য প্যারিস হিসেবে পরিচিতি এনে দিয়েছিল। এই ক্যাথেড্রালটি সর্বশেষ বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হয়েছিল ফরাসি বিপ্লবের সময়।

তবে, দুটি বিশ্বযুদ্ধের হাত থেকেই নটর ডেম ক্যাথেড্রালকে রক্ষা করা গেছে। প্রতিবছর এখানে ১ কোটি ৩০ লাখ দর্শনার্থী (১৩ মিলিয়ন) আসেন বলে জানোনো হয়েছে।