নিজস্ব প্রতিবেদক, মহেশপুর : ২৩ বছর নিখোঁজ ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার যাদবপুর গ্রামের ময়না খাতুন ওরফে মায়া, ময়না খাতুন ওরফে মায়া যাদবপুর গ্রামের সামছুল হক তালুকদারের মেয়ে। দীর্ঘ ২৩ বছর নিখোঁজ থাকার পরও ২০২৩ সালের ২১ আগস্ট ময়না খাতুন ওরফে মায়ার নামে থাকা ৮৩ নম্বর যাদবপুর মৌজার ৩৪২৮ নম্বর-দাগের ৩.৬৮ শতক জমি যাদবপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে এলাকার ত্রাস বাহিনীর কমন্ডার এলাকার অনেক অপকর্মের হোতা ও সুদে ব্যবসায়ী সাহেব আলী ৬৬৯০ নম্বর দলিলে ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে রেজিস্ট্রি করেছেন। এলাকাবাসীর প্রশ্ন যে ময়না খাতুন ২৩ বছর নিখোঁজ সে কিভাবে দলিল রেজিস্ট্রি করলো। এলাকার অনেক অপকর্মের হোতা ও সুদে ব্যবসায়ী সাহেব আলী মহেশপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক রকিব উদ্দীনের (১১৭) যোগসাজসে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দলিলটি রেজিস্ট্রি করেছেন বলে একটি সূত্রে জানাগেছে। সুদে ব্যবসায়ী সাহেব আলী জমিটি রেজিস্ট্রি করেই ওই জমির উপর একটি বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেন। যা বর্তমানে এলাকার লোকজন বন্ধ করে দিয়েছেন। নিখোঁজ ময়না খাতুন ওরফে মায়ার বড় ভাই ইনছুব আলী খোকন জানান, আমার ছোট বোন ২৩ বছর যাবৎ নিখোঁজ। সে কিভাবে সাহেব আলীর কাছে জমি বিক্রয় করে। সে আরো জানান, সাহেব আলী আমার বোনকে আমাদের সামনে এনে দিক তাহলে আমরা বুঝবো সে জমি বিক্রি করেছে। ময়না খাতুন ওরফে মায়ার মা ফজিলা খাতুন জানান- যে মেয়ে ২৩ বছর নিখোঁজ, সে মেয়ে জমি রেজিস্ট্রি যদি করতেই আসে তাহলে সে মেয়ে আমার সাথে দেখা করতে আসতো। তিনি আরো জানান, সাহেব আলী একজন সত্রাসী। সে আমার মেয়েকে মেরে ফেলে তার জমি জাল দলিল করে নিজের নামে লিখে নিয়েছে। মহেশপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক রকিব উদ্দীন জানান, দলিলটি আমার না দলিলটি মূলত রফিকুল ইসলামের। সে আমার দিয়ে সই করে নিয়েছে। যেহেতু আমরা একই ঘরে কাজ করি, আর সে কারণেই আমি ওই দলিলে সই করেছি। ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোনা মিয়া জানান, আমরা বিষয়টি জানার পর সাহেব আলীকে ডেকে ছিলাম কিন্তু সে আসেনি। থানায় অভিযোগ দেয়ার পর থানায় জমির কাগজপত্র নিয়ে যেতে বললেও সে সেখানে যায়নি। ময়নাকে ১৫ দিনের মধ্যে আমাদের কাছে হাজির করার কথা বললেও নিয়ে আসতে পারেনি। কৃষ্ণপুর গ্রামের সাহেব আলী জানান, আমি ময়না খাতুন ওরফে মায়ার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে ৩.৬৮ শতক জমি কিনেছি। আর দলিল রেজিস্ট্রি করার সময় সেখানে ময়না খাতুনসহ তার সন্তানরাও উপস্থিত ছিলো। ময়না খাতুন বর্তমানে ভারতে থাকেন বলেও জানান জমি ক্রেতা সাহেব আলী। আমি কোনো জাল দলিলের মাধ্যমে জমি ক্রয় করিনি। যাদবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. সালাউদ্দীন জানান, মেয়েটি নিখোঁজ আছে কিনা আমার জানানেই। আর মেয়েটার জমি বিক্রি করেছে কিনা তাও আমার জানা নেই। তার পরও আমি বিষয়টা খোঁজখবর নিয়ে দেখব।