সিরাজুল ইসলাম, কেশবপুর : কেশবপুরে পশ্চিম সারুটিয়ার বরুনা বিলসহ অর্ধশত বিলের পানি সেচ না দেয়ায় বোরো আবাদ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বোরো চাষিরা। বিলের ঘের মালিক মেজবাহ উদ্দিন মিল্টন, শিমুল হোসেন এবং সোহরাব হোসেন যথাসময়ে পানি সেচ না দেয়ায় কৃষকরা বোরো আবাদ নিয়ে এখনো শঙ্কায় রয়েছেন। কেশবপুর উপজেলার বরুনা বিল এলাকার কৃষকরা জানান, বোরো আবাদের লক্ষ্যে প্রতি বছর ৩০ পৌষের মধ্যে বিলের পানি নিষ্কাসনের শর্তে জমি ঘের মালিকদের কাছে লিজ দেয়া হয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বিলের পানি নিষ্কাষণ করতে মাইকিং করা হয়। কিন্তু ওই বিলের ঘের ব্যবসায়ী মেজবাহ উদ্দীন মিল্টনসহ একাধিক ঘের ব্যবসায়ী সরকারের নির্ধারিত সময়ে সেচ না দিয়ে তালবাহানা করছেন। তারা ঘের গুলো ১২ মাস চাষ করার জন্য কৃষকদের সাথে বিলের পানি নিষ্কাশনের নামে প্রতারণা করে চলেছেন। লোক দেখানো কয়েকটি মেশিন সেট করে পানি সেচ না দিয়ে বন্ধ করে রেখেছেন। অপার পার্শের বিলে পানি না থাকায় ঘেরের বাঁধ ভেঙ্গে বোরো ধানের ক্ষেতে চলে আসায় জমির মালিকরা স্বেচ্ছায় বাঁধ সংস্কারের কাজ করছেন বলে জানা গেছে। পানি সেচ কার্যক্রম অব্যহত রাখলে যে কোন মুহূর্তে পানির চাপে ঘেরের বাঁধ ভেঙ্গে বোরো ক্ষেত নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা। কৃষকরা এবিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ বিষয়ে জমির মালিক শফিকুল ইসলাম, পীর আলী বাক্স, আব্দুর রহমান ও খোকন জানান ঘের মালিক মেজবাহ উদ্দিন মিল্টন, শিমুল হোসেন এবং সোহরাব হোসেনের কারণে জমির মালিকরা বোরো চাষ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন। এই জমিতে বোরো চাষ করে সারাবছর পরিবারের চাহিদা পূরন করাসহ তাদের গবাদিপশু পালনে বোরোধানের বিচালি তাদের খুব প্রয়োজন। সেই সাথে ধানের বিচলিকে গরুর খাদ্য হিসাবে ব্যাবহার করে থাকে। ধান চাষ না করতে পারলে তাদের না খেয়ে থাকতে হবে। গবাদি পশু নিয়ে পড়তে হবে বিপাকে। ইতিমধ্যে পানির চাপে বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় কৃষকরা সেচ্ছাশ্রমে সংস্কার করেছি। মূলত ঘের মালিকরা ঘেরটি সারাবছর মাছের চাষ করার জন্য কৃষকের সাথে প্রতারণা করে চলেছেন। ঘের মালিক মেজবাহ উদ্দীন মিল্টন বলেন, একটা মেশিন চলছে। আশাকরি খুব শিঘ্রই কৃষক তাদের জমিতে বোরোধান আবাদ করতে পারবেন। উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন দৈনিক স্পন্দনকে বলেন , চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৪ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বছর পানি কম হওয়ায় আশা ছিলো ধান আবাদের লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। কিন্তু কতিপয় ঘের মালিক যথাসময়ে পানি সেচ না দেয়ায় অনেক কৃষক বোরো চাষ করতে পারছেন না। উপজেলা সমন্বয় মিটিংয়ে এ বিষয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা মৎস্য অফিসার সুদিপ বিশ্বাস দৈনিক স্পন্দনকে বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।