Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

❒যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল

অপারেশন থিয়েটারে ভিকরিল- প্যাথেডিন বাণিজ্য!

এখন সময়: বুধবার, ১০ জুন , ২০২৬, ০৩:০৯:১৯ এম

বিল্লাল হোসেন : যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের অস্ত্রোপচার কক্ষে রোগীকে জিম্মি করে ওষুধ সামগ্রী লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। দায়িত্বরত কতিপয় কর্মচারী স্বাক্ষরবিহীন শর্টস্লিপের মাধ্যমে ভিকরিল (সুতা), প্যাথেডিন, হেক্সিসক্রাব, প্লাস্টার সপ্টরোল বাণিজ্যের সাথে জড়িত। কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা জারি থাকা সত্ত্বেও ফ্রি স্টাইলে এই অনিয়ম করছেন তারা। অসাধুদের কারণে মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।
সূত্র জানায়, বিগত দিনে অস্ত্রোপচার কক্ষের ধান্দাবাজ সিন্ডিকেটের সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে ব্যর্থ হয়েছেন কর্মকর্তারা। বিভিন্ন অনিয়মের সত্যতা পেয়ে সেখানকার কতিপয় কর্মচারীকে অন্যত্র দায়িত্ব দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেও তারা ব্যর্থ হন। কতিপয় চিকিৎসক ওইসব কর্মচারীকে ‘এক্সপার্ট’ আখ্যা দিয়ে অস্ত্রোপচার কক্ষে রেখে দেন। ফলে তিন মাস পর পর বিভিন্ন ওয়ার্ডের ডিউটি রোস্ট্রার পরিবর্তন হলেও অস্ত্রোপচার কক্ষে তা করা হয়না। তারা অজুহাত তৈরি করেন অস্ত্রোপচার কক্ষ থেকে ওই কর্মচারীদের সরিয়ে নিলে চিকিৎসকদের কাজে নানা বেগ পেতে হবে। কারণ ওই কর্মচারীরা এক্সপার্ট হয়ে গেছে। তবে তাদের চেয়েও অনেক পারদর্শী কর্মচারী রয়েছে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে কর্মরত।
সূত্র জানায়, ধান্দাবাজ কর্মচারীদের দিয়ে নানাভাবে উপকৃত হন কতিপয় চিকিৎসক। অনেক সময় চিকিৎসককে না ডেকে ছোট খাটো কাজগুলো তারা নিজেরাই করে দেন। এতে করে ওই চিকিৎসকদের আর হাসপাতালে আসা লাগেনা। দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্রোপচার কক্ষে দায়িত্ব পালন করায় কতিপয় কর্মচারী ইচ্ছামত বাণিজ্য করার সুযোগ পাচ্ছেন। তারা শর্টস্লিপের মাধ্যমে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকার ওষুধ সামগ্রী লুফে নিচ্ছেন।
একাধিক রোগীর স্বজন জানান, অস্ত্রোপচার কক্ষে রোগী পাঠানোর পর চিকিৎসকের স্বাক্ষর বিহীন শর্ট স্লিপে ওষুধ কেনানো হয়। তারা বাধ্য হয়ে এসব ওষুধ সামগ্রী কিনে দিতে দেন। আগে ওষুধ সামগ্রী শেষ হয়ে গেছে কিনা জানতে চাইলেই কর্মচারীদের চোখ রাঙানি দেখতে হয়।
রোগীর স্বজন ফেরদৌস আহমেদ জানান, সম্প্রতি আলম নামে এক রোগীর পায়ে অপারেশন করা হয়েছে। অপারেশনের আগে প্রায় ৪ হাজার টাকার ওষুধ সামগ্রী কিনে দেয়া হয়। অপারেশ চলাচালিন অস্ত্রোপচার কক্ষ থেকে চিকিৎসকের স্বাক্ষর বিহীন একটি শর্ট স্লিপ দেয়া হয়। বলা হয় তাড়াতাড়ি এগুলো কিনে আনেন। স্লিপে লেখা ছিল ৪ টি প্লাস্টার, ২ টি সপ্টরোল, ২ টি ভিকরিল (সুতা), ১ টি প্যাথেডিন ও ১ টি হেক্সিসক্রাব। প্রায় ২ হাজার টাকার এসব ওষুধ সামগ্রী কিনে দিতে বাধ্য হন।
আরেক রোগীর স্বজন নাসিমা খাতুন জানান, অস্ত্রোপচার কক্ষে তার মাকে ঢোকানোর পর ভিতর থেকে আরো তিনটি শর্ট স্লিপ দেয়া হয় ওষুধ কিনে আনার জন্য। যে ওষুধ সামগ্রী অস্ত্রোপচারের আগেই কিনে দিয়েছিলেন। তারপরেও তাদের আবারো ৪টি সুতা ও ইনজেকশন কিনে আনতে বাধ্য করা হয়। তবে শর্ট স্লিপে কোন ডাক্তারের স্বাক্ষর না থাকায় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলেও কিছুই বলতে পারেননি।
অভিযোগ উঠেছে, এভাবে প্রতিদিন একাধিক রোগীর স্বজনের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকার ওষুধ হাতিয়ে নেয়া হয়। এসব ওষুধ কোথায় যায় যা নিয়েও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। কর্মচারীদের বাণিজ্যে কারণে চিকিৎসার জন্য আসা মানুষ সরকারি হাসপাতালের প্রতি আস্থা হারাচ্ছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত জানান, অস্ত্রোপচার কক্ষে চিকিৎসকের স্বাক্ষর বিহীন শর্ট স্লিপ না দিতে নির্দেশনা রয়েছে। যদি কোন কর্মচারী এই অনিয়ম করে থাকেন সেটা অবশ্যই অন্যায়। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থ্ াগ্রহণ করা হবে।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)