ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর , ২০২১ ● ১১ কার্তিক ১৪২৮

চৌগাছায় নামাজ পড়ার সময় মসজিদে মুসল্লিদের ওপর হামলা,আহত ১৫

Published : Monday 27-September-2021 21:14:49 pm
এখন সময়: মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর , ২০২১ ২০:২৫:৫৮ pm

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের চৌগাছায় মসজিদে নামাজ পড়া ও ইসলামী ফাউন্ডেশনের ব্লাকবোর্ড নিয়ে ইমামের সাথে দ্বন্দ্বের জেরে নামাজ পড়ার সময় মুসল্লিদের উপর হামলা করেছে প্রতিপক্ষরা। এ ঘটনায় নারী, মুক্তিযোদ্ধা, ইমামসহ উভয়পক্ষের ১৫ জন আহত হয়েছেন। রোববার মাগরিবের নামাজের সময় উপজেলার ধুলিয়ানী গ্রামের নতুন মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, ইমাম মোমিনুর রহমানকে সম্প্রতি নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে মসজিদে নামাজ পড়ানো থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। পরে বীর মুক্তিযোদ্ধা ছফির উদ্দিন জমি দিয়ে নতুন মসজিদ তৈরি করেন। সেই মসজিদে মোমিনুরকে ইমাম নিযুক্ত করা হলে তা নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয় মুসল্লিদের মধ্যে। এর মধ্যে শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পুরাতন মসজিদে থাকা ইসালামী ফাউন্ডেশনের শিশু শিক্ষাকেন্দ্রের একটি ব্লাকবোর্ড নতুন মসজিদে নিয়ে আসেন। এনিয়ে সকালে মোমিনুরকে মারপিট করে তার প্রতিপক্ষরা। বিকেলে তার প্রতিপক্ষদের মারপিট করে ইমাম মোমিনুর রহমানের পক্ষের লোকজন। এর জেরে মাগরিবের নামাজ পড়া অবস্থায় নতুন মসজিদে প্রবেশ করে ইমাম ও মুসল্লিদের চাপট দিয়ে কোপায় প্রতিপক্ষরা। এসময় নারীরা বাধা দিতে আসলে তাদেরকেও মারপিট করা হয়।

আহতরা হলেন, ধুলিয়ানী গ্রামের জান আলী (৪০), সামসুর রহমান (৫২), মোছাঃ জোসনা (৫৫), হাবিবুর রহমান (৬০), রফিকুল ইসলাম (৩৫), আসাদুল ইসলাম (৪৫) তার ছেলে আবু শামা (২৫), ইমাম মোমিনুর রহমান (৪৩), মোছাঃ রেখা (৩৫), মোছাঃ নয়নতারা (৪০), যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ছফির উদ্দিন (৭০), আল আমিন (৫২), মোছাঃ রাহাতন নেছা (৫০), তার ছেলে সাইফুল ইসলাম (২৬), ভারপ্রাপ্ত ইমাম  মাওলানা সাইফুল ইসলাম (১৮)।

চৌগাছা হাসপাতালে আহত ইমাম মোমিনুর রহমান বলেন, কিছু বিষয় নিয়ে তাদের সাথে বিরোধ রয়েছে। থানায় তাদের নামে অভিযোগও করেছি। আমি ইসলামী ফাউন্ডেশনের মসজিদ ভিত্তিক শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক। ওই মসজিদে শিক্ষা কেন্দ্রের ব্লাকবোর্ড ছিলো। কয়েকদিন আগে আমাদের উপজেলা সুপারভাইজার এসে আমাকে ব্লাকবোর্ডের বিষয়ে জানতে চান। আমি পুরাতন মসজিদের ইমামের সাথে কথা বলে শনিবার ছাত্র পাঠিয়ে ব্লাকবোর্ড নিয়ে আসি। একারণে রোববার সকালে ছাত্র পড়ানোর সময় গ্রামের শামসুল, নাসির, পিন্টুসহ কয়েকজন আমাকে মারপিট করে। তার জের ধরে সন্ধ্যায় তাদের সাথে বাকবিতণ্ডা হয়। আমরা মাগরিবের নামাজে দাঁড়ালে এসময় গ্রামের শামসুল, আশাদুল, আবুশামা, রফিকুলদের নেতৃত্বে আমাদের মারপিট করে আহত করে।

আহত নারী রাহাতন, নয়নতারা ও রেখা বলেন, গ্রামের মসজিদ আমরা তৈরি করেছিলাম। সেখান থেকে ইমাম মোমিনুরকে অপবাদ দিয়ে তাড়িয়ে দেয়ার পরে আরেকটা মসজিদ তৈরি করি। এখন নতুন মসজিদে বেশি মুসল্লি হচ্ছে বলে নামাজের সময় মুসল্লিসহ  আমাদের কুপিয়ে যখম করেছে।

অভিযুক্ত আবু শামার কাছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাননি।  হাসপাতালে ভর্তি আবুশামার বাবা আসাদুল ইসলাম বলেন, ইমাম মোমিনুরের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে। তাকে মসজিদ থেকে নামিয়ে দেয়া হয়। পরে আরেকটি মসজিদ করে মসজিদ থেকে ব্লাকবোর্ড নিয়ে যায়। ব্লাকবোর্ড নিয়ে যাওয়া নিয়ে সন্ধ্যায় আরো মারামারি হয়।

চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে এই ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে। তিনি আরও বলেন, কোন পক্ষই এখনও লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।



আরও খবর