ই-পেপার ফটোগ্যালারি আর্কাইভ মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল , ২০২১ ● ৩০ চৈত্র ১৪২৭

লকডাউনের প্রথম দিনে আমদানি ৩৫০ ট্রাক রফতানি ১২০ ট্রাক পণ্য

Published : Monday 05-April-2021 22:25:32 pm
এখন সময়: মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল , ২০২১ ০৭:৪৯:১১ am

নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনা সংক্রমণ রোধে লকডাউন ঘোষণার প্রথম দিনে সোমবার স্বাভাবিক ছিল বেনাপোল-পেট্টাপোল বন্দরের মধ্যে আমদানিরফতানি বাণিজ্য। এদিন আমদানি হয়েছে সাড়ে ৩শ’ ট্রাক পণ্য, এবং রফতানি হয়েছে ১২০ ট্রাক পন্য।

এছাড়া দুই দেশের মধ্যে শর্তসাপেক্ষে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে সচল রয়েছে পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত। তবে বেনাপোল বন্দর থেকে বন্ধ রয়েছে যাত্রীবাহী সব ধরনের গণপরিবহন সেবা। এতে পাসপোর্ট যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে।

গতকাল সকাল ৯টায় বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক মামুন কবীর তরফদার জানান, লকডাউনের মধ্যে স্বাভাবিক নিয়মে বন্দরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলছে। এছাড়া ট্রাক চালকরা আমদানি পণ্য নিয়ে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাচ্ছি। পাসপোর্ট যাত্রী যাতায়াত ও স্বাভাবিক রয়েছে জানান তিনি।

জানা যায়, হঠাৎ করে দেশে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুহার বেড়ে যাওয়ায় প্রতিরোধে সরকার ১৮টি প্রস্তাবনা জারি করেন। কিন্তু জনসাধারণের সচেতনতার অভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যু হার। অবশেষে বাধ্য হয়ে সরকার ৭ দিনের লকডাউন ঘোষণা করে। এতে গণপরিবহন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন  ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধের মধ্যে পড়ে। তবে দেশের শিল্প কলকারখানায় উৎপাদন ও সরবরাহ সচল রাখতে আমদানি ও রফতানি বাণিজ্য এবং পণ্য পরিবহন লকডাউনের আওতামুক্ত রাখা হয়।

এদিকে বন্দরের কার্যক্রমের পাশাপাশি বেনাপোল কাস্টমসের কার্যক্রমও স্বাভাবিক থাকবে বলে জানিয়েছেন বেনাপোল কাস্টমস কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা নাসিদুল হক। গতকাল সারাদিন কাস্টমস হাউজে পণ্য ছাড়করণে কাজ হয়েছে বলে তিনি জানান। আমদানি হয়েছে সাড়ে ৩শ’ ট্রাক পণ্য, এবং রফতানি হয়েছে ১২০ ট্রাক পণ্য।

বেনাপোল ট্রাক ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আজিম উদ্দীন গাজী জানান, লকডাউনের মধ্যে বন্দর থেকে পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অন্যান্য সময়ের মতে চালকরা মালামাল বহন করছেন। বন্দরে চলা ফেরার সময় চালকদের বিশেষ করে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

বেনাপোল বন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কলিমউদ্দীন বলেন, সব সংকট মুহূর্তে বন্দর সচল রাখতে শ্রমিকরা ঝুঁকি নিয়ে পণ্য খালাসের কাজ করে আসছে। লকডাউনের মধ্যেও শ্রমিকরা সংক্রমণ প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিয়ে পণ্য খালাস করেছেন।

বেনাপোল বন্দরের আমদানিরফতানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক বলেন, গত বছরে করোনার সময় আমদানিরফতানি বাণিজ্য বন্ধ হয়ে পড়ায় যেমন ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের লোকশানের মুখে পড়েছিল। প্রয়োজনীয় কাঁচা মালের অভাবে শিল্প কলকারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তবে এবার লকডাউনের মধ্যে বন্দর ও কাস্টমসের কার্যক্রম সচল রয়েছে। করোনাকে ভয় নয় সরকারি নির্দেশনা মেনে সচেতনতা বাড়িয়ে আমাদের পথ চলতে হবে জানান তিনি।

ভারত ফেরত যাত্রী অনিমেস জানান, চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন। সকালে দেশে ফিরেছেন। বেনাপোল থেকে ঢাকা যাওয়ার কোনো পরিবহন পাচ্ছেন না। খরচের টাকাও শেষ কোথায় থাকবেন কি খাবেন বেশ চিন্তায় পড়েছেন।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন ওসি আহসান হাবিব জানান, লকডাউনের মধ্যে এপথে শর্তসাপেক্ষে দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্ট ধারী যাত্রী যাতায়াত করছে। তবে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় যাত্রীর সংখ্যা অন্যান্য দিনের তুলনায় কম বলে জানান তিনি। বর্তমানে মেডিকেল, বিজনেস ও কুটনৈতিক ভিসায় যাতায়াত করছেন যাত্রীরা। ট্যুরিস্ট ভিসা এখন পর্যন্ত বন্ধ। বর্তমান করোনা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে ভারত ভ্রমণে প্রয়োজন হচ্ছে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কোভিড-১৯ নেগেটিভ সার্টিফিকেট। এছাড়া প্রয়োজন হবে ২০২০ সালের ১ জুলাইয়ের পর ইস্যুকৃত ভিসা। ভারতীয় পাসপোর্টধারীদের ক্ষেত্রেও একই নির্দেশনা জানান তিনি। 



আরও খবর