নতুন বছরের প্রথমদিন যশোরে ব্যবসায়ী খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক>
নতুন বছরের প্রথম দিনে যশোর শহরে জনসম্মুখে মটর যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ী মহিদুল ইসলাম শাফা (৩৭) খুন হয়েছেন। মোটরসাইকেল থেকে নামার সাথে সাথেই আকস্মিকভাবে তার গলায় ছুরি চালিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল মঙ্গলবার রাতে শহরের ঈদগাহের পূর্বপাশে মুজিব সড়কের মাসুদ কম্পিউটার দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মহিদুল ইসলাম শাফা বেনাপোলের ধান্যখোলা গ্রামের নবিছ উদ্দিন মোড়লের ছেলে। বর্তমানে তিনি স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে যশোর শহরের বারান্দী খালধার রোডের একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন।
মহিদুল ইসলাম শাফার কর্মচারী বেজপাড়ার বাসিন্দা মোতালেব হোসেন টুটুল জানান, শাফার আর এন রোডে এইচ এন ইমপোর্টস নামে মটর যন্ত্রাংশের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ভারত থেকে মটরযন্ত্রাংশ আমদানি করে তিনি যশোরে পাইকারি ব্যবসা করেন। মঙ্গলবার রাতে শাফা তাকে মোবাইল ফোন করে বাড়ি থেকে ব্যবসার কিছু কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলেন। তিনি কাগজপত্র নিয়ে আসার পর খালধার রোডের জনৈক মুকুলের দোকানে শাফার সাথে দেখা করেন। এখানে দুইজনে চা পান করেন। এরপর কম্পিউটারে কিছু কাজ করার জন্য শাফা এবং তিনি মোটরসাইকেলে করে ঈদগাহের পূর্ব গেটের সামনে পরিচিত মাসুদের কম্পিউটারের দোকানের সামনে নামতে যান। মোটরসাইকেল তিনিই চালিয়ে নিয়ে আসেন। পেছনে বসেছিলেন শাফা। কিন্তু মোটরসাইকেল থেকে নামতে না নামতেই পেছনে বসা শাফা চিৎকার করে বলেন, ‘কে যেন আমার গলায় ছুরি মেরে দিয়েছে’। এই বলে তিনি গলা ধরে মাটিতে বসে পড়েন। এই সময় দুটি ছেলেকে সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখা যায়। মোতালেব হোসেন টুটুল আরো জানান, সাথে সাথে শাফাকে উদ্ধার করে রিকশায় করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রাত পৌনে ৭টার দিকে গলায় ছুরি বসানো ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। এরপর ৭টা ৫ মিনিটের দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সার্জারী ওয়ার্ডে দায়িত্বরত চিকিৎসক মাসুদুর রহমান মাসুদ জানান, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার গলার শ্বাসনালী কেটে গেছে। যে কারণে তার মৃত্যু হতে পারে।
https://www.facebook.com/sajed.rahman.5/videos/10218698511082610/যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই খালেদুর রহমান জানান, ব্যবসায়ী মহিদুল ইসলাম শাফাকে গলাকেটে খুনের খবরটি শুনে তিনি তাৎক্ষনিকভাবে হাসপাতালে আসেন। এখনো খুনের রহস্য জানা যায়নি। তবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। কেননা ঘটনার আগে ওই ব্যবসায়ী যে ঈদগাহ মোড়ে আসবেন সেই তথ্য দুর্বৃত্তরা জানলো কিভাবে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। তবে ব্যবসায়ীক জেরে এই খুনের ঘটনাটি হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে খবর পেয়ে ছোট কন্যাসন্তানকে সাথে নিয়ে হাসপাতালে ছুটে যান নিহত ব্যবসায়ী মহিদুল ইসলাম শাফার স্ত্রী। স্বামীর লাশ দেখে তিনি আহাজারি করতে থাকেন। কিন্তু তার স্বামী যে মারা গেছে এ বিশ্বাস যেন করতে পারছিলেন না।