কারা হচ্ছেন মন্ত্রী

এই তিন সপ্তাহে নির্বাচনের কারণে মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক কার্ক্রমও ব্যাহত হয়েছে!

গেল ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। ইতোমধ্যে নির্বাচিতদের নামের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ বাক্য পাঠ করা হবে। এরপরই বিধি অনুসারে গঠিত হবে নতুন মন্ত্রিপরিষদ।

এখন মন্ত্রিপরিষদে কারা জায়গা পাচ্ছেন, এ নিয়ে গোটা সচিবালয় জুড়ে চলছে নানা গুঞ্জন। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাঝে এ নিয়ে শুরু হয়েছে নানা কল্পনা জল্পনা।

কে হচ্ছেন মন্ত্রী? যিনি আছেন তিনিই? নাকি অন্য কেউ? আর অন্য কেউ হলে কে হতে পারেন সেই ব্যক্তি? এমন সব নানা প্রশ্ন। কোনো কোনো মন্ত্রণালয়ের ক্ষেত্রে কেউ বলছেন, যিনি প্রতিমন্ত্রী আছেন তিনিই হচ্ছেন এবার মন্ত্রী!

আবার কেউ বলছেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্যে যোগ্য কেউ কেউ নিতে পারেন কিছু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। গুঞ্জন উঠেছে পরিবর্তন হতে পারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী। আবার কেউ বলছেন, অর্থমন্ত্রী হচ্ছেন বর্তমানে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করা লোটাস কামাল। তাহলে পরিকল্পনামন্ত্রীর দায়িত্ব কে পাচ্ছেন তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।

বিষয়টি নিয়ে সচিবালয়ে জ্যেষ্ঠ কিছু সাংবাদিকের মধ্যে চলা আলোচনায় অংশ নিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইন মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, কিছু বলা যাচ্ছে না। এবার আইনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক স ম রেজাউল করিম।

যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে পারেন বলে আলোচনায় উঠে এসেছে জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজার নাম। আবার অনেকে বলছেন, পরিবর্তন হতে পারেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর মন্ত্রণালয়ও।

মঙ্গলবার সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেন, সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে শুভেচ্ছা জানিয়ে এসেছি। সেখানে আমাকে এই মন্ত্রণালয়ে রাখা হচ্ছে কিনা, সে বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। কে মন্ত্রী হবেন, তা প্রধানমন্ত্রীই সিদ্ধান্ত নিবেন।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাকে মন্ত্রী সবকিছু গুটিয়ে নিতে বলেছেন, ফলে কী হতে চলেছে তা এখনই পরিষ্কার করে বলা যাচ্ছে না।

তবে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী এক পর্যায়ে ফান করে বলেছেন, আগে ৪০ জনকে নিয়ে মিটিং করলে দুইজনও বিষয়গুলো জানতো না। এখন দুইজনকে নিয়ে মিটিং করলে ৪০ জন জেনে যায়। এজন্য তিনি খোলামেলা কারও সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে কথাও বলছেন না। তাই মন্ত্রিসভার পরিধি ও ব্যক্তির নামের বিষয়ে পরিষ্কার করে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় এক নেতা বলেন, আগে প্রধানমন্ত্রী কিছু বিষয় মতিয়া আপার (কৃষিমন্ত্রী) সঙ্গে শেয়ার করতেন। কিন্তু মতিয়া আপা অসুস্থতার কারণে তার সঙ্গেও বিষয়গুলো নিয়ে এখন আর কথা বলেন না। তাই এ ধরনের বিষয়গুলো নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাইরে আর কেউ সেভাবে পরিষ্কার করে বলতে পারছেন না যে, আদৌ মন্ত্রিসভায় কে কে স্থান পাচ্ছেন।

বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ বিষয়ে পরিষ্কার কোনো বক্তব্য দেননি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, কেবিনেট কেমন হবে বিষয়টি একান্তই প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব বিষয়।

পরিসর বড় হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিজয় যেহেতু বড়, ফলে প্রত্যাশাও অনেক বড়। কি হবে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে মন্ত্রিপরিষদ কোন দিন গঠিত হতে যাচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে কোনো কথা বলতে রাজি হননি মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।

তবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামী ১০ জানুয়ারির মধ্যেই গঠিত হবে একাদশ জাতীয় সংসদের নতুন মন্ত্রিপরিষদ।