শেখ হাসিনার সামনে কঠিন পথ

বাস্তবে গুড গভর্নেন্সের কোনও দিগন্ত রেখা নেই। কখনই এর সীমারেখা টানা যাবে না। একটা পর্যায় অবধি বাস্তবায়ন করলে তখন দেখা যাবে দিগন্ত রেখাটি আরও সামনে চলে গেছে। যেমন যে সব দেশে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বয়স চারশ’ বছর, পাঁচশ’ বছর তারাও কিন্তু এখনও শতভাগ গুড গভর্নেন্স দিতে পারেনি। তবে যা দিয়েছে তা অনেক।

শেখ হাসিনা তার নির্বাচনী ইশতেহারে অনেক পর্যায়ে ভাগ করে বলেছেন, কোন পর্যায়ে তিনি দেশকে কোথায় নিয়ে যেতে চান। তারপরেও তাকে নির্বাচনোত্তরকালে জনগণকে বলতে হবে, সেটা জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে হোক আর পার্লামেন্টের মাধ্যমে হোক, তিনি আগামী পাঁচ বছর কিভাবে কতটা ভাল সরকারী ব্যবস্থাপনা দেশের জন্য নিশ্চিত করবেন। যাতে করে জনগণ সেটা হিসাব করতে পারে। তার এই রোড ম্যাপ ও তার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবে সঠিক বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা, সেটা রেগুলার মনিটর করা প্রয়োজন। এ কাজ প্রাতিষ্ঠানিকভাবেই হওয়া দরকার।

গত দশ বছরে প্রধানমন্ত্রীর অনেক উপদেষ্টা কাজ করেছেন। সব উপদেষ্টার কাজ কিন্তু দৃশ্যমান নয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও উপদেষ্টার ভেতর সম্পর্কের টানাপড়েনের কারণে উপদেষ্টা ওইভাবে কোনও কাজ করতে পারেননি। এটা যেমন একটা দিক, তেমনি অন্তত একজন উপদেষ্টা থাকা দরকার যিনি অভিজ্ঞ, রাষ্ট্র বোঝেন, প্রশাসন বোঝেন- তার দায়িত্বের মধ্যে এটা থাকবে, নির্দিষ্ট সময়ের পর পর তিনি যেন সার্বিক মনিটর করেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহার কতটুকু বাস্তবায়িত হচ্ছে। আর সেটা প্রধানমন্ত্রীকে নিয়মিত ব্রিফ করেন। তবে তাকে থাকতে হবে মিডিয়ার অন্তরালে নিভৃতচারী হিসেবে। কারণ, প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই গত দশ বছরে লক্ষ্য করেছেন, তার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত ব্যক্তি ও মন্ত্রীর অতি কথনে, মিডিয়ায় নিজেদের প্রচারে ব্যস্ত থাকায় মূল কাজ করতে পারেননি, এমনকি নিজের কাজটি বোঝারও সময় পাননি। তাই নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা এটা যিনি মনিটর করবেন, তিনি যদি প্রচার পাগল হন তাহলে তিনি একাই গোটা সরকারকে ডোবানোর জন্য যথেষ্ট হবেন।

নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন সঠিক পথে এগোলে যেমন গুড গভর্নেন্স অনেকখানি স্বাভাবিকভাবে বাস্তবায়িত হবে, তেমনি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের ভেতর সীমারেখা। গত দশ বছরে অনেক জনপ্রতিনিধির ক্ষেত্রে দেখা গেছে তারা প্রশাসনের নিয়মিত উন্নয়ন কাজসহ নানান কাজে অনেক বেশি হস্তক্ষেপ করেছেন। এখানে একটি সুস্পষ্ট সীমারেখা তৈরি করতে হবে। যে প্রশাসন কতদূর যাবে, আর জনপ্রতিনিধি কতদূর যাবেন? এই দুইয়ের সীমারেখা নির্দিষ্ট থাকলে এবং দুইয়ের ভেতর কলিশন না হলে স্বাভাবিকভাবে সরকারে একটি ভাল ব্যবস্থাপনা আসবে।

মনে হবে এই সীমারেখা নির্দিষ্ট করা খুব সহজ। বাস্তবে তা নয়। গত দশ বছরের ধারাবাহিকতা ও এবারের নির্বাচনের ফল দুইই বিষয়টিকে আরও জটিল করেছে। কারণ, গত দশ বছর প্রশাসন নিবেদিতভাবে শেখ হাসিনার সরকার ও শেখ হাসিনার জন্য সকল কাজ করেছে। তাই প্রশাসন স্বাভাবিকই মনে করতে পারে এই সরকারে তাদের হাত বেশ বড়। অন্যদিকে শেখ হাসিনা এবার বিশাল মেজরিটি পেয়েছেন। জনপ্রতিনিধিরা সকলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। স্বাভাবিক, তারা একটু বেশি আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে পড়তে পারেন। এই দুই-ই অর্থাৎ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধি যাতে নিজেকে সংযত রাখে, সে বিষয়টি শেখ হাসিনাকেই নিশ্চিত করতে হবে। এখানে কোনও কলিশন মানেই কিন্তু তার সামনের দিনে বড় পথে এগিয়ে যাবার ক্ষেত্রে একটি অনেক বড় কাঁটা। এ কাঁটা যাতে তাঁর পথে না পড়তে পারে, সেটা তাকে শুরুতেই নিশ্চিত করতে হবে।

এই কাঁটার মতো আরেকটি কাঁটা আছে তার দলের লোকজনকে নিয়ে। গত দশ বছরে আওয়ামী লীগের সংগঠনের সব নেতা-কর্মী কিন্তু মানুষের সঙ্গে শতভাগ ভাল ব্যবহার করেনি। অনেক নেতা তাদের কর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন। অনেক কর্মী খারাপ ব্যবহার করেছেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে। এখানে একটি বিষয় মনে রাখা দরকার, সাধারণ মানুষ কিন্তু সিংহ দেখে না, সে ইঁদুরের মতো বিড়ালকেই সিংহ মনে করে। তাই সাধারণ মানুষের কাছে আওয়ামী লীগ, শেখ হাসিনা ও সরকার বলতে তার সামনের আওয়ামী লীগের ওই ছোট নেতা বা কর্মী। ওর ব্যবহারই তার কাছে সরকারের ব্যবহার। তার কাছে ওটাই শেখ হাসিনার ব্যবহার।

যেমন, গত দশ বছরে প্রায় সব নিয়োগ শেখ হাসিনার সরকার কম্পিউটারাইজড করে ফেলেছেন। সেখানে বাস্তবে তদবিরের কোনও জায়গা নেই। কিন্তু সারাদেশে এক শ্রেণির আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা নিয়োগ বাণিজ্য করেছে। তাদের নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে বাস্তবে শেখ হাসিনার গত দশ বছরের নিয়োগের কোনও যোগ ছিল না। নিয়োগ মেধা অনুযায়ীই হয়েছে। অথচ ওই ইঁদুরটির কাছ থেকে তার সামনের বিড়ালটি যে পাঁচ লাখ টাকা নিয়েছে বা এক লাখ টাকা নিয়েছে, তার দায় গিয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগের ওপর। শেখ হাসিনার ওপর। নির্বাচনে এর প্রভাব না পড়ার একমাত্র কারণ শেখ হাসিনার ৭০ শতাংশ জনপ্রিয়তা নৌকায় কনভার্ট হওয়া।

মানুষ শেখ হাসিনাকে ভোট দিয়েছে। তাছাড়া নির্বাচনের আগে একমাত্র শেখ হাসিনাই ভুলত্রুটির জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, যারা পেট্রোল বোমা দিয়ে মানুষ মেরেছিল, তারা ক্ষমা চায়নি। তাই ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তার সুফল শেখ হাসিনা পেয়েছেন। এখন তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই বিশাল বিজয়ের পরে তার নেতা-কর্মীরা যেন হৃদয়ের বিশালত্ব নিয়ে বিনয়ী হয়। যেন ঔদ্ধত্যপূর্ণ না হয়ে ওঠে। লোভী না হয়ে ওঠে। এ বিষয়টি মনিটর করার জন্য দলের ভেতর সৎলোকদের নিয়ে একটি বিশেষ সেল গঠন করা দরকার। যাদের দায়িত্ব হবে সারাদেশে নজর রাখা, যাতে আওয়ামী লীগ নেতারা অন্যের জমি, মাছ চাষের ক্ষেত্র, ব্যবসা ক্ষেত্র ও বাড়িঘর দখল না করে। তারা যেন বাসস্ট্যান্ড, অটোরিক্সা স্ট্যান্ড, রিক্সা স্ট্যান্ড এগুলো দখল করে চাঁদাবাজি না করে। পার্টির ওই সেলকে সারাদেশে মনিটর করতে হবে।

কোথাও কোনও নেতার ছত্রছায়ায় এ ধরনের ঘটনা ঘটলে সেটা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ, এখনও এ দেশের রাজনৈতিক দলের কর্মীদের ও নেতাদের একাংশের মনোভাব হলো, পার্টি ক্ষমতায় গেলে এভাবে চাঁদাবাজি করতে হয়। তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকেও চাঁদা নেয়। এমনকি ছোট ছোট দোকান থেকেও চাঁদা নেয়। এদের যেমন মনিটর করতে হবে, তেমনি পাশাপাশি এদেরকে মোটিভেট করতে হবে। তাদেরকে একটি সুস্থ আয়ের ধারায়, অর্থাৎ নানান ছোট ছোট ব্যবসা ও কাজে নিয়োজিত হবার পথ করে দিতে হবে। বাস্তবে রাজনৈতিক কর্মীদের সুস্থ ও সুষ্ঠু জীবনের ধারায় নিয়ে আসতে হবে। এ কাজ যদি শেখ হাসিনা না করতে পারেন, যদি তার কর্মী ও নেতারা এই বড় বিজয়কে বড় দায়িত্ব বলে উপলব্ধি করতে না পারেন, তা হলে শেখ হাসিনার পথ সারাদেশে কাঁটায় ভরিয়ে দেবেন ওই নেতা-কর্মীরাই।

এরপরে মনে রাখা দরকার, এদেশ ‘বারো ভুঁইয়া’র দেশ। বঙ্গবন্ধু প্রথম এই বাংলাদেশকে একটি আধুনিক আলাদা রাষ্ট্র ও একটি একক জাতিতে রূপান্তরিত করেন। বঙ্গবন্ধু এ কাজটি করেছিলেন তার নিজের ক্যারিশমা দিয়ে। কিন্তু মনে রাখা দরকার, আমাদের চরিত্রে সেই ‘বারো ভুইয়া’ চরিত্র রয়ে গেছে। এবারের এই বিপুল ভোটে পাশ করা এমপিরা যেন কোনমতেই নিজ নিজ এলাকার একেক জন ‘ভুঁইয়া’ না হয়ে বসেন। সেটা দল এবং শেখ হাসিনাকে মনিটর করতে হবে। কারণ, টানা তিনবার শেখ হাসিনা তার নিজস্ব ক্যারিশমা ও কাজের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় এনেছেন। সবার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলতে চাই- একথা মনে রাখতে হবে, শেখ হাসিনার আগে কখনও আওয়ামী লীগ সরকার পাঁচ বছর টানা মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেনি। আর সেখানে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় এসেছেন শেখ হাসিনা। আবার যারা এমপি হয়েছেন তারা যতটা না নিজের জনপ্রিয়তায় হয়েছেন, তার থেকে বেশি শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তায় হয়েছেন। তাই তারা যদি একেক জন ‘ভুঁইয়া’ হয়ে যান, তাহলে সেটা হবে শেখ হাসিনার এগিয়ে চলার পথে পথে কাঁটা বিছানো। গত দশ বছরে অনেকেই কিন্তু ভুঁইয়ার আচরণ করেছেন। মানুষ জামায়াত-বিএনপির সন্ত্রাস ও পেট্রোল বোমার ভয়ে সেগুলো সহ্য করেছে। এবার জামায়াত-বিএনপি ওই অর্থে নেই। দেশও শতভাগ না হোক আশিভাগ খালেদা ও তারেক মুক্ত। তাই এ অবস্থায় কোন এমপি যদি ভুঁইয়ার আচরণ করেন, তাহলে মানুষ কিন্তু তা সহ্য করবে না। আর সাধারণ মানুষের শক্তি জামায়াত বিএনপির থেকে সহস্রগুণ বেশি।

এ ছাড়া শেখ হাসিনা নিজেই একটি কঠিন কঠোর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন। তা হলো দুর্নীতির প্রতি জিরো টলারেন্স। পৃথিবীতে কোন দেশই শতভাগ দুর্নীতি দমন করতে পারেনি। তাছাড়া বুর্জোয়া অর্থনীতিতে শতভাগ দুর্নীতি দমন করা পাঁচ বছর বা দশ বছরের বিষয় নয়। এর জন্য একের পর এক সিস্টেম দাঁড় করানো দরকার। যেমন, পার্শ্ব রাষ্ট্র ভারতে রাজীব গান্ধী প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন কমিশন বাণিজ্যের টাকাকে কালো টাকার বদলে সাদা টাকা করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত নিজেই কথিত ‘বোফর্স’ কেলেঙ্কারির মুখে পড়ে যান। তাই এ এক কঠিন ও কঠোর পথ। এখানে বাস্তবতা হলো ‘জিরো টলারেন্স’, যা শেখ হাসিনা বলেছেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রকৃত জিরো টলারেন্স নীতি থাকতে হবে, আবার ১/১১ সরকারের মতো তথাকথিত কঠোর হতে গিয়ে অর্থনীতির গতি যেন থমকে না যায়, সেটাও দেখতে হবে।

যতদূর বুঝি, তাতে দেখতে পাই শেখ হাসিনার অর্থনীতি সমাজকল্যাণ অর্থনীতি ও ক্যাপিটালাইজমের একটি মিলনের অর্থনীতি। এখানে প্রথমেই তাকে সর্বোচ্চ মনিটরে আনতে হবে অর্থনীতির সমাজকল্যাণের অংশটুকু যেন কোনওমতেই দুর্নীতির হাতে না পড়ে। কারণ, এর সুফল সরাসরি ভোগ করে সাধারণ মানুষ। অন্যদিকে ক্যাপিটাল অর্থনীতিকে লুটেরা, বিদেশে টাকা পাচারকারীদের হাত থেকে এনে প্রকৃত বিনিয়োগকারীদের হাতে দিতে হবে। যাতে করে অর্থ যেভাবেই হোক দেশে বিনিয়োগ হয়। দেশে বিনিয়োগ হলেই ক্যাপিটালাইজমের নিয়ম অনুযায়ী তার সুফল দেশ পাবে। অর্থাৎ, একদিকে যেমন কর্মসংস্থান হবে, অন্যদিকে উৎপাদন ও অবকাঠামো হবে। শেখ হাসিনা অভিজ্ঞ রাষ্ট্রনায়ক, তাই তিনি যথার্থ কমিটমেন্ট করেছেন জাতির কাছে- দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। সেটা কার্যকর হলে অর্থনীতি তার স্বাভাবিক গতিতে চলবে। এখানে অবশ্য খুব সাবধানে পা ফেলাই কাম্য। অতি উৎসাহীরা যেন ভাল সরকার তৈরি করতে গিয়ে ১/১১ এর মতো কঠোর সরকার তৈরি করে না ফেলে।

একটা বিষয় মনে রাখা দরকার, পুঁজি গঠন ও পুঁজি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমরা নতুন। পাশাপাশি আমাদের অধিকাংশ অর্থনীতিবিদের মাথায় ষাটের দশকের সমাজতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রিত অর্থনীতি। তাদের কাছে বুর্জোয়া অর্থনীতির অনেক কিছুই অনিয়ম বলে মনে হয়। এখানে রাষ্ট্র পরিচালকদের রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের সেই রাজহাঁসের মতো পানি মেশানো দুধের ভেতর থেকে দুধ ও পানি ভাগ করে পানের যোগ্যতা দেখাতে হবে। পাশাপাশি পার্থক্য বুঝতে হবে ভাল সরকার ও কঠোর সরকারের। বর্তমান পৃথিবী ভাল সরকার চায়। চায় উন্নয়ন, উন্নত জীবন।
সর্বোপরি, শেখ হাসিনার সামনে এখনও রয়েছে জাতি গঠনের কাজ। দেশের বয়স ৫০ হতে চলেছে। এখন আর জাতির ভেতর কোনও বিভক্তি, জাতীয় প্রশ্নে কোনও অনৈক্য থাকতে পারে না। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার পর পরই এ কাজে হাত দিয়েছিলেন। জিয়া এসে জাতিকে বিভক্ত করে রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকার সুবিধা নেয়। ওই ধারাটি এখনও সেই কাজ করে চলেছে। এখান থেকে জাতিকে বের করে ঐক্য ও মিলনের সুরে বাঁধতে পারেন একমাত্র শেখ হাসিনা। নেতা হিসেবে তিনি সেই উচ্চতায় পৌঁছেছেন। তাই জাতি গঠনের গুরুভারও তার কাঁধে।